বিয়ে, বিয়ের বয়স, বিয়ের সঠিক সময়

বিয়ের সঠিক সময় নিয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

শায়খ ইবনুল কালাম

মানুষের মধ্যে মানবিক যত চাহিদা রয়েছে, এর মধ্যে কামচাহিদা অন্যতম এবং অধিক ঈপ্সিত। বিয়ে কামচাহিদা পূরণের অন্যতম বৈধ মাধ্যম। সেজন্য মানুষের মাঝে যখন কামচাহিদা শুরু হয়, তখনই সামর্থ্য থাকলে বিয়ে করে ফেলা উচিৎ। আর যদি কারো সামর্থ্য না থাকে, তাহলে সামর্থ্য হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আর এই সময় কামচাহিদা দমিত রাখার জন্য উত্তম পন্থা হলো রোজা রাখা। আল্লাহর রাসূল সা. বলেন, তোমাদের মধ্যে যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তারা যেন বিয়ে করে নেয়। আর যাদের সামর্থ্য নেই, তারা যেন রোজা রাখে।

বিয়েতে সামর্থ্য দ্বারা কী উদ্দেশ্য

বিয়ের সামর্থ্য বলতে অনেকে অঢেল সম্পদ বা প্রাচুর্যকে বুঝে থাকেন। কিন্তু এই ধারণা ভুল। বিয়ের জন্য মোহরানা ও স্ত্রীর খরচ-খরচাদি বহন করার মতো সামর্থ্য থাকাই যথেষ্ট। প্রাচুর্য থাকা জরুরি নয়। কেউ যদি চারিত্রিক পবিত্রতা বজায় রাখার জন্য আল্লাহর উপর ভরসা করে বিয়ে করে, তাহলে তার অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহের জন্য আল্লাহ তায়ালাই উপযুক্ত কোনো ব্যবস্থা করে দেবেন। দরিদ্রদের বিয়ে প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা দরিদ্র হলে আল্লাহ তায়ালা নিজ অনুগ্রহে সম্পদশালী করে দেবেন। (সূরা নূর, আয়াত : ৩২) আল্লাহর রাসূল সা. বলেন, তোমার নারীদের বিয়ে করো। তারাই তোমাদের সম্পদ উপার্জনের কারণ হবে। মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদিস : ৭৩৩০ বর্তমান বিভিন্ন গবেষণাও এ কথা প্রমাণ করছে যে বিবাহিত মানুষের প্রতিবছর সম্পদ বৃদ্ধি পায়। ‘ওহিও স্টেস ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর হিউম্যান রিসোর্স রিসার্চ’র গবেষক জ্য জাগরস্কি তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, শুধুমাত্র বিবাহিত হওয়ার কারণে প্রতি বছর একজন মানুষের সম্পদ চার শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে।

অবশ্য কারো যদি বিয়ে ন্যূনতম সামর্থ্যও না থাকে, অর্থাৎ অবস্থা সচ্ছল নয়, বিয়ে করার পর স্ত্রীকে প্রয়োজনীয় হক আদায় করতে পারবে না, তাহলে তার জন্য অপেক্ষা করা উচিৎ। যতদিন আল্লাহ তায়ালা অনুগ্রহ না করবে, ততদিন রিপু দমন করার জন্য রোজা রাখতে পারে। আর সামর্থ্য অর্জনের জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া ও পরিশ্রম জারি রাখতে হবে। কেউ যদি রোজা রাখে, সামর্থ্য অর্জনের জন্য মেহনত করে এবং দোয়া জারি রাখে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার এ পরিমাণ সম্পদের ব্যবস্থা করে দেবেন যে সে বিয়ে করতে সক্ষম হবে। (তাফসিরে মাআরিফুল কুরআন, ৬ : ৪১৩ এর ভাব অবলম্বনে, ঈষৎ সংযোজিত)

