পশ্চিমতীর, ইসরাইল, হেবরন, ওয়াদি’ আল-জাবারি,

পশ্চিমতীরে স্বঘোষিত শেখের আবির্ভাব, ইসরাইলের কাছে চাইল সহায়তা

ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী নীর বারকাতকে অধিকৃত পশ্চিমতীরের হেবরন এলাকার পাঁচ স্বঘোষিত ‘শেখ’ স্বশাসিত ‘হেবরন আমিরাত’ গঠনের প্রস্তাব দিয়ে চিঠি দিয়েছে। সেখানে তারা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণেরও আগ্রহ ব্যক্ত করেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠিতে তারা ইসরাইল-পশ্চিমতীর যৌথ শিল্পাঞ্চল গঠন এবং ‘ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের উগ্রবাদী তৎপরতার বন্ধের’ প্রতিশ্রুতিও প্রদান করে।

এই প্রস্তাব ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিদ্যমান অবস্থান থেকেও অনেক বেশি অগ্রসর এবং কয়েক দশকের ফিলিস্তিনি প্রত্যাখ্যান নীতি সম্পূর্ণ পরিত্যাগের শামিল। স্থানীয় ফিলিস্তিনি জনতা ও নেতারা তাদের এই প্রচেষ্টাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা এই উদ্যোগকে বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও জনসমর্থনহীন বলে বর্ণনা করেছেন।

নেতৃত্বে বিতর্কিত জাবারি, পরিবারও জানালো বিরোধিতা

এই উদ্যোগের নেতৃত্বে রয়েছেন ওয়াদি’ আল-জাবারি। তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও বাসিন্দাদের কাছে অজানা। তার পাশে আরো চারজন তথাকথিত ‘হেবরন নেতা’ থাকার দাবি করা হলেও তাদের পরিচিতি নিয়েও রয়েছে গভীর সন্দেহ।

জাবারির নিজ পরিবারই এই প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এটি কোনোভাবেই আমাদের পরিবারের অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করে না। বরং তা আমাদের সদস্যদের ইচ্ছার পরিপন্থী।’

পরিবারটি আরো জানায়, ‘জাবারি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্কের জন্য পরিচিত, যা তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক স্বার্থে গঠিত।’

‘কল্পিত নেতৃত্ব’, ‘প্রতিনিধিত্বহীন উদ্যোগ’

হেবরনের বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীরা এই তথাকথিত ‘আমিরাত’ উদ্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছেন। হেবরনভিত্তিক সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী ইসা আমরো মিডল ইস্ট আইকে বলেন, “ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে যে তথাকথিত ‘হেবরন শেখ’-দের কথা বলা হয়েছে, তারা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। তাদের কোনো রাজনৈতিক প্রভাব, সামাজিক মর্যাদা, পারিবারিক ভিত্তি কিংবা সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি নেই।’

তিনি এটিকে ‘সাংবাদিকতা নয়, বরং কৃত্রিম আখ্যান প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তৈরি ফিলিস্তিনি ‘নেতা’-দের উদ্ভাবন’ বলে অভিহিত করেন।

‘চক্রান্তমূলক প্রতিবেদন, জনগণের সাথে প্রতারণা’

ইসা আমরো এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তার এক পোস্টে বলেন, “ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে যাচাইযোগ্য কোনো সূত্রের নাম দেয়নি এবং স্থানীয় ক্ষমতার কাঠামো উপেক্ষা করেছে, যা হয় অদক্ষ সাংবাদিকতা, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন।’

তিনি আরো বলেন, ‘যখন হেবরন বাস্তবিকই ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি- বসতি সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে সামরিক অবরোধ পর্যন্ত- তখন এমন কল্পিত আখ্যান ফিলিস্তিনিদের এবং পাঠকদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।’

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন, চিঠির লেখকদের হেবরনে কোনো প্রভাব নেই। তারা আরো উল্লেখ করেন, জাবারি মূলত জেরুজালেমে বসবাস করেন এবং হেবরনের প্রতিনিধিত্ব করার কোনো ভিত্তি নেই।

ফিলিস্তিনি জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধে অটল হেবরনবাসী

হেবরনের জনগণ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তারা দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি দেয়ার বা স্বাভাবিকীকরণের কোনো উদ্যোগকেই সমর্থন করে না। জাবারিদের এই প্রস্তাব হেবরনের সংগ্রামী ঐতিহ্য ও ফিলিস্তিনি জাতীয় চেতনাকে বিকৃত করার অপচেষ্টা বলে মনে করছেন অনেকে।

স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিবাদ ও নিন্দার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, এই তথাকথিত ‘আমিরাত’ পরিকল্পনা একেবারেই ভিত্তিহীন, জনসমর্থনহীন এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ার এক বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অংশমাত্র।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top