বিজ্ঞান, প্রযুক্তি

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি : প্রয়োজনীয়তা

মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ

আজকের যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। বিজ্ঞান বিশ্ব-জগতের নতুন নতুন রহস্য মানুষের সামনে তুলে ধরছে এবং প্রযুক্তি নিত্য নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানব সভ্যতাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। বিজ্ঞান হলো তত্ত্বের সমষ্টি, আর বিজ্ঞানের প্রয়োগ হলো প্রযুক্তি।

এখন প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটছে এবং উদ্ভাবনের প্লাবন চলছে, যা মানুষের জীবনযাত্রা এবং চিন্তাধারাকে আমুল পাল্টে দিচ্ছে। নিত্য নতুন যন্ত্রকৌশল মানুষকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে। এমনকি মানুষ এখন প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার সাথে তাল রেখেও চলতে পারছে না।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি হলো বস্তু-শক্তির আধার। এ যেন আধুনিক যুগের আলাদীনের চেরাগ। এটা যার হাতে ‘শক্তির দৈত্য’ থাকবে তারই নিয়ন্ত্রনে । বিশ্ব চলবে তারই অঙ্গুলি হেলনে।

কিন্তু দুঃখজনক বাস্তব এই যে, আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন অমুসলিম শক্তির হাতে। তাদের দয়ায় প্রযুক্তি আমরা ভোগ করি বটে, প্রয়োগ করতে পারি না।

একুশ শতকের কঠিন প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই মুসলিম উম্মাহকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মৌলিক চর্চায় আত্মনিয়োগ করতে হবে এবং ‘জাগ্রত খরগোশের’ গতিতে এগিয়ে যেতে হবে।

আমাদের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যতটুকু চর্চা হয় তা ‘শক্তির উদ্দেশ্যে নয়, ভোগের উদ্দেশ্যে। এতে আমরা পাশ্চাত্যের লোভনীয় বাজার হয়ত হবো, কখনো নিয়ন্ত্রণের অধিকার পাবো না।

তবে এক্ষেত্রেও পাশ্চাত্যের অনুকরণ কাম্য নয়। কেননা অনুকরণ মানুষকে অনুগামী করে, অগ্রগামী করে না। সুতরাং জীবন ও জগত সম্পর্কে ইসলামের নিজস্ব শিক্ষা পূর্ণ অনুসরণ করেই এ পথে আমাদের অগ্রসর হতে হবে।

পাশ্চাত্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে গ্রহণ করেছে ধর্মকে বর্জন করে। ফলে সে বিজ্ঞান পেয়েছে, কিন্তু জ্ঞান হারিয়েছে। প্রযুক্তি পেয়েছে, কিন্তু যুক্তি হারিয়েছে। গতি পেয়েছে, কিন্তু নীতি হারিয়েছে। বেগ পেয়েছে, কিন্তু আবেগ হারিয়েছে। ফলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই এখন তাদের জন্য এবং গোটা মানব জাতির জন্য বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মুসলিম উম্মাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চর্চা করবে আল্লাহর কুদরত বুঝতে এবং জাতীয় শক্তি অর্জনের উদ্দেশ্যে। তাহলেই আল্লাহর রহমতে আমরা জয়ী হতে পারবো।

দ্বিতীয় দুঃখজনক বাস্তব এই যে, আমাদের দ্বীনী শিক্ষাব্যবস্থায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চার কোন চিন্তাই এখনো পর্যন্ত নেই। ফলে দেশের প্রচলিত “ধর্মনিরপেক্ষ’ সাধারণ শিক্ষার মোকাবেলায় আমাদের শিক্ষার্থীরা নিদারুণ হীনমন্যতার শিকার হয়ে থাকে। ফলে জীবনের কোন ক্ষেত্রে তারা যোগ্যতার সাথে অগ্রসর হতে পারে না ৷ যথেষ্ট বিলম্ব হয়েছে। বিষয়টি এখনই যথাযোগ্য গুরুতের সাথে বিবেচনায় আনতে হবে॥

মাসিক আল কলম পুষ্প থেকে সংগৃহীত

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top