মনযুরুল হক
ফিলিস্তিনে টানা অনেকগুলো ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এত দ্রুত সব ঘটছে যে, খেই হারিয়ে ফেলছি।
প্রথমত, কানাডা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিছে আজ। ফ্রান্স ১৫ দেশ মিলে সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে স্বীকৃতি দেবে বলেছে। তার মধ্যে সুইডেন, স্পেন, স্লোভেনিয়া ও পর্তুগালের মতো দেশও আছে। মনে রাখতে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় নাই এখনও ৩০টি মুসলিম দেশ এবং ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় নাই ৪৬টি অমুসলিম দেশ। অবশ্য এই স্বীকৃতির মধ্যে ব্রিটেনে আসতে চাচ্ছে, যদিও সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি উন্নত না হয়।
দ্বিতীয়ত, কাতার, সৌদি, আরব আমিরাতের মতো কয়েকটা দেশ মিলে জাতিসংঘের কনফারেন্সে একটা প্রস্তাবনা হাজির করেছে যে, গাজা থেকে ইসরায়েল ও হামাস দুই পক্ষেরই বের হয়ে যেতে হবে। এই কনফারেন্স আবার কন্ডাক্ট করেছে সৌদি আর ফ্রান্স মিলে। তাহলে গাজার দায়িত্বে কে থাকবে? থাকবে পিএ মানে প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটি, যেইটার হেড মাহমুদ আব্বাস। অবশ্য, হামাস একাধিকবার এই প্রস্তাব করেছে। তবে তারা সামরিক শাখার ডিসআর্মামেন্টে রাজি হয় নাই। এখনও হামাসের নতুন প্রস্তাবনা বিষয়ে মন্তব্য পাওয়া যায় নাই
তৃতীয়ত, এইদিকে আমেরিকা জানাইছে, তারা পিএ‘র কর্মকর্তাদের ওপর স্যামসন দেবে, কারণ তারা ফিলিস্তিনের শান্তি প্রক্রিয়ার সাহায্য করছে না। আচ্ছা, তাদের ওপর সাংশন তাইলে তারা গাজার দায়িত্ব কেমনে নেবে? যদিও আমার মতে, পিএ-কে দায়িত্ব দেওয়া আর ইসরায়েলকে দেওয়া একই কথা। ওদিকে ইসরায়েলি নেসেটে মানে পার্লামেন্টে পুরো পশ্চিম তীরকে অ্যানেক্সেশনের বিল পাশ হয়েছে। তো যারা পশ্চিম তীর ধরে রাখতে পারছে না, আবার স্যাংশন খাচ্ছে, তারা গাজাকে কেমনে কন্ট্রোল করবে?
চতুর্থত, হামাস ইসরায়েলের ওপর ব্যাপক হামলা বাড়াইছে। তারা ত্রাণ চুরি করে বলে যে প্রচারণা চালানো হয়েছে, ইউএসএইড তদন্ত করে বলেছে, সেটা মিথ্যা। আমার কথা হলো, তাহলে হামাস সদস্যরা খাদ্য ও অস্ত্র কোথায় পায়? এটা এক বিরাট রহস্য। হামাস ৩ আগস্ট ইসমাইল হানিয়ার শাহাদাতের বছরপূর্তি উদযাপনের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা বলেছে, প্রতিবছর এই দিনকে ‘গ্লোবাল সাপোর্ট ফর প্যালেস্টাইন‘ দিবস হিসেবে পালন করতে।
পঞ্চমত, আইরিন খান নামের এক মহামহিয়সী নারী আছেন, যিনি বাংলাদেশি, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, এখন তিনি জাতিসংঘের ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন বিভাগের স্পেশাল র ্যাপোর্টার, এই প্রথম গাজা ইস্যুতে তার ভয়েস শুনলাম। তিনি আলজাজিরার উত্তর গাজার সাংবাদিক আনাস আল শরিফকে টেররিস্ট বলার প্রতিবাদ জানাইছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেছেন।
সর্বশেষ, আমেরিকার এনভয় স্টিভ উইটকফ গেছেন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলতে। সেটা দেখে, গাজায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা আমেরিকান ডাক্তার এলিডালিস বার্গোস (Elidalis Burgos) তাকে আমন্ত্রণ জানাইছেন যে, তিনি যেন একবার গাজায় এসে ভিজিট করে যান। বেলজিয়াম, জর্দান ও ব্রিটেন অবশেষে ত্রাণ ফালানো শুরু করেছে বিমান দিয়ে। বিবিসি নিউজ করেছে, দেখতে বিষয়টা যত গর্জিয়াস মনে হয়, কিন্তু সংকট কাটানোর জন্য এই পদ্ধতি কাজের না।
যা-ই হোক, যতই মনে হোক গাজা তার শেষ নিঃশ্বাস ফেলছে, আসলে সংকটে ইসরায়েল। ইলান পাপ্পে লিখেছেন, ইসরায়েল খাদের কিনারে পৌঁছেছে। কবি বলেছেন, পা যত ক্লান্ত হয়, মঞ্জিল তত নিকটে এসে দাঁড়ায়।
নাসরুম মিনাল্লাহি ওয়াফাতহুন করিব।




