নির্বাচন, রিজভী, তারেক রহমান, নির্বাচন নিয়ে ভেতরে ভেতরে গভীর ষড়যন্ত্র, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য

নির্বাচন নিয়ে ভেতরে ভেতরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে : রিজভী

অনলাইন প্রতিবেদক

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘ভোটকেন্দ্র আবার ভোটারের পদধ্বনিতে মুখরিত হবে। এইটা আমরা চাই। সেজন্যই এত কিছু। তাহলে ভোট কেন পেছাবে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেন কথা উঠেছে? এটা আজ গোটা জাতির প্রশ্ন। তাহলে কি নির্বাচন নিয়ে ভেতরে ভেতরে কোনো ষড়যন্ত্র চলছে; এটা তো হতেই পারে না।

আজ নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ তিনি এ অভিযোগ করেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং স্লোগান দেয়ার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করে কৃষকদল।

রিজভী বলেন, ‘আমরা বলেছি, সংস্কার চাই; যৌক্তিক সময় নির্বাচন দিন। সেজন্য একটা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিন; বেশি প্রলম্বিত করবেন না।’

‘লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক হলো; বৈঠক থেকে একটা যুক্ত বিবৃতি এলো। দেশের মানুষ স্বস্তি বোধ করল। কিন্তু এই স্বস্তি আমার মনে হয় কেউ কেউ চাচ্ছেন না। তারপরই সারাদেশে শুরু হলো সঙ্ঘাত ও রক্তাক্ত পরিস্থিতি!’ কেন- প্রশ্ন তোলেন তিনি।

‘মিটফোর্ডে এ ঘটনায় সাথে সাথে বিএনপি নিন্দা জানিয়েছে। এটার সাথে জড়িতদেরকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে। সাথে সাথে চেয়ারম্যানের বিবৃতি মহাসচিবের বিবৃতিসহ নিন্দা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তারা যেখানেই থাকুক যে অবস্থায় থাকুক।’

‘নারায়ণগঞ্জের মাফিয়া গডফাদার আর কক্সবাজারে গডফাদারের জন্য শেখ হাসিনা পার্লামেন্টে তাদের পক্ষে কথা বলতেন। আর দলের নামে কেউ যদি চাঁদাবাজি করেছে, কেউ যদি অন্যায় করেছে, তাহলে সাংগঠনিক শাস্তি ব্যবস্থা হচ্ছে- কেউ বহিষ্কার হচ্ছেন, কারো পদ স্থগতি হচ্ছে অথবা আমরা নিজেরাই পুলিশকে বলছি, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে অথবা নিজেরাও মামলা দিচ্ছে- এটাই তো তারেক রহমান। আর সেই তার বিরুদ্ধেই মিটফোর্ডের ঘটনায় কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিচ্ছেন? প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই মুখপাত্র।

রিজভী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছয়-সাত বছর ভয়ঙ্কর নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘরের মধ্যে যেখানে নিঃশ্বাস নেয়া যায় না; সেই ঘরের মধ্যে বন্দি করে রাখল শেখ হাসিনা। গোটা জাতি যার প্রতি সহানুভূতিশীল। অথচ তার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ কথা বলছেন!

তিনি বলেন, তারেক রহমানকে ছাদের ওপর থেকে ফেলে দিলো, কোমর ভেঙ্গে ফেলা হলো ১/১১ সময়। নিপীড়িত নির্যাতনের এক প্রতীক হচ্ছে তারেক রহমান। তার বিরুদ্ধে মিছিল ও ফেসবুকে সামাজিক গণমাধ্যমে বিভিন্ন কন্টেন্ট তৈরি করে আজেবাজে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলা হচ্ছে; তাহলে যে খুলনায় বিএনপির এক যুবককে গুলি করার পর তার পায়ের রগ কেটে দিলো এবং কক্সবাজারে বিএনপি কর্মী আব্দুর রহিমকে হত্যা করল জামায়াত, সেটা নিয়ে কথা হচ্ছে না কেন?

সবসময় যেকোনো হত্যাকাণ্ড ঘটলেই সরকারকে অভিযোগ করে এমন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, আইন শৃঙ্খলার জন্য দায় দায়িত্ব সরকারের। অথচ তাকে কিছু বললেন না। প্রশাসনকে কিছু বললেন না। উল্টো মিছিল করছেন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে, যিনি ১৭-১৮ বছর লন্ডনে রয়েছেন। যিনি নিজেই শেখ হাসিনার নিপীড়িন-নির্যাতনের শিকার।

‘ছয়-সাত বছরের নেতৃত্ব দিয়ে গণতন্ত্রের বিজয়কে নিশ্চিত করেছেন তারেক রহমান’ জানিয়ে রিজভী বলেন, সাহস আর আত্মবিশ্বাসের প্রতীক তারেক রহমান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top