বিয়ের উপযুক্ত বয়স

বিয়ের জন্য ইসলাম কোনো বয়স বেঁধে দেয়নি। কারণ, ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র, সময়ভেদে এর প্রয়োজনটা ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। কারো সাবালক হওয়ার আগেই বিয়ে করার প্রয়োজন হতে পারে। আবার কারো একটা সময় পর্যন্ত অপেক্ষাও করা লাগতে পারে। সে হিসেবে শরীয়ত বিষয়টি মানুষের সুবিবেচনার উপর ছেড়ে দিয়েছে।

সুবিবেচনা বলতে কারো মাঝে যখন পাঁচটি বিষয়ে যথার্থতা থাকবে, তখন তাকে বিয়ের উপযুক্ত বিবেচনা করা যেতে পারে। সেগুলো হলো, শারীরিক সম্পর্ক করতে সক্ষম হওয়া, সন্তান গ্রহণের যোগ্যতা থাকা, সন্তান পরিপালনের বুঝ থাকা, ঘর সামলানোর মতো অবস্থা থাকা এবং লাইফ পার্টনারের সাথে উত্তম আচরণের মানসিকতা থাকা। এই বিষয়গুলোর বোধ কারো মাঝে থাকলে তাকে বিয়ে দেয়া যেতে পারে। বয়স এখানে কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়।

তবে এসব বোধ তৈরি হতে একজন নারীর স্বাভাবিকভাবে কত বছর লাগতে পারে, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ফিকাহ একাডেমি মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী জেদ্দা ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সের কথা বলেছে। পুরুষের বিষয়ে যদিও তাদের রেজুলেশনে কিছু নেই, তবে সেটি ১৮ থেকে ২০ বছর হতে পারে। সেজন্য স্বাভাবিক অবস্থায় মেয়েদের ১৫ থেকে ১৬ বছরের মধ্যেই বিয়ে দিয়ে দেয়া উচিৎ। আর ছেলেদের বিয়ে করানো উচিৎ ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। তবে কোনো দেশ যদি বিয়ের বয়স নির্দিষ্ট করে দেয়, করতে পারে। সেক্ষেত্রে ওই দেশের মেয়ে, সমাজ ও পরিবারের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় রাখতে হবে। সুতরাং কোনো বাবা-মা যদি রাষ্ট্রনির্ধারিত সময়ের আগে বিয়ে দিতে চায়, সেক্ষেত্রে মেয়ের স্বার্থকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করতে হবে।

কখন বিয়ে করা উত্তম

তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কামচাহিদাকে বৈধপন্থায় পূরণের ব্যবস্থা করা। সেজন্য নারী ও পুরুষের ভরা যৌবন যখন থাকে, তখনই বিয়ে দিয়ে দেয়া উচিৎ। এক্ষেত্রে যত দেরি করা হবে, তত নারীর কোমলতা হ্রাস পাবে এবং পুরুষের চারিত্রিক অবক্ষয়ের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে।

চিকিৎসা ও জীববিজ্ঞানের মতে, একজন পুরুষের যৌবন ১২ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে শুরু হয়। এ সময় তার মধ্যে কামচাহিদা তৈরি হয়ে যায়। আর তা পূর্ণমাত্রায় জেগে ওঠে ১৮ বছর বয়সে। এ সময় তার মাঝে শারীরিক শক্তি, হরমোনের মাত্রা, পেশি ও প্রজনন ক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ের থাকে। সেজন্য এ সময়ের কামচাহিদা পূরণ তাকে অধিক তৃপ্তি দিয়ে থাকে। এই সক্ষমতা বাড়তে বাড়তে ৩৫ বছর বয়সে গিয়ে প্রান্ত সীমা স্পর্শ করে। এরপর ধীরে ধীরে তার টেস্টোস্টেরন হ্রাস পেতে শুরু করে। পেশি-শক্তি ও প্রজনন ক্ষমতায় ধস নামে। আর তা ৪০ বছর পর্যন্ত চলমান থাকে। সাধারণ এরপর পুরুষদের মাঝে কামচাহিদার ওই প্রাবল্য থাকে না। আস্তে আস্তে তার ভরা যৌবন নিঃশেষ হতে শুরু করে।

