ট্রাম্প, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা,

নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় দুর্ভিক্ষ অবসানের আহ্বানে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো

জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য গাজা উপত্যকায় চলমান দুর্ভিক্ষের অবসান ও যুদ্ধবিরতির পক্ষে একযোগে আহ্বান জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ঐক্যমত থেকে সরে দাঁড়িয়ে ইসরাইলের সামরিক অবস্থানকে সমর্থন করেছে।

বুধবার মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক বৈঠকের পর পরিষদের সদস্যরা এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন। এতে গাজায় জাতিসংঘ ঘোষিত দুর্ভিক্ষ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে অনাহার ব্যবহার নিষিদ্ধ। বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, প্রায় ৪১ হাজার শিশু মারাত্মক অপুষ্টির কারণে মৃত্যঝুঁকিতে রয়েছে।

এছাড়া বিবৃতিতে “অবিলম্বে, নিঃশর্ত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি” প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের হাতে আটক ইসরাইলি বন্দিদের মুক্তির দাবি জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকৃতি

অন্যদিকে, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের পদক্ষেপকে সমর্থন জানায়। মার্কিন প্রতিনিধি বলেন, তাদের দেশ গাজায় “মিথ্যা অনাহার নীতি” কথাটি প্রত্যাখ্যান করছে এবং জাতিসংঘ-সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (IPC) রিপোর্টকে আক্রমণ করে জানান যে এটি “পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।” তবে তিনি স্বীকার করেন, গাজায় ক্ষুধা একটি বাস্তব সমস্যা এবং মানবিক চাহিদা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

গত শুক্রবার আইপিসি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে, গাজায় দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমানে অর্ধ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ক্ষুধার্ত অবস্থায় আছে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এটি দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনুসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সামরিক অভিযানের সমান্তরালে সংকট

এ ঘোষণার সময় ইসরাইলি সেনারা গাজা শহরের ভেতরে সামরিক অভিযান জোরদার করে। টানা দুই সপ্তাহ ধরে শুজাইয়া, জেইতুন, সাবরা এবং জাবালিয়া শরণার্থী ক্যাম্পসহ বিভিন্ন এলাকায় বোমাবর্ষণ, ধ্বংসযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতি চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে, গাজায় হত্যাযজ্ঞ, অনাহার, অবকাঠামো ধ্বংস ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি চালিয়ে আসছে। এতে আন্তর্জাতিক আদালতের যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আদেশও উপেক্ষিত হয়েছে।

নিহতের সংখ্যা

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৫৮ হাজার আহত হয়েছেন। শুধুমাত্র অনাহারে মারা গেছেন অন্তত ৩১৩ জন, এর মধ্যে ১১৯ জন শিশু।

সূত্র : আল জাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top