রবিউল ইসলাম
বর্তমানে জাতীয় পার্টি ও কিছু বামপন্থী দল ছাড়া ভারতপন্থী কোন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে সক্রিয় নাই। এই দলগুলো আবার জনবিচ্ছিন্ন এবং এইদেশের রাজনীতিতে পজিটিভ কোনো ফ্যাক্টর না। অন্যদিকে বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার ও অন্যান্য ইসলামী দলগুলো বাংলাদেশপন্থী এবং ভারত বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি। জামায়াতের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতার মুলেই ছিল ভারত বিরোধী অবস্থান।
এমতাবস্থায় নির্বাচনের আগে ভারত বিরোধী শক্তির মধ্যে এতদিনের শক্ত ও দৃঢ় ঐক্যের ফাটল ধরাতে পারলেই ভারত সফল। এরপর ভারত নতুনভাবে মিত্র খুজতে শুরু করবে। এই মুহূর্তে আওয়ামীলীগকে পূর্নবাসন করার থেকে কোনো একটি দলকে নতুন মিত্র বানিয়ে তার ঘাড়ে চেপে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ভারতের জন্য সহজ। ভারত এক্ষেত্রে বিএনপিকেই বেস্ট অপশন হিসেবে টার্গেট করবে বলেই আমার মনে হচ্ছে।
বিএনপিকে ঘিরে ভারতীয় ষড়যন্ত্র
শুরুতে বিএনপিকে গোয়েন্দা সংস্থার ফাঁদে ফেলে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করা হবে। বিএনপিকে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে জনবিচ্ছিন্ন করার সব আয়োজন ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে তারা। এরপর শুরু হবে বিএনপিকে মাইনাসের চক্রান্ত। চতুর্মুখী ষড়যন্ত্রে যখন বিএনপি দিশেহারা থাকবে তখন ভারত তার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। সে বিএনপিকে নিজস্ব কায়দায় ও ম্যাকানিজমের মাধ্যমে ক্ষমতায় আনার মাধ্যমে বিএনপির ঘাড়ে চেপে বসবে।
আর যদি এটা নাও হয় সেক্ষেত্রে ভারত চেষ্টা করবে যেন বিএনপি কোনরকম একটি দুর্বল সরকার গঠন করে। এরপর সেই দুর্বল সরকারকে নানাভাবে ব্যস্ত রাখবে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও জটিলতায় আটকে ফেলবে। তারপর শুরু হবে আওয়ামী ও ভারতীয় যৌথ ন্যারেটিভ। প্রথম আলো ও দিল্লি স্টার নিয়মিত কলাম লিখবে বিএনপির অযোগ্যতা নিয়ে। দেশের মানুষকে বেচেইন করে রাখা হবে উদ্বিগ্নতা ও উৎকণ্ঠার মাধ্যেমে।
আগামীর বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের যত ষড়যন্ত্র হবে সবটাই বিএনপিকে কেন্দ্র করে হবে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার সামর্থ্য আছে শুধু বিএনপির। বিএনপির উচিৎ নিজেদেরকে বিতর্কিত না করা এবং জনগনের আস্থা অর্জনের দিকে মনযোগ দিয়ে রাজনীতি করা। সামনে দীর্ঘদিন এই দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ আছে। সেটা হাতছাড়া করার মত বোকামি না করলেই ভালো হবে।
নতুন দলগুলোর ম্যাচিউরিটি অর্জনে সময় লাগবে। আগামী ১০-১৫ বছর রাজনীতি করতে করতে তারা সরকার গঠনের মতো উপযুক্ত হবে। ততদিন বিএনপির বাইরে তেমন কোন শক্তি আমি দেখছি না। আবার রাতারাতি যেকোন পরিবর্তন ঘটে যেতে পারে এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান হতে পারে। সেটা হওয়ার একমাত্র পথ সেনাবাহিনীর হাতে।
লেখক : সদস্য সচিব, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়




