বাগছাছ, রাজনৈতিক সংগঠন, চ্যারিটি, সম্পাদকের বাছাই

বাগছাছে বিশৃঙ্খলা, পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ নেতারা

জাওয়াদ আহমদ

চ্যারিটি এক্টিভিটি আর রাজনৈতিক সংগঠন করার মধ্যে একটা পার্থক্য আছে। চ্যারিটি কাজে সাহস ধৈর্য্য তেমন লাগে না তবে সংগঠন করতে সাহস লাগে ধৈর্য্য লাগে লাগে বুকভরা দমও। সংগঠনে নিজস্ব গাটস ও ঔনশিপ যদি কেউ ধরে রাখতে না পারে তবে সে সংগঠনে টিকে না সংগঠনেরও তাকে দিয়ে তেমন ফায়দা হয় না!

এইযে আমাদের দেশে দেখা যায় একটা সংগঠন হওয়ার পরপরই একজন দুজন বের হওয়ার খবর প্রকাশ হয়! আবার কখনো তারা আলাদা সংগঠনও করে! এর মূল কারণ আমার কাছে দুইটা মনে হয়! এক. আদর্শগতভাবে একমনা মানুষের সম্মেলন না ঘটানো! দুই. সংগঠনকে পুরোপুরি ঔন করতে না পারা। মানে সংগঠনে আসছে তার কিছু শখ চাহিদা আছে পূরণ করলে থাকবে না হলে বের হয়ে যাবে। অথবা আপনাদের একাজটা ভালো লাগছে না তাই আমি সংগঠনে থাকব না। অথচ উচিত ছিল হয়ত নিজের চাহিদাকে চেপে রাখা অথবা সেটাতে ডিবেইটের মাধ্যমে হাসিল করা। এভাবেই বড় সংগঠনগুলো চলে। কিন্তু দুঃখজনক নতুন সংগঠনে আসা মানুষরা এটা বুঝে না।

যাহোক!

বাগছাস নিয়ে আলোচনা শুরু করি।

বাগছাস গঠন হওয়ার পর থেকেই ভেতরগত সমন্বয়হীনতা মাঝেমধ্যেই সামনে এসেছে। এনসিপির ক্ষেত্রেও এমন ঘটেছে তবে কম। কারণ এনসিপি গঠনের আগে লম্বা সময় নাগরিক কমিটিতে লোকজন নিয়ে নাড়াচাড়ার সুযোগ হয়েছে। ফলে গঠনের সময় যারা একমনা না তারা অনেকেই সরে গেছে। আবার যারা স্বার্থান্বেষী তারাও মার্ক হয়েছে। পক্ষান্তরে বাগছাসের ক্ষেত্রে এটা হয়নি। বাগছাস নেতারা হয়ত চেয়েছিল বৈছাআর সবাই বাগছাসে চলে আসবে। সেটা সম্ভব হয়নি। বৈছাআ আলাদা থাকার গুরুত্বও পরে সামনে এসেছে। সবমিলিয়ে বলা যায় বাগছাসের জার্নিটাই শুরুই হয়েছে সমন্বয়হীনতা ও বোঝাপড়ার ঘাটতি দিয়ে।

এ কয়মাসে বাগছাস থেকে পদত্যাগ করেছে বা বহিষ্কার হয়েছে সেটার সংখ্যা একেবারে কম না। আবার বাগছাসের মধ্যে গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারী যে একটা গ্রুপ লুকিয়ে আছে সেটাও বাস্তব। বাগছাসের অফিশিয়াল গ্রুপে যা আলোচনা হয় দুদিন পরপরই তা বাইরে এসে ঘুরে। বিশেষত ক্রুশিয়াল মোমেন্টে বাগছাসকে ড্যাম করতে এই গুপ্ত গ্রুপটা ভালো ভূমিকা রাখে। কিন্তু এসব থেকে উত্তরণের জন্য তারা কোন পলিসি নিচ্ছে সেটা এখনো স্পষ্ট না। ফলে যেখানে দিনদিন দেশব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে ওঠার কথা সেখানে হারিয়ে যাচ্ছে আলোচনা থেকেই।