আর নারীদের যৌবনের বোধ শুরু হয় ১১ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। এর তা বাড়তে বাড়তে ১৬ বছরের দিকে পূর্ণতা পায়। এ সময় থেকে নারীদের ভরা যৌবন শুরু হয়। এ সময় তাদের প্রজনন ক্ষমতা, সৌন্দর্য, হরমোনের সামঞ্জস্য ও শারীরিক তারুণ্য সর্বাধিক থাকে। আর তা ৩০ বছর বয়সে গিয়ে প্রান্তসীমা স্পর্শ করে। ৩০ বছরের পর থেকে ধীরে ধীরে তার উর্বরতা কমতে শুরু করে। তবুও ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত তা বজায় থাকে। এরপর থেকে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত সময়ে তার গর্ভধারণের জটিলতা ও হরমোনগত পরিবর্তন বাড়ে। আর সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যেই তাদের মেনোপজ ঘটে এবং হায়েজ বন্ধ হয়ে যায়।

তবে হাঁ, ব্যক্তিভেদে, জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সুস্থতা, জেনেটিক্স ও মানসিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এই সীমা কিছুটা এদিক-সেদিকও হতে পারে।

যেহেতু ১৮ বছর বয়সে পুরুষের ভরা যৌবন শুরু হয় আর ১৬ বছর বয়সে শুরু হয় নারীর, সেজন্য ভরা যৌবনের শুরুতেই তাদের বিয়ে দিয়ে দেয়া উচিৎ। এতে তারা যৌবনের তৃপ্তি পূর্ণরূপে অবগাহন করতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে পূর্বে সুবিবেচনার জন্য যেসব বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, সেগুলোর উপস্থিতি থাকতে হবে।

উপযুক্ত বয়সে বিয়ে না করার ক্ষতি

কেউ যদি যৌবনের শুরুতেই বিয়ে করে ফেলে, তাহলে এতে নানাবিধ ফায়দা রয়েছে। কয়েকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো-
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিয়ের পরে এক থেকে দুই বছর বাচ্চা না নেয়া উচিৎ। বরং এই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর যৌবনের তৃপ্তি পূর্ণরূপে অবগাহন করে নেয়া উচিৎ। সে হিসেবে বিয়ের দুই বছর পর থেকে বাচ্চা নেয়া যেতে পারে। এখন আমাদের সমাজে একজন ছেলের প্রতিষ্ঠিত হয়ে বিয়ে করতে ৩০ থেকে ৩৫ বছর লেগে যায়, কেউ যদি প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পিছে দৌড়িয়ে ৩০ বছর বয়সে বিয়ে করে, তাহলে এর অর্থ হলো, তিনি প্রথম সন্তান নেবেন ৩২ বছর বয়সে। এখন দুই সন্তানের মাঝে যদি ৪ বছর ব্যবধান করেন, তাহলে দ্বিতীয় সন্তান আসবে ৩৬ বছর বয়সে। এবার দ্বিতীয় সন্তান নিতে নিতেই তার ভরা যৌবন শেষ হয়ে যাবে, তৃতীয় সন্তান নেয়াটা কষ্টকর হয়ে যাবে। অর্থাৎ দেরিতে বিয়ে করলে সন্তান দুটির বেশি নেয়া কষ্টকর।

