বিএনপিঢাবি শিবিরের জনশক্তি ৪৬০০ জন। আমি আবারও বলছি ৪৬০০ জন। যেখানে একটা সরকারি ইউনিভার্সিটিতে ছাত্র রাজনীতি সরাসরি করে খুব বেশি হলে ১০০০ জন সেখানে ঢাবিতে ৪৬০০ জন শিবিরের কর্মী, সাথী (আপার গ্রেড) ও সদস্য (টপ গ্রেড) রয়েছে।
ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের প্রচারণায় অংশগ্রহন করেছে আড়াইশজনের মত। মানে ঘুরে ফিরে এই ২৫০ জনশক্তিকেই সব জায়গায় ঘুরে ফিরে দেখা গেছে। ডাকসুতে শিবির হারলে পরদিন তাদেরকে ক্যাম্পাস ছাড়া করা হতো। তাই এই ২৫০ জনই ফ্রন্টে এসেছে। এদের বেশিরভাগ আবার হলে থাকে না, যার ফলে তাদের রিস্কটাও অনেক কম।
সন্ধ্যায় যখন ডাকসু ফলাফল সবাই জেনে গেছে তখন ফ্রন্টে এসেছে সব মিলিয়ে হাজার খানেক, যাদেরকে আপনি সিনেট ভবনের ভেতরে ও বাইরে দেখেছিলেন। রাতভর যারা মিছিল শ্লোগান দিয়েছিল তারা ১০০০ জনের মত। মজার বিষয় হলো, এই ১ হাজারের মত যারা ফ্রন্টে এসেছে তাদের বেশিরভাগের শিক্ষা জীবন শেষের দিকে। অর্থাৎ এরা এই বছর অথবা মেক্সিমাম আগামী বছর ঢাবি থেকে বেরিয়ে যাবে। সূতরাং শিবিরের যে কয়জন ডাকসু উপলক্ষে ‘ফ্রন্টে’ এসেছে তাদের চাইলেও আগামী বছর ক্ষমতায় এলে ধরতে পারবেন না।
এবার আসি বাকী ৩৬০০ জনকে নিয়ে। এই ৩৬০০ শিবিরের জনশক্তি আন্ডারগ্রাউন্ডে আছে যাকে বলা হয় গুপ্ত। শিবির এদেরকে ইচ্ছা করেই গুপ্ত রেখেছে কারণ ফেব্রুয়ারিতে পট পরিবর্তন হলে তাদের ধারণা বিরাট একটা ‘ফাডাফাডি’ হবে। তাই তাদের ৩৬০০ জন জনশক্তিকে নিরাপদে রাখতে চায় যাদের ঢাবিতে সামনে শিবির আবারও নিষিদ্ধ হলে এদেরকে দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
শিবির যেহেতু এখন ঢাবির ক্ষমতায় তাই তাদের কার্যক্রম অনেক বেড়ে যাবে। এ ৪৬০০ জনশক্তি ৩ মাসের মাথায় ৭০০০ এ পরিণত হবে। স্বাভাবিকভাবে শিক্ষা জীবন শেষ হবে ১৫০০ জনের। বাকী ৫৫০০ জন কিন্তু ক্যাম্পাসেই থাকবে।
ফাইনাল ইয়ারে শিবিরের অনেক জনশক্তি আছে যাদেরকে শিবির হাইলাইট করে নাই এমনকি তাদেরকে জনসম্মুখে আনে নাই। কেন জানেন?
এখন ঢাবি শিবিরের ডিপার্টমেন্ট টপার আছে ৩৬ জন, শুধু ফাইনাল ইয়ারেই আছে এরা। এদের অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে, অনেকে ম্যাজিস্ট্রেট, অনেকে এএসপি, অনেকে অন্যান্য প্রথম গ্রেডের চাকরির জন্য চেস্টা চালাবে। শিবির পরিচয় তাদেরকে ভবিষ্যতে ঝামেলায় ফেলতে পারে, তাই তারা এখনো গুপ্ত হিসেবেই আছে। শুধুমাত্র সাদিক কায়েম ও মহিউদ্দিন খান (এজিএস) টপার হয়েও তাদের ক্যারিয়ার স্যাক্রিফাইস করেছে। কারণ এরা চাইলেও আর সরকারি চাকরি করতে পারবে না, এরা টপার হয়েও ঢাবির শিক্ষক হতে পারবে না। এরা চাইলেও বিসিএস দিতে পারবে না। এরা জেনে শুনেই এই স্যাক্রিফাইস করেছে।
এই যে, লাস্ট ১৭ টা বছর শিবির ঢাবিতে অলমোস্ট নিষিদ্ধ ছিল, তারা এই কাজটাই করেছে। তারা বিসিএস বিশেষ করে এডমিন ও পুলিশে গিয়েছে। শধু ঢাবিই নয়, লাস্ট কয়েক বছর বুয়েট ও ঢামেক থেকেও বিসিএস এডমিন ও পুলিশে শিবিরের আগ্রহ ছিল বেশি। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছে তারা এখন দলে দলে যোগ দিয়েছে বিএনপি সমর্থিত সাদা দলে!
অদূর ভবিষ্যতে হয়তো দেখা যাবে, বিএনপি থেকে নির্বাচিত এমপি কোনো এক জেলার এসপির সাথে গোপনে আলোচনা করছে “আজ রাতে শিবিরের জেলা সভাপতিকে গুম করেন, টাকা যা লাগে দিব।” এদিকে এসপি সাহেব ছিলেন শিবিরের সাথী। এমপি সাহেবের কাছে টাকা নিয়ে শিবির নেতাকে বলবে “ভাই, ১ মাসের জন্য আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যান। দরকার হলে একটা রিসোর্টে গিয়ে আরাম আয়েশ করেন। আমি আপনার ব্যাংক একাউন্টে ৩ লাখ টাকা পাঠাচ্ছি।” পরে এসপি সাহেব এমপি সাহবেক বলবে “শালা গুপ্তর বাচ্চা গুপ্তটা পালাইছে! কীভাবে যে খবর পায় এরা?’ এমপি সাহেব তখন সন্দেহ করবেন তার এপিএসকে, বলবে “আমার এপিএস মাঝে মাঝে নামাজ পড়ে, হালার দাঁড়ির কাটিং ও সন্দেহজনক, এরে আমার সন্দেহ হয়।” এসপি সাহেব তখন বলবে “অনুমতি দিলে এপিএসরে খাইয়া দেই?”




