কবি আব্দুল হক
‘মব’ শব্দের অপপ্রয়োগ হচ্ছে পীড়াদায়কভাবে। শব্দটা যতটা নেতিবাচক, প্রয়োগ হচ্ছে তার চেয়ে বেশি নেতিবাচকভাবে। ‘মব’ মানে মারমুখী জনসাধারণ। খেয়াল করার বিষয় হল, সমবেত জনসাধারণ মাঝেমধ্যে ন্যায়ের জন্যও মারমুখী হয়। শব্দটি বুঝে থাকলে আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না যে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ছিল ‘মব’, এরশাদেরও পতন ঘটিয়েছে ‘মব’, এই অর্থে মুক্তিযুদ্ধও ‘মব’, ইংরেজ খেদাও আন্দোলনও ছিল ‘মব’, এমনকি মানবেতিহাসের সকল বিপ্লব ও সংগ্রাম একেকটি ‘মব’। প্রচলিত আইনের বাইরে গিয়ে জনগণ সমবেতভাবে যা-ই করবে, সেটা ‘মব’।
যেহেতু আইন মেনে কোথাও ইনকিলাব হয় না, তাই ইনকিলাবের একমাত্র তরিকা ‘মব’। অতএব নির্বোধ প্রগতিশীলদের ‘মব মব’ চিৎকারে কান দিয়ে লাভ নেই। ‘মব’ মাত্রই মন্দ নয়। ‘মব’ অনিবার্য। বলা ভালো ‘মব জাস্টিস’─জনগণের ন্যায়বিচার। ওরা শুরুর দিকে ‘জাস্টিস’ জুড়েই বলত, এখন সেটা বাদ দিয়েছে। ওরা মতলববাজ চুশীল। ওরা বদ। বদের হাড্ডি।
আমার মনে হয়, ‘মব জাস্টিস’ বাদ দিয়ে এখন থেকে ‘পপ জাস্টিস’ বলা উচিত। ‘পপুলার’ থেকে ‘পপ’। যেমন ‘পপুলার কালচার’-কে সংক্ষেপে বলে ‘পপ কালচার’। এর ফলে উচ্ছৃঙ্খলতার ভাবটা কেটে যায়, যেটা ‘মব’-এ আছে।
এই ফাঁকে ‘পপুলার’টাও বুঝিয়ে বলি। এর মানে সবসময় ‘জনপ্রিয়’ নয়। ‘পিপল’-এর বিশেষণ ‘পপুলার’। যেমন ‘পপুলার সাপোর্ট’ জনসমর্থন, ‘পপুলার ভোট’ জনগণের ভোট (ইলেক্টোরাল ভোটের বিপরীত), ‘পপুলার বিলীফ’ সামাজিক সংস্কার, ‘পপুলার ট্রেন্ড’ গণপ্রবণতা। সেভাবেই ‘পপুলার জাস্টিস’ বা ‘পপ জাস্টিস’ মানে জনগণের করা ন্যায়বিচার, সংক্ষেপে ‘গণবিচার’।
যা ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেয় তা আইন নয়, বরং এই ‘গণ’। কাজেই ক্রীতদাসমনস্ক চুশীলদের ‘মব মব, আইন গেল আইন গেল’ চিৎকার চুলোয় যাক। লতিফ দণ্ডিত হোক, ফজু পাগলা আটক হোক, হিজড়া রুমিন বহিষ্কৃত হোক, মুখোশপরা র-এর চরেরা জনগণের হাতে ধৃত হোক।
মনে রাখবেন, আজ থেকে আর ‘মব’ নয়, ‘পপ’। ‘মব জাস্টিস’ নয়, ‘পপ জাস্টিস’।




