সাইফ সিরাজ
ক্ষমতা চর্চার প্রশ্নে বড়দের ধৈর্য বেশি থাকতে হয়। ছোট দল আর সমালোচককে সুযোগ দিতে হয়, দুই কারণে। এক. ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য। দুই. ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করা ও স্বৈরাচারী না হওয়ার জন্য। তৃতীয় আরেকটি কারণেও ছোট দলের সমালোচনা মানতে হয়, সেইটে হলো ভবিষ্যতের রাজনীতির জন্যে।
বিএনপি যদি বড় দল হিসেবে পেশি শক্তি প্রয়োগ করে এবং সমালোচনার জবাব আক্রমণের বা আঘাতের ভাষায় দেয় তাহলে নয়া ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে। সেইটে দেশ, জাতি, ছোট দল এবং বিএনপি কারো জন্যই ভালো হবে না।
আবার বিএনপি যদি লীগের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ আর বিপক্ষের রাজনীতি করতে চায় তাহলে বিএনপি তার উদার ডানপন্থার চরিত্র হারাবে। দিনশেষে লীগ হতে চাওয়ার নষ্ট নিয়তি নিয়েই আরেকটা অভ্যূত্থানের অপেক্ষা করতে হবে জাতিকে।
দিল্লি আর পিন্ডির যে ছন্দ মেলানো হয়েছে এইটা মূলত দিল্লিপন্থাকে ইনডেমনিটি দেওয়ার খায়েশ থেকেই করা হয়েছে। আমি দ্যর্থহীনভাবে বলতে পারি, বাংলাদেশে পাকিস্তানপন্থা বলে আর কিছু বাকি নেই। যদিও কারো কারো অখণ্ড ভারতের খায়েশ আছে।
অপর দিকে ইসলাম পন্থী রাজনৈতিক দলগুলো যদি গণমানুষের রাজনীতি করতে চায়। তাহলে বিএনপির জন্য প্রেশার পলিটিক্সে যেতে হবে। শত্রু পলিটিক্সে না।
মাইনাস বিএনপি নামক এজেন্সির পলিটিক্সে যদি ইসলামী দলগুলো রাজি হয় এবং করে; তাড়লে আগামীর বাংলাদেশে নতুন ফ্যাসিবাদ তৈরি হবে। সেইটে ভারতীয় হতে পারে অথবা মেরিকা-ন্যাটো-জাতিসংঘও হতে পারে। ফলাফল কী হবে আন্দাজ করুন!
কওমীপন্থা নিয়ে বিএনপির স্পষ্ট বক্তব্য থাকা উচিত। শায়খুল হাদীস ও আমীনী রা: এর জেল আর আন্দোলনে ভর করে ২০০১ এর ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি। কিন্তু তারা জামাতকে ত্রাতা মনে করে দুই মনীষীর সঙ্গে গুড ডীল করেননি। সেই কথা আমাদের মনে আছে।
জুলাইয়েও কওমীদের রক্তে রাজপথ ভিজেছে। সেই মেজাজটা শুরু হয়েছিল নারীনীতি বিরোধী আমীনী সাহেবের হরতাল হয়ে শাপলা থেকে।
ফলে বিএনপি যেনো এগুলো ভুলে না যায়। বরং বিএনপি তার কর্মীদের যেনো ঐক্য আর সহাবস্থানের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে আর বিশৃঙ্খল বক্তব্যে লাগাম টানে।
বাংলাদেশের কল্যাণের জন্যই বিএনপির ফেয়ার পলিটিক্স করা দরকার। বাংলাদেশ, ইসলাম পন্থা, কওমী মাদ্রাসা এবং এই দেশের মুসলিম স্বার্থের জন্যই ইসালামী দলগুলোর ফেয়ার পলিটিক্স করা দরকার। আর ইসলামী রাজনীতির আলাদা রূপ, রঙ, বৈশিষ্ট্য ও চরিত্র দেখানোর জন্যে ফেয়ার পলিটিক্স ইসলামী দলগুলোর জন্য ফরজ।
প্লীজ সবাই ইনসাফী আচরণ করি।