দ্বিতীয় ধাপে চিন্তা করি। আপনার ৩৬ বছর বয়সে যদি দ্বিতীয় সন্তান হয়, তাহলে তাকে বিয়ে দিতে দিতে আপনাকে ৩০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। তার মাঝে আপনার যখন ৬৬ বছর বয়স, তখন আপনার দ্বিতীয় সন্তানের বিয়ের বয়স হবে। আমাদের দেশে একজন মানুষ সাধারণত ৬০ থেকে ৭০ বছর বাঁচে। কেউ ৮০ বা তার বেশিও সময় পায়। তবে সেটির সংখ্যা কম। আর যারা যৌবনের শেষ প্রান্তে বিয়ে করে, তাদের জন্য ৭০ বছরের পর বেঁচে থাকা কঠিনই বটে। আল্লাহর ফায়সালা থাকলে ভিন্ন। এখন আপনার ৬৬ বছর বয়সের সময় যদি আপনার ছেলে বিয়ে করে, তাহলে তার ছেলে হতে আরো দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে। তার মানে তখন আপনার বয়স হবে ৬৮ বছর। এবার বাচ্চা জন্মগ্রহণের পর দুই থেকে আড়াই বছর সে মায়ের দুধ খায়। কথাবার্তা শেখা ও অন্যান্য গঠনগুলো পরিপূর্ণ হয়। মানে বাচ্চা যখন দুধ ছাড়বে, তখন আপনার বয়স হবে ৭০ থেকে ৭১ বছর। তো আপনার যখন ৭০ বছর অর্থাৎ আপনি মৃত্যুর প্রহর গুণছেন, তখন আপনার নাতি দাদুর আদর-সোহাগ বোঝার বয়সও হয়নি। যখন তার আদর-সোহাগ বোঝার বয়স হবে, তখন আপনি পরপারে পাড়ি জমাবেন। তার মানে আপনি প্রতিষ্ঠার পেছনে দৌঁড়াতে গিয়ে আপনার নাতি-নাতনিকে তাদের দাদুর আদর সোহাগ থেকে বঞ্চিত করলেন। মানে তাদের হক নষ্ট করলেন। আপনি আপনার ব্যাপারে তো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু আপনার নাতি-নাতনির অধিকার তো নষ্ট করতে পারেন না।

দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় ভাবা যেতে পারে। আপনি যদি ৩০ বছর বয়সে বিয়ে করেন, তার মানে তখন আপনার যৌবনে ভাটির টান থাকবে। কারণ, পুরুষের ভরা যৌবন থাকে ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত। অর্থাৎ আপনি মাত্র ৫ বছর পূর্ণ তৃপ্তি নেয়ার সময় পাবেন। স্বামী-স্ত্রী সাধারণত সপ্তাহে একবার পারস্পরিক তৃপ্তি নিয়ে থাকে, তার মাঝে ৫ বছরে আপনি ২৬০ থেকে ২৭০ বার তৃপ্তি নেবেন। এবার আপনিই বিচার করুন, ২৭০ বারের তৃপ্তি দিয়েই কি গোটা জীবনটা পার করে দেয়া যাবে? এর মধ্যে কত ঝায়-ঝামেলা থাকবে। তাহলে মাঝে কোনো সপ্তাহে গ্যাপও পড়তে পারে। তাহলে জীবনের তৃপ্তি বা প্রাপ্তিটা কোথায় গেল?

এবার ভাবুন। আপনি যাকে বিয়ে করলেন, তার বয়স যদি ২২ বা ২৩ হয় -সাধারণত এমনই হয়ে থাকে। কারো ক্ষেত্রে আরো কম হয়- তাহলে এই নারীর ভরা যৌবন থাকবে আরো ৭ থেকে ৮ বছর। আপনার ভরা যৌবন থাকছে ৫ বছর আর স্ত্রীর ভরা যৌবন থাকছে ৮ বছর। তাহলে অতিরিক্ত ৩ বছর স্ত্রী তার সুখ আহরণ করবে কোত্থেকে? এটি কি চারিত্রিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি তৈরি করে না?

