খাগড়াছড়ির গুইমারায় সেনাবাহিনীর ওপর তীব্র হামলা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক অভিযান পরিচালনা, ইউপিডিএফ, খ্রিস্টান রাজ্য, সম্পাদকের বাছাই

পাহাড়ে নৈরাজ্য বন্ধে যে পদক্ষেপ নিতে বলছে ইসলামপন্থীরা

খাগড়াছড়ির গুইমারায় সেনাবাহিনীর ওপর তীব্র হামলার ঘটনার পর বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠন, আলেম সমাজ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা কঠোর নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। এসব বিবৃতিতে রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা, সামরিক নিরাপত্তা জোরদার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক অভিযান পরিচালনার দাবি উত্থাপিত হয়েছে। একই সঙ্গে তারা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

হেফাজতের আমির ও মহাসচিব বলেন, “আমরা খাগড়াছড়ির গুইমারায় সেনাবাহিনীর ওপর ইউপিডিএফ-এর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক নিরাপত্তা পদক্ষেপ আরো বাড়াতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।” তারা আরও বলেন, মুসলিম-অধ্যুষিত বাংলাদেশ থেকে পার্বত্য অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করে ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ বানানোর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশপ্রেমিক ধর্মপ্রাণ ছাত্র-জনতা সেনাবাহিনী ও বিজিবির পাশে আছে।

সাধারণ আলেম সমাজ এক বিবৃতিতে জানায়, ভারতের মদদপুষ্ট রাষ্ট্রবিরোধী ও চিহ্নিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হিসেবে ইউপিডিএফকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা জরুরি। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগণের জান-মালের সুরক্ষার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাপক সামরিক অভিযান পরিচালনার দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাবাহিনীর ওপর হামলার প্রতিবাদে দেশপ্রেমিক জনগণ, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণকে বিভেদ-বিদ্বেষ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে। সেনাবাহিনী স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণের পাশে রয়েছে, জনগণও সেনাবাহিনীর পাশে আছে। আল্লাহ আমাদের মাতৃভূমিকে সন্ত্রাস, বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র ও বিচ্ছিন্নতাবাদ থেকে হেফাজত করুন।

বুদ্ধিজীবী আলেম মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেন, “খাগড়াছড়ি-সহ রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের দিকে নজর দিন। এগুলোও বাংলাদেশের জেলা, বাকি ৬১ জেলার মতোই সমান প্রাধান্যে বিবেচনা করুন। পাহাড়-সমতল ভাগ করার দরকার নেই। পাহাড়িরা যেমন সমতলে আবাস করতে পারে, সমতলবাসীদেরও পাহাড়ে আবাস গড়তে দিতে হবে। ষড়যন্ত্র ও উস্কানির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কৌশল, সচেতনতা ও প্রতিরোধ সক্রিয় রাখতে হবে।”

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি বলেন, “সেনা ও বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা প্রমাণ করে পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে! যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।”

আকবর কমপ্লেক্স মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, “এখন দেশ রক্ষায় সেনাবাহিনীর সহযোগিতা করা সবচেয়ে বড় আমল এবং ফরয আমল।”

এসব প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলো সেনাবাহিনীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে তারা ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে জনগণের ঐক্য ও রাষ্ট্রীয় কৌশল জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top