ইফতেখার সিফাত
পর্দা আসলে নিছক কোন পোশাক বা স্টাইল নয়। এটা একটা আদর্শ ও চেতনা। যেই আদর্শ ও চেতনা সেকুলার ও লিবারেল চিন্তাকে হুমকিতে ফেলে। এজন্য সেকুলার ও লিবারেলরা বোরকাকে মন থেকে সহ্য করতে পারে না।
দেখুন, সেকুলার লিবারেল চিন্তা কি? এর ফান্ডামেন্টাল চিন্তা হল, মানুষ ওহীর বন্ধন বা কর্তৃত্ব থেকে স্বাধীন। দেখবেন এরা শ্লোগান দেয়, আমার দেহ, আমার পোশাক। মাই বডি মাই চয়েজ।
কিন্তু বিপরীতে ইসলাম কি বলে? ইসলাম বলে মানুষকে আল্লাহ তার দাসত্বের জন্য সৃষ্টি করছেন। মানুষ কখনোই আল্লাহর ওহীর বন্ধন ও দাসত্ব থেকে স্বাধীন নয়। সে রবের গোলাম।
আমাদের দেহটা আমাদের নিজের না। এটা আল্লাহ দেয়া নেয়ামত। এখানে আমার নিজস্ব চয়েজ নয়, আল্লাহর চয়েজই বাস্তবায়িত হবে। আল্লাহ ও তার রাসুলের চয়েজের বাইরে বা বিরুদ্ধে গিয়ে আমার কোন চয়েজ নেই।
এটাই তো আত্মসমর্পণ। আর আল্লাহর চয়েজের কাছে আমাদের সর্বস্বকে আত্মসমর্পণের স্বীকৃতি দিয়েই আমরা মুসলিম হয়েছি। মুসলিম নামের অর্থই আত্মসমর্পণকারী। কার কাছে, আল্লাহ ও তার শরীয়ার কাছে। যদি অন্তরে ও প্রকাশ্যে এই আত্মসমর্পণ না থাকে, তবে আসলে আমি মুসলিম হতে পারিনি।
পর্দাটা মূলত কি? আমাদের দেহ ও চলাফেরায় আল্লাহর চয়েজকে ফিট করা। আমাদের দেহকে আল্লাহর নির্বাচিত পোশাকে জড়িয়ে নেয়া। নিজের দেহ ও চলাফেরাটাকে আল্লাহর শরীয়তের কাছে তাসলিম তথা সমর্পণ করা।
এটা ইসলামের মূল চেতনা। এই চেতনা কেন্দ্র করেই মুসলিমদের জীবন আবর্তিত হয়। যারা প্রকৃত পর্দা করেন, বোরকা শরীরে জড়িয়ে নেয়ার পিছনে এই অনুভূতিই কাজ করার কথা। কিন্তু আপনি ফ্যাশন বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে পরিধান করলেও বোরকা এই চিন্তার প্রতিনিধিত্ব করে।
এজন্য সেকুলার ও লিবারেলরা এটা সহ্য করতে পারে না। কারণ বোরকার চেতনা তাদের লিবারেল চিন্তাকেই ধ্বসিয়ে দেয়। তারা দেহ ও সৌন্দর্য প্রদর্শনের যেই নোংড়া প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রমাণ ও সেরা হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়, সেই আত্মবিশ্বাসটাকে আঘাত করে।
বোরকা অবশ্যই পুরো বিশ্বে মুসলিমদের সংস্কৃতি। যেখানেই, যত সময়ের জন্য মুসলিমদের অস্তিত্ব, সেখানেই প্রোথিত আছে বোরকার অস্তিত্ব।
আমাদের দাদি, নানী ও তাদের পূর্বের নারীরা কখনোই নিজেদের দেহ আর সৌন্দর্যের কদর্য প্রদর্শন করেননি। এটাই ইতিহাস। একটু পিছনে ফিরে তাকালে এখানকার মুসলিমদের জীবনযাত্রায় এই চিত্র ফুটে উঠবে। এই প্রদর্শনী এখানকার মুসলিমদের সংস্কৃতি না। এটা পাশ্চাত্যের সংস্কৃতি। এই দেশের নারীরা কখনোই জিন্স, গেঞ্জি, শার্ট আর নানান শর্ট পোশাকের সাথে পরিচিত ছিল না, আর না তাদের মাঝে ছিল দেহ প্রদর্শন করিয়ে বেড়ানোর সংস্কৃতি। বরং এই সংস্কৃতি বহিরাগত, পশ্চিম থেকে আমদানি করা।
আমদানি করা পোশাক গায়ে দিয়ে কিভাবে সাহস হয় মুসলিমদের অস্তিত্বের সাথে জড়িত পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তোলার?
লেখকের ফেসবুক পোস্ট




