মুফতি আব্দুল্লাহ নাজিব
কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝে যাদের বুনিয়াদ গড়ে উঠেছে, তাদের অনেক ভাই বর্তমানে ইসলামী দাওয়াহ নিয়ে কাজ করছেন, আলোচনা করছেন, যুগোপযোগী বাখ্যা দিচ্ছেন এবং যুবসমাজকে প্রেরণা দিচ্ছেন। এটি অবশ্যই প্রশংসনীয় একটি বিষয় যে, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই অনেকেই দীনের পথে ফিরে আসছেন, এমনকি আলোচক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন।
তবে কিছু সংস্কারের দিকও রয়েছে যা অগ্রাহ্য করা যায় না।
একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভাই নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে বললেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন যুবকদের দ্রুত বিবাহের দাওয়াত দিতেন। কেউ যদি বলতো, “আমার চাকরি নেই, তাহলে কি করে বিবাহ করবো ও খাওয়াবো?” তখন তিনি বলতেন, সেটি শিরক। তিনি শুধু দাওয়াতই দিতেন না, প্রয়োজনে বিতর্কও করতেন।
এ ধরনের উদাহরণ আরও আছে, যেখানে দীন সম্পর্কে দাওয়াত বা বাখ্যা করতে গিয়ে—
(ক) আংশিক বাখ্যা করা হয়,
(খ) প্রান্তিক বাখ্যা দেওয়া হয়,
(গ) অসম্পূর্ণ জ্ঞানের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়
(ঘ) সম্ভাব্য স্থানে নিশ্চিত বক্তব্য দেওয়া হয়
(ঙ) বিষয়ের সামগ্রিকতা উপেক্ষা করা হয়, ইত্যাদি।
এ কথা বলা বাহুল্য যে, দীনের কোনো বিষয় বা বিধান বিচ্ছিন্ন নয়। প্রতিটি বিষয় ও বিধানের সাথে আরও অনেক বিষয় ও বিধান জড়িত থাকে। একটিমাত্র বিষয় নিয়ে কথা বললে, সেই সম্পর্কিত অন্য বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রেখে কথা বলতে হয়। বিচ্ছিন্নভাবে কথা বললে প্রথমেই মূল বিষয় থেকে বিচ্যুতি ঘটে এবং পরে অন্য সমস্যাও দেখা দেয়। এমনকি ভুলও হয়।
এই কারণে দীনের বাখ্যার যোগ্যতা যাচাই করার সময় গুরুত্বসহকারে দেখা হয় যে, তার বুনিয়াদ কোথায় গড়ে উঠেছে এবং কার হাতে সে প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
যাদের বুনিয়াদ কলেজে সাধারণ কোনো বিষয় নিয়ে গড়ে উঠেছে, তারা যদি পড়াকালীন বা পরবর্তী সময়ে ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা ও শোনা শুরু করেন, তাহলে অবশ্যই কিছুটা লাভ হবে এবং তাদের উচিতও। তবে তাদের ইসলামী বুনিয়াদ কাঙিক্ষতরূপে দৃঢ় হয় না। কারণ কাঙিক্ষত বুনিয়াদ গড়ার জন্য যে সময়, পরিবেশ ও যোগ্যতা প্রয়োজন তা পূর্ণ হয় না। এজন্য তাদের দীনবাখ্যার বুনিয়াদ দুর্বল থাকে। অবশ্য যারা যথাযথভাবে বুনিয়াদ গড়ে তোলেন, তাদের কথা আলাদা।
সমস্যা দেখা দেয় যখন দুর্বল ও অসম্পূর্ণ বুনিয়াদ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা বা বিষয়ভিত্তিক বাখ্যা শুরু হয়। তখন থেকেই সমস্যা ও ভুল ধারণা দেখা দেয়।
তাবলীগ জামাতে অনেক ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার আছেন, যারা আকর্ষণীয় বক্তৃতা দিতে পারেন, মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেন এবং শুনলে ভালো লাগবে। তাদের মধ্যেও যারা সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন না, তারা ভ্রান্তির শিকার হন।
বর্তমানে একই পথে হাঁটছেন এমন অনেক আলোচক, যাদের বুনিয়াদ কলেজেই। পরবর্তীতে ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা করে তারা ভালো আলোচক হয়েছেন। আলোচনা করা দোষের কিছু নয়, তবে প্রত্যাশা থাকবে তারা সীমার মধ্যে থাকবেন। আকর্ষণীয় ও যুগোপযোগী করতে গিয়ে যেন ভ্রান্তির শিকার না হন।




