শরিয়া আইন, সেক্যুলারিজম, গণতন্ত্র, সম্পাদকের বাছাই

বাংলাদেশ কি শরিয়া আইনের উপযোগী?

মুফতি মহিউদ্দিন কাসেমী

বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের কাঠামোতে রয়েছে সেক্যুলারিজম। প্রশাসন ও বিভিন্ন বাহিনীর অধিকাংশ লোকজন ইসলামের মৌলিক শিক্ষা থেকে দূরে। মন্ত্রী, এমপি, কাউন্সিলর, মেয়র, চেয়ারম্যান মেম্বার— এরা দেশ চালায়, তবে তারা পরিবর্তন হয়; কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা ও বাহিনীর লোকজন পরিবর্তন হয় না। চাকরির মেয়াদ পর্যন্ত তারা সার্ভিস দিয়ে যান।

এর বাইরে মিডিয়ার বিরাট প্রভাব রয়েছে। দেশের মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে মিডিয়া, আর মিডিয়ার মালিক কারা? ধনাঢ্য ব্যক্তি ও শিল্পপতিরা মিডিয়ার মালিক।

প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, বাহিনী, মিডিয়া ও ধনাঢ্য শ্রেণী— এদের কারও মাঝেই ইসলামের জ্ঞান নেই। আর এরাই দেশকে নিয়ন্ত্রণ করেন।

মনে করুন ড. ইউনুসের জায়গায় চকবাজার জামে মসজিদের ইমাম সাহেবকে বসিয়ে দেওয়া হল। তাহলে তিনি কি সুদ, ঘুষ, মদ, মাগিবাজি, সিনেমা এগুলো বন্ধ করতে পারবেন? এগুলো তো ইসলামের মৌলিক বিষয়। এগুলো বন্ধ করার ঘোষণা দিলে অবস্থা কেমন হবে?

তাছাড়া সাধারণ জনগণের কয় পার্সেন্ট দীন মেনে চলেন? যারা নামায পড়েন তাদের কয়জনের মাঝে ইসলামের জ্ঞান রয়েছে?

তাই যৌক্তিক ভাবে শরিয়া আইনের উপযোগী নয় বাংলাদেশ। ভবিষ্যতে পরিবেশ হতে পারে। কিন্তু বর্তমানে কোনোভাবেই সম্ভব না৷ উপরের প্রত্যেকটি সেক্টরে লোকবল তৈরি হলে শরিয়া আইনের পরিবেশ কায়েম হতে পারে, তার আগে না।

এরপর আসেন ইসলামী দলগুলোর অবস্থা দেখি। তাদের মধ্যে আস্থার সংকট রয়েছে। তারা মনে করছেন, অমুক ক্ষমতায় গেলে আমাদেরকে ধ্বংস করে ফেলবে। সুতরাং যাদের হাতে শরিয়া কায়েম হবে তারা নিজেরাও প্রস্তুত না।

এরপর আসেন আন্তর্জাতিক বিষয় দেখি। ডারত, মেরিকা কেউ শরিয়া কায়েম হোক তা চাইবে না। প্রতিহত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। নানাবিধ ষড়যন্ত্র করবে। এসব ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার কৌশল ও শক্তি কি আছে?

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে জোয়ার এসেছে, তবুও একাকী ক্ষমতায় যেতে পারবে না। এমনকি ইসলামী দলগুলোর জোট হলেও না। তবে ভালো আসন ও ভোট পাবে।

জামায়াত ও ইসলামী দলগুলো ক্ষমতায় গেলেও শরিয়া কায়েম করতে পারবে না। জামায়াত তো ইদানীং শরিয়া কায়েমের কথাও বলছে না। যারা এক দুইটা আসনও পায় না, তারা সারাদিন শরিয়া কায়েমের কথা বললেই কি, না বললেই কি। নাবালক শিশু যদি বলে, আমি বিয়ে করব না, এটার কোনো ধর্তব্য নেই। সে তো বিয়ের উপযুক্তই হয়নি। যেদিন তারা ক্ষমতায় যাওয়ার উপযুক্ত হবে সেদিন যদি শরিয়া কায়েমের কথা বলতে পারে, সেটা হবে বাস্তবভিত্তিক।

এখন তাহলে ইসলামী দলগুলোর করণীয় কী? তারা মিডিয়ার সামনে কী বলবে? এভাবে বলবে : “দেখুন, এটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, আমরা জনগণের মতামতকে শ্রদ্ধা জানাব, শরিয়া আইন হবে কিনা, সেটা জনগণ বলবে। আফগানিস্তান বা তুরস্ক আমাদের মডেল না, আমাদের মডেল নবীজি সা. ও সাহাবায়ে কেরাম।”

আরেকটা বাস্তবতা হল, গণতন্ত্র দিয়ে পৃথিবীর কোথাও শরিয়া কায়েম হয়নি। তাহলে আমরা কি গণতন্ত্র বাদ দেবো? বাদ দেওয়ার মতো শক্তি নেই। তাই গণতন্ত্রকে ব্যবহার করে আমরা ইসলাম কায়েমের পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করব। শরিয়া না বলে আমরা ইনসাফ কায়েমের কথা বলব। কারণ, ইনসাফ কায়েম হয়ে গেলে শরিয়ার আইনের বিরাট অংশ কায়েম হয়ে যাবে।

লেখক : আলেম ও গবেষক

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top