অর্থাৎ আপনি যদি প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য দেরিতে বিয়ে করেন, তাহলে নাতি-নাতনির হক নষ্ট হবে; আপনার জীবন অতৃপ্ত রবে; স্ত্রীর চারিত্রিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি তৈরি হবে, তাহলে দিনশেষে আপনার লাভ কী হলো? সেজন্য দেরিতে বিয়ে না করে যথাসময়েই বিয়ে করে নেয়া উচিৎ।

যথাসময়ে বিয়ের করার উপকারিতা

যথাসময়ে যদি বিয়ে করা হয়, তাহলে নাতি-নাতনির হক নষ্ট হবে না। জীবনটাও বড় তৃপ্ত হবে। স্ত্রীরও চারিত্রিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি থাকবে না। আরো নানাবিধ লাভ রয়েছে। এবার তা শুনুন-
আপনি যদি ১৮ বছর বয়সেই বিয়ে করে, তার মানে সে পূর্ণ ১৭ বছর তৃপ্তি লাভ করতে পারবে। এতো দীর্ঘ সময় তৃপ্ত হতে থাকলে সুখের অনুভূতিটাই ভিন্ন রকম হবে। এছাড়া আপনি যদি ১৮ বছর বয়সে বিয়ে করেন, তার মানে আপনার প্রথম সন্তান আসবে ২০ বছর বয়সে। এবার আপনি যদি ৪ বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয় সন্তান নেন, তার মানে ২৪ বছর বয়সে আপনি দ্বিতীয় সন্তানের জনক। এভাবে ২৮ বছর বয়সে তৃতীয় সন্তান, ৩২ বছর বয়সে চতুর্থ সন্তান এবং ৩৬ বছর বয়সে পঞ্চম সন্তানের জনক হবেন। অর্থাৎ এই সময়ে আপনি পূর্ণ তৃপ্তি যেভাবে পাবেন, পাঁচটি সন্তানেরও বাবা হবেন। এবং এদের প্রত্যেককে যথাযথভাবে পরিপালনের জন্য আপনি পর্যাপ্ত সময়ও পাবেন। আর একটি পরিবারে পাঁচ-ছয়টি সন্তান থাকাই বাঞ্ছনীয়।

পরিবারে ছেলে ও মেয়ে দুটিরই দরকার আছে এবং সকল বাবা-মাই ছেলে-মেয়ে উভয়টি চায়। এখন আপনার যদি একটি মেয়ে হয়, তাহলে তার একটি বোনের দরকার থাকে। কারণ, মেয়েদের দুঃখ মেয়েরাই বেশি বোঝে। সেজন্য মেয়ে দুটি লাগবে। আর ছেলে হলে তারও তো সুখ-দুখ বুঝার জন্য একজন ভাইয়ের দরকার পড়বে। তার মানে আপনার কমপক্ষে চারজন সন্তান নেয়া কর্তব্য। আর ছেলে-ছেলে অনেকক্ষেত্রে বোঝাপাড়ায় ঘাটতি থাকে। এক্ষেত্রে যদি তৃতীয় আরেকজন ভাই থাকে, তাহলে ভারসাম্য রক্ষা করা সহজ হয়। সেজন্য ছেলে মোট তিনজন হওয়াই শ্রেয়। অর্থাৎ আপনার সংসারে কমপক্ষে পাঁচজন ছেলে মেয়ে থাকার দরকার।

আপনি যদি ১৮ বছর বয়সেই বিয়ে করে ফেলেন, তাহলে আপনি খুব সহজেই এবং পরিপূর্ণ যত্নের সাথে এই পাঁচজন সন্তানের বাবা হতে পারেন। এতে আপনার সংসারের শান্তি পূর্ণতা পাবে।