সব ছাপিয়ে ডাকসু কেন্দ্র করে বাগছাস একটা ভালো অবস্থান ক্রিয়েট করতে পারত। কিন্তু এই ডাকসুই বাগছাসকে সবচেয়ে বড় ডাউনফলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কতটুকু সমন্বয়হীনতা আর বোঝাপড়ার ঘাটতি থাকলে একাধিক প্রার্থী স্বতন্ত্রে দাঁড়ায় তা স্পষ্ট। এনসিপি নেতা মাহিন সরকারের ডাকসুতে দাঁড়ানো নিয়ে নিন্দা জানাইলেও এখন মনে হচ্ছে মাহিনের এই দাঁড়ানোর দায় বাগছাসেরও আছে। তারা যেভাবে নিজেদের ভিতরে সমন্বয় করতে পারেনি তেমন পারেনি সমমনা সিনিয়র সংগঠনের মধ্যেও।

ডাকসুতে বাগছাসের প্রথম হাস্যকর কাজটা হয়েছে বাকেরকে জি এস পদে দাঁড় করানো। বাকের সেন্ট্রাল আহ্বায়ক! আমার দৃষ্টিতে সে না দাঁড়ালেই ভালো হত! একান্ত বিগ ফিগার হিসেবে দাঁড়াতে হলে ভিপি পদে দাঁড়াতে পারত! কিন্তু তা না করে সেন্ট্রাল আহ্বায়ক দাঁড়িয়েছে একটা শাখার আহ্বায়কের নিচের পদে। বলতে পারেন যে যেখানে যোগ্য সে সেখানে দাঁড়াতে সমস্যা কী! আমি বলব তাহলে তো গোড়ায়ই সমস্যা! কাদের যদি বাকেরের থেকে বেশি যোগ্য হয় তবে কাদেরকেই সেন্ট্রাল আহ্বায়ক বানানো উচিত ছিল। কিন্তু বাকেরের জিএস পদে দাঁড়ানোটা ভালো লাগেনি।

বাকের যদি জিএস পদে না দাঁড়াইতো তবে আরো দুএকজন নেতা উঠে আসত বাগছাসের। বাকেররা এ রাস্তাটা বন্ধ করসে। ফলে মারামারিটা লাগসে এজিএস নিয়ে। আশরেফা আপাকে প্যানেল থেকে দেওয়া হয়েছে এজিএসে। ওদিকে একই পদে স্বতন্ত্র ভাবে লড়াইয়ের জন্য সেন্ট্রাল দুই নেতা ঘোষণা দিয়েছে। ভাবা যায়! বিরোধিতা করছে সরাসরি সেন্ট্রাল নেতারাই! এই ব্যর্থতার দায় কার? বাকের জাহিদ কি এই দায় এড়াতে পারে?

আচ্ছা!
সংগঠন একটা প্যানেল দিসে। একটা সংগঠন প্যানেল দেওয়ার অর্থ হচ্ছে ডাকসুতে পুরো সংগঠনের মুখপাত্রের ভূমিকায় থাকবে এই প্যানেল৷ তাহলে যারা স্বতন্ত্র দাঁড়াবে তারা অবশ্যই বিরোধী বা বিদ্রোহী! সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদেরকে বহিষ্কার বা শোকজ করতে হবে! প্রকাশ্যে বিরোধিতাকে তো প্রশ্রয় দেওয়ার মানে হয় না! কিন্তু বাগছাস এইটাও করতে পারে নাই। উল্টো তাহমিদের স্বতন্ত্রের ঘোষণার পর জাহিদ পোস্ট দিল যে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকায় কাউকে কাউকে নাকি সংগঠন স্বতন্ত্র ভাবে দাঁড়াতে অনুমতি দিয়েছে। কী হাইস্যকর কথারে ভাই। এরপর প্যানেল ঘোষণা হলে হাসিবও সরে দাঁড়ালো! তাও এজিএস পদে! মানে ক্যাচালটা বুঝছেন!

