টুডেনিউজ বিডি ডটনেট
পরমাণু চুক্তির পুনর্জাগরণে ওমানে মুখোমুখি হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের গ্রীষ্মে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার একটি বিলাসবহুল হোটেলের বাইরে আন্তর্জাতিক নানা গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় জমেছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল, জটিল ও অত্যন্ত সংবেদনশীল পরমাণু চুক্তির শেষ ধাপে অংশ নেয়া কূটনীতিকদের এক ঝলক দেখা। কিন্তু পরে জানা যায়, এই ঐতিহাসিক চুক্তির সূচনা হয় তারো দুই বছরের বেশি আগে, উপসাগরীয় রাষ্ট্র ওমানে অনুষ্ঠিত একাধিক গোপন বৈঠকের মাধ্যমে।
সেই ওমানেই এবার আবারো ফিরে এসেছেন ইরানি ও মার্কিন আলোচকরা। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়ার পর ভেঙে যাওয়া আলোচনাকে নতুন করে সচল করার প্রয়াসে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনাগুলো সরাসরি হবে এবং উভয় পক্ষ মুখোমুখি বসবে। তবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমাদের সরাসরি আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই।’
ওমানে ইরানের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আরাঘচি নিজেই। পারমাণবিক আলোচনায় তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ইতোপূর্বে ইরানের প্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১২ বছর আগে মাস্কাটে অনুষ্ঠিত গোপন বৈঠকেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন স্টিভ উইটকফ। তিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাকে এর আগে গাজা যুদ্ধবিরতির আলোচনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, পরে যুক্ত করা হয় ইউক্রেন-রাশিয়াবিষয়ক আলোচনায়। এবার তার কাঁধে যুক্ত হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনার জটিল দায়িত্ব।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ওমানে অনুষ্ঠিত এই প্রাথমিক বৈঠক থেকে বেশি প্রত্যাশা করা উচিত নয়। তবে তারা একমত যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আলোচনা যেন পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে এবং একটি টেকসই ও গঠনমূলক প্রক্রিয়ার সূচনা হয়।
সূত্র : আল জাজিরা




