আসিফ আদনান
বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো ভারত। জাতীয় নিরাপত্তা, রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি এবং দ্বীন—প্রতিটি দিক থেকে ভারত আমাদের জন্য হুমকি।
ভারত এশিয়াতে অ্যামেরিকার ন্যাচারাল অ্যালাই। যদিও তারা ব্রিকসের সদস্য, নিষেধাজ্ঞার পরেও রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে, এবং কিছু ইস্যুতে মার্কিনিদের সাথে তাদের স্বার্থের দ্বন্দ্ব আছে, তবুও শেষ হিসেবে আমেরিকার দক্ষিণ এশিয়া নীতিতে ভারত প্রধান মিত্র।
.
চীনকে প্রতিহত করা, উপমহাদেশের প্রায় ৬৫ কোটির বেশি মুসলিম জনসংখ্যার বিরুদ্ধে একটি কাউন্টারব্যালেন্স গড়ে তোলাসহ নানা কারণে আমেরিকার জন্য ভারতের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
.
সুতরাং, দিন শেষে আমেরিকা ভারতের পাশেই দাঁড়াবে। ভারতের আগ্রাসী প্রকল্পের বিরুদ্ধে আমেরিকা কখনো কার্যকর বাঁধা দেবে না। অনেক সময় সফট সমর্থন দেবে।
.
ভারত য||য়ো রাষ্ট্রেরও ঘনিষ্ঠ সমর্থক। ইতিহাস বলে, যা||য়ো-রাও বিভিন্ন সময় ভারতকে সামরিক, গোয়েন্দা এবং কূটনৈতিকভাবে সাহায্য করেছে। এই দুই রাষ্ট্রের সম্প্রসারণবাদী রাজনৈতিক প্রকল্প আছে। তারা একে অপরের মিত্র, এবং এই মৈত্রীর কেন্দ্রবিন্দুতে আছে মুসলিমবিরোধী জিওপলিটিক্স।
.
এই প্রেক্ষাপটে, রিয়েলপলিটিকের হিসাবে বাংলাদেশের জন্য যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হলো চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলা। একইসাথে পাকিস্তান, তুরস্ক, ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ঐক্য এবং নেটওয়ার্ক তৈরির প্রচেষ্টা চালানো।
.
সব নীতিনৈতিকতার এবং উসুলের কথা সরিয়ে রেখে স্রেফ স্বার্থের হিসেবটুকু বললাম। এভাবে ভাবাকেই তো ‘বাস্তববাদীতা’, ‘রাজনৈতিক প্রজ্ঞা’ ইত্যাদি বলা হয়, তাই না।
.
কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হলো, আমাদের দেশের তথাকথিত জাতীয়তাবাদী, ভারত-বিরোধী,ডানপন্থী এমনকি ইনকেলাবি বলে পরিচিত ‘ম্যাচিউর’ শক্তিগুলোও অ্যামেরিকার বলয়ে ঢোকার বাইরে আর তেমন কিছু চিন্তা করতে পারেন না। এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলেন না, এই লাইন সিরিয়াসলি পারসু করা তো দূরের কথা।