আজ দেখলাম তাহমিদ সময়ের আলোর সাক্ষাৎকারে বলছে, সে একটা সংগঠনে ছিল, পরে আছে বলেছে। তো ওই সংগঠন থেকে যাকে এজিএসে দেওয়া হয়েছে তার কাছে মনে হয়েছে তার থেকে সে যোগ্য। সেজন্য স্বতন্ত্র দাঁড়িয়েছে৷ অথচ তাহমিদ বাগছাসের মুখ্য সংগঠক! বাগছাস তাহমিদ হাসিবকে শোকজ করতে পারছে না কারণ তাদের ফেইস আছে। আবার সমন্বয়ও করতে পারছে না কারণ সমন্বয় করার দক্ষতাটা তারা অর্জন করতে পারেনি। এখানে ননফেইস কেউ একাজ করলে বহিষ্কার করতে দুমিনিট ভাবত না। যেমন মাহিনের বিষয়ে এনসিপি ভাবেনি। যদিও মাহিন গুরুত্বপূর্ণ ফেইস। তবে এনসিপি হওয়ার পর থেকে এনসিপি কেন্দ্রিক তার ফেইস দেখা গেছে কম।

কিন্তু বাগছাস যদি আপাততোও তাদের শোকজ বা বহিষ্কার করত বাগছাসের ওয়েটটা কমত না, বাড়ত। তাহমিদ হাসিব সত্যি সত্যি নিজেদের প্রমাণ করতে পারলে ডাকসুর পর বহিষ্কারাদেশ তুলে নিত! রাজনৈতিক দলগুলোতো এগুলো হরহামেশাই করে!

এসব একটাও না করে বাগছাসের নেতারা পোস্ট করা শুরু করল জাহিদকে নিয়ে। জাহিদ বাগছাসের জন্য কী ত্যাগটাই না করতেসে! তারও নাকি ডাকসুতে ইলেকশন করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সংগঠনের স্বার্থে সেটা করেনি। আরে ভাই! এটাতো জাহিদের দায়িত্বের অংশ। একটা সংগঠনের সদস্য সচিব সংগঠনের শৃঙ্খলার স্বার্থে এতটুকু তো করবেই। এইটা প্রশংসার তবে এইটা হাইপে তুলার কিছু না। এসময় সংগঠনের যেটা করণীয় সেটা আগে করতে হবে।

আমি জানি না এই ইস্যুটারে তারা কীভাবে ডিল করছে! আদৌ এটা নিয়ে ভাবছে কি না! কিন্তু আমার মনে হয় এটা নিয়ে ভালোভাবে ভাবা দরকার। এখনো সময় আছে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বসে প্রয়োজনে বড়দেরকে নিয়ে বসে একটা সমন্বয় করেন। নাহলে সাংগঠনিক রুলস অনুযায়ী পদক্ষেপ নেন। এখন যদি এটা না করেন ভবিষ্যতেও এমন অনেক কাজে বিদ্রোহী বের হতেই থাকবে। এইটারে কমন প্র্যাকটিস বানানো মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

বাগছাস পর্যন্ত এ কথাগুলো যাবে কি না জানিনা! যদিও সবাই ভাইবেরাদর! তারপরও বলছি সাংগঠনিক কার্যক্রমে আপনারা ফোকাসড হন। কোরামবাজির তকমা নিয়ে কয়দিন চলবেন। সব তকমা ফকমা ভাইঙ্গা অভ্যুত্থানের মান রক্ষার্থে সক্রিয় হন। শিবির এক্স শিবির বিতর্ক থেকে শুরু করে অভ্যুত্থানের স্টেইকের ঠিকাদারি সবকিছু পিছনে রাইখা সংগঠনটারে দেশব্যাপি ছড়ায় দেন। ছাড়িয়ে দেন। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া মজবুত করেন। প্রয়োজনে ব্যাপক আকারে ওয়ার্কশপ করেন। নতুন সংগঠনে এসব টুকটাক প্রবলেম হয়ই! বুদ্ধিমান নেতৃত্বের কাজ হচ্ছে এসবের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো। এইটা যদি ঠেকাইতে না পারেন তবে ‘নামে আছে কামে নাই’ এর মতো হয়ে যাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top