ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ভাঙাই এখন ইসরাইলিদের রমরমা ব্যবসা হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি এই কাজের জন্য অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়েও লোকজন ভাড়া করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দ্য মার্কার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এমন চিত্রই দেখানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী পরিচালিত ধ্বংসযজ্ঞে বেসামরিক ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয় করছে ইসরাইলিরা। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষিত অপারেটররা প্রতিদিন ১,২০০ শেকেল (৩৬০ ডলার) এবং মাসে প্রায় ৩০ হাজার শেকেল (৯,০০০ ডলার) পর্যন্ত আয় করতে পারেন। সেনাবাহিনী প্রতিদিন সরঞ্জামের মালিককে ৫ হাজার শেকেল (১,৫০০ ডলার) পরিশোধ করে।
সূত্রটি আরো জানিয়েছে, তিনতলা ভবন ভাঙার জন্য বেসরকারি ঠিকাদাররা ২,৫০০ শেকেল এবং বড় ভবনের জন্য ৫ হাজার শেকেল পর্যন্ত পেয়ে থাকেন।
একজন অপারেটর দ্য মার্কারকে জানান, ‘প্রথমে আমি টাকার জন্য এই কাজে যোগ দিয়েছি। তারপর প্রতিশোধের জন্য। সেনাবাহিনী বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করে না। তারা শুধু ধ্বংস করতে চায়।’
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, প্রতিটি কমান্ডার এখন যুদ্ধক্ষেত্রে একজন দক্ষ অপারেটর ও একটি বুলডোজার চায়। সেনাবাহিনী সাঁজোয়া ডি-৯ বুলডোজার ব্যবহার করলেও চাহিদা মেটাতে বেসামরিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হচ্ছে।
একজন রিজার্ভিস্ট দ্য মার্কারকে বলেন, এই যন্ত্রপাতির কার্যকলাপে কোনো সামরিক উদ্দেশ্য নেই। এছাড়া, এই বাণিজ্যিক ধ্বংসযজ্ঞ গাজায় সাহায্যপ্রার্থীদের হত্যারও কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
হারেৎজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সৈন্যরা জানান, ঠিকাদাররা অনেক সময় সাহায্যপ্রার্থীদের কাছাকাছি চলে যায়। ফলে সেনাদের গুলি চালাতে হয়। এক সৈনিক বলেন, ‘তাদের দৃষ্টিতে ঘরবাড়ি না ভাঙাই অর্থের ক্ষতি। সেজন্য তারা সাহায্যপ্রার্থীদের উপর হামলা চালাতেও দ্বিধা করে না।’
ধ্বংস অভিযানে অংশ নেয়া অনেক অপারেটরই বসতি স্থাপনকারী সম্প্রদায় থেকে আসেন। তাদের মধ্যে অন্যতম রাব্বি আব্রাহাম জারবিব, যিনি গাজায় ভবন ধ্বংসের ভিডিও আপলোড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
গত সপ্তাহে সাংবাদিক উরি মিসগাভ জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি বেসামরিক ইউনিট গাজায় ধ্বংস অভিযানে সক্রিয় রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে কয়েক ডজন যন্ত্রপাতি ও পাহাড়ি বসতি থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত যুব অপারেটর রয়েছে। এই ইউনিট দুটি গাজার উত্তর ও দক্ষিণ ভাগে বিভক্তভাবে পরিচালিত হয় এবং উত্তরাঞ্চলের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা গোলান ভাচ।
সূত্র : মিডল ইস্ট আই




