ইসলামফোবিয়া, মুসলিম-বিদ্বেষী কন্টেন্ট, ইসলামফোবিক টুইট, বিজেপি, ভারত

বিশ্বে ইসলামফোবিয়া ছড়ানোর ক্ষেত্রে শীর্ষে ভারত

পিনাকী ভট্টাচার্য

কানাডার ইসলামিক কাউন্সিল অফ ভিক্টোরিয়া কিছুদিন আগে একটি প্রতিবেদনে জানায় যে টুইটার মুসলিম-বিদ্বেষী কন্টেন্ট মুছে ফেলছে না এবং এই সমস্ত কন্টেন্টের বেশিরভাগেরই উৎসস্থল হলো ভারত।

ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত দুই বছরে ভারতে সর্বাধিক পরিমাণ ইসলামফোবিক টুইট হয়েছে। ওই সময়ে ভারতে মোট ৮৭১,৩৭৯টি ইসলামফোবিক টুইট রেকর্ড করা হয়েছে। পৃথিবীর অন্য কোনও দেশ থেকে ওই সময়ে এতো ইসলামোফোবিক টুইট আসেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ছিলো যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৮৯,২৪৮টি এবং যুক্তরাজ্য থেকে ১৯৬,৩৭৬টি অ্যান্টি-ইসলাম বা অ্যান্টি-মুসলিম টুইট করা হয়।

ভারতে এই ব্যাপক ইসলামফোবিয়ার এক বড় কারণ হচ্ছে শাসনরত ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রচারকে স্বাভাবিক করে তোলা। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির সরকার ভারতে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুসলমান ও ইসলামের উপর প্রতিনিয়ত বিজেপিসহ হিন্দুত্ব দলের আক্রমণ চলছেই। বুলডোজার দিয়ে মুসলমানদের ঘর ভেঙে দেয়া হচ্ছে, গরুর মাংস রাখা বা গোহত্যার “অপরাধে” মুসলমানদের পিটিয়ে মারা হচ্ছে ও নির্দোষ মুসলমানদের মিথ্যা সন্ত্রাসবাদী হামলায় ফাঁসিয়ে বছরের পর বছর জেলে রাখা হচ্ছে।

ফেসবুকেও ইসলাম ও মুসলমানদের উপর আক্রমণ চলছে অনবরত। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, রিপোর্ট করার পরেও ফেসবুকের প্রায় ৯৪% অ্যান্টি-ইসলাম বা অ্যান্টি-মুসলিম কন্টেন্ট ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সরিয়ে ফেলছে না। এই অবস্থায় ফেসবুকে মুসলমানদের টার্গেট করে হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণ বেড়েই চলেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারত, বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের মুসলমানদেরকে আক্রমণ করে যে সব কনটেন্ট দেয়া হয় তার বিরাট একটা অংশে সমগ্র মুসলিম জাতিকে ডিমনাইজ করা হয় এবং কোরাণ সম্পর্কে অবমাননাজনক মন্তব্য করা হয়। হজরত মহম্মদের চরিত্র সম্বন্ধেও নোংরা কথা লেখা হয়। অথচ পশ্চিমী দেশে অনেক অমুসলিমদের মাঝে কিন্তু হজরত মোহাম্মদ এক হিরো, এক আদর্শ চরিত্র এবং পৃথিবীর ইতিহাসে জন্ম নেয়া এক শ্রেষ্ঠ মানুষ।

নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি বছরে প্রায় ২৫,০০০ মানুষ শুধু আমেরিকাতেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছে। যারা ইসলাম কবুল করছে তাদের বেশীর ভাগেরই কথা যে তারা হজরত মহম্মদের জীবনী ও কোরাণ পড়ে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। গার্ডিয়ান পত্রিকার এক রিপোর্টের মতে, ব্রিটেনে প্রতি বছর প্রায় ৫,০০০ জন ইসলাম গ্রহণ করছে।

হিন্দুত্ব গ্রূপের লোকজন ইসলামকে নোংরা ভাষায় আক্রমণ করে, এই ধর্মকে সন্ত্রাসবাদীদের ধর্ম বলে অভিহিত করে। অথচ পশ্চিমী দেশে অমুসলিম যারা ধর্ম পরিবর্তন করছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে সবচেয়ে বেশীই আকৃষ্ট হচ্ছে ইসলামের দিকে। দুই মাস আগে Pew Research Centre এক রিপোর্টে জানিয়েছে যে এখন পৃথিবীতে যে ধর্মটি সবচেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে তা হলো ইসলাম।

এটি স্পষ্ট যে ভারতে ইসলামের বিরুদ্ধে যে সব অপপ্রচার হচ্ছে তা মুলতঃ ভিত্তিহীন। আর, মুসলমান-প্রধান বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের হিন্দুত্ববাদীরা যেসব আক্রমণ করে তা উগ্র ইসলামবিরোধী বা মুসলিমবিরোধী পক্ষপাত থেকেই প্রসূত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top