এবার যথাসময়ে বাচ্চা নেয়ার কারণে সবাইকে দেখেশুনে বিয়েশাদিও দিতে পারবেন। অর্থাৎ আপনার প্রথম সন্তানের বয়স যখন ১৮, তখন আপনার বয়স হবে ৩৮; দ্বিতীয় সন্তানের বিয়ের সময় বয়স হবে ৪২; তৃতীয় সন্তানের বিয়ের সময় ৪৬; চতুর্থ সন্তানের বিয়ের সময় ৫০; পঞ্চম ছেলের বিয়ের সময় আপনার বয়স হবে ৫৪। অর্থাৎ আপনি পূর্ণ সক্ষম থাকা অবস্থায় আপনার সন্তানদের বিয়ে দিতে পারবেন। কারো ক্ষেত্রে আল্লাহ না করুক, যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে তারও বিহিত করার সময় পাবেন। নাতি-নাততিদের সাথে আনন্দে সময়ও যাপন করতে পারবেন।

আপনি যদি যথাসময়ে বিয়েশাদি করেন, তবে আপনি সক্ষম থাকা অবস্থায়ই আপনার সন্তানরা আয়-রোজগারের পথ ধরবে। আপনি তাদের জন্য উপযুক্ত উপায় বের করে দিতে পারবেন। এতে সংসারের বোঝা একদিকে আপনার জন্য লাঘব হবে। অন্যদিকে সন্তানরাও হাতে কলমে বাবা থেকে সংসার পরিচালনা শিখতে পারবে। ফলে বাবা যখন ইন্তেকাল করবে, তখন তাকে অপ্রস্তুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না।

অর্থাৎ আপনি যদি উপযুক্ত সময়ে বিয়ে করেন, তাহলে একদিকে আপনি পরিবারের অবারিত শান্তি ভোগ করতে পারবেন। তদুপরি পরিবারকে সন্তুষ্ট ও সুখময় অবস্থায় রেখে আপনি পরপারে পাড়ি জমাতে পারবেন। সেজন্য বিয়ের ক্ষেত্রে কালক্ষেপন করা উচিৎ নয়।

পাত্র-পাত্রীর মাঝে কত বছরের ব্যবধান থাকা উচিৎ

এই বিষয়টি আমরা সহজে বের করতে পারি উভয়ের টেকসই যৌবনের সময়কাল বিচার করে। একজন নারীর ভরা যৌবন থাকে ১৬ বছর বয়স থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত। অর্থা ১৫ বছর ভরা যৌবন থাকে। আর পুরুষের ভরা যৌবন থাকে ১৮ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত। অর্থাৎ ১৮ বছর। তার মানে দুইজনের কামচাহিদা পূর্ণ থাকার সময়ের ব্যবধান ৩ বছর। সুতরাং স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ন্যূনতম ৩ বছরের ব্যবধান থাকা উচিৎ। ডাক্তারদের অভিজ্ঞতা অনুসায়ী সর্বোচ্চ ৭ বছরের ব্যবধান রাখা যেতে পারে। এর বেশি ব্যবধান হওয়া উচিৎ নয়।

তবে হাঁ, স্থান-কাল-পাত্রভেদে কামচাহিদার টেকসই অবস্থা বিভিন্ন পর্যায় পর্যন্ত বাকি থাকে। সেজন্য এই ব্যবধানকে আবশ্যক মনে করার কোনো কারণ নেই। এই ব্যবধান সাধারণত পারস্পরিক বোঝাপড়া, দায়িত্ববোধ, আধ্যাত্মিক ও মানসিক পরিপক্বতার জন্য সহায়ক হয়। তবে যদি আরো কম বা বেশি ব্যবধানেও এসব উদ্দেশ্য হাসিল হয়, তাহলে ওই ব্যবধানে দোষের কিছু নেই। দাম্পত্য জীবনে সফল হওয়ার জন্য বয়সের ব্যবধানই একমাত্র শর্ত নয়। বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া, দায়িত্ববোধ, আধ্যাত্মিক ও মানসিক পরিপক্বতাই দাম্পত্য সফলতার মূল ভিত্তি।

লেখক : আলেম ও সাংবাদিক

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top