বিএনপি, বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী, আওয়ামী লীগ, জামায়াত, এনসিপি

বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী নয় জামায়াত-এনসিপি

আবুল কাসেম আদিল

১.
এই মুহূর্তে বিএনপির উচিত গঠনমূলক রাজনীতিতে মনোনিবেশ করা। কেউ যদি গায়ে কাদা মেখেও দেয়, পাল্টা কাদা ছোড়াছুড়িতে না গিয়ে গা ঝাড়া দিয়ে পরিষ্কার হয়ে যাওয়াই বিএনপির জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

রাজনৈতিক বিরোধী হিসেবে বিএনপি জামায়াত-এনসিপির পরিমিত বিরোধিতা করতে পারে। আসন্ন নির্বাচনে যেহেতু দল দুটির মুখোমুখী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, তার একটা চর্চা এখন থেকেই শুরু হওয়া স্বাভাবিক। তবে বিএনপির উচিত হবে না, জামায়াত-এনসিপির সঙ্গে শত্রুবৎ আচরণ করা। ভোটের মাঠে রাজনৈতিক বিরোধী, এটুকুতে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।

কারণ আপাতত মাঠে বিএনপির কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। কারো সঙ্গে কাদা ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত হয়ে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বীর মর্যাদা দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। গঠনমূলক রাজনীতির মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে যত বেশি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে পারবে, ভোটে এবং মাঠে তত বেশি সমর্থন পাবে।

আপাতদৃষ্টিতে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি থেকে সরকারি দলের আসন কেড়ে নেয়ার মতো কেউ নেই। অন্য সবগুলো দলের সম্মিলিত শক্তিও বিএনপির সমান নয়, সে হিসেবে বিএনপি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিরোধীদলের আসনে কে বসবে, সে নিয়ে। জামায়াত-এনসিপির মধ্যে যে তুলনামূলক বেশি আসন পাবে, সে বিরোধীদলের চেয়ারে বসবে। যেহেতু বিরোধীদলের অবস্থান নিয়ে তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিত হবে, প্রকৃতপক্ষে তারাই একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী।

বিএনপির উচিত, এদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত না হয়ে এদের পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা উপভোগ করা। বিএনপি তা না করে নিজেকে জামায়াত, এনসিপি এবং এমনকি ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। এটা সুবিবেচনার পরিচায়ক নয়।

২.
আওয়ামী লীগের অবর্তমানে রাজনীতিতে একটা বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। বড় ধরনের অঘটন না ঘটলে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে। বিরোধীদলে সাবেক জোটসঙ্গী জামায়াত কিংবা বিএনপির চিরশত্রু হাসিনাকে খেদানো তরুণদের দল এনসিপি যেন যেতে পারে, এটাই বিএনপির তুলনামূলক কাঙ্ক্ষিত হওয়া উচিত। সম্ভাব্য বিরোধীদলের সঙ্গে এখন থেকেই সহাবস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। সরকারি দলের সঙ্গে বিরোধীদলের বোঝাপড়া থাকলে রাজনীতিতে গঠনমূলক ধারা চালু হবে, গুণগত পরিবর্তন আসবে। এই পরিবর্তনের কৃতিত্ব বিএনপির ঘরেই যাবে। এতে সরকারি দল হিসেবে বিএনপি স্বস্তিতে থাকবে, বিরোধীদলও অহেতুক হয়রানির শিকার হবে না।

৩.
বিএনপি যদি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আওয়ামী সুলভ আচরণ করে, তাহলে দুটি ঘটনা ঘটবে। ১. বিএনপিকে মানুষ আওয়ামী লীগের অনুরূপ মনে করবে। ২. বিএনপি জামায়াত-এনসিপিকে দমন করলে জামায়াত-এনসিপি আরো দুর্বল হয়ে পড়বে। রাজনীতিতে শূন্যতা আরো প্রকট হবে। এই সুযোগটা আওয়ামীরা নেবে।
দুটি সম্ভাবনাই বিএনপির জন্য খারাপ। প্রথমটি ঘটলে বিএনপিকে আওয়ামী লীগের মতো অপছন্দ করবে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে দ্বি ধারার রাজনীতিতে শূন্যতার সুযোগ নিয়ে লীগ সক্রিয় হবে। এটি ঘটলে তা হবে বিএনপির জন্য অস্বস্তিকর। লীগকে বিরোধী দলে রেখে ক্ষমতায় থাকা স্বস্তিকর নয়। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপির প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

৪.
লীগকে রাজনীতি থেকে এক কথায় ‘নাই’ করে দিতে হবে। এর উপায় হলো, জামায়াত-এনসিপির সঙ্গে বিএনপির বোঝাপড়া থাকা। অতিনৈকট্য এবং অতিদূরত্ব দুই-ই পরিহার করতে হবে। পারস্পরিক যোগাযোগের পাশাপাশি পরিমিত বিরোধিতার মধ্য দিয়ের একে অপরের রাজনৈতিক বিরোধী হবে। অতি নৈকট্যের মাধ্যমে একে অপরের মধ্যে বিলীন হবে না, হাসিনার সময় জাপা যে ধরনের বিরোধীদল ছিল। আবার অতিশত্রুতার মাধ্যমে দল দুটিকে দুর্বল করে লীগকে সুযোগ দেবে না।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top