যখন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে ১৮ জুলাই ঘোষণা হয়। তার আগে আমি যেদিন সাদা জুব্বা লাল রক্তের ইন্টারভিউ দিতে গেলাম, সেদিন রাতে জানতে পারি, ২১ তারিখ যাত্রাবাড়ীতে একটা শহীদী সমাবেশ হবে, সেখানে এই ডকুমেন্টারি দেখানো হবে।
এরপর যখন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি প্রতিরোধ দিবসের দাবিতে প্রাইভেট ঐক্য গঠিত হলো, তারা ১৮ জুলাই ব্রাক ইউনিভার্সিটিসহ অন্যান্য প্রাইভেটের প্রতিরোধের গল্পগুলো তুলে আনতে ১৮ জুলাই দিবস পেল।
এরপরই মূলত স্যোসাল মিডিয়ায় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ দিবস নিয়ে কথা বলা হয়। এরই মধ্যে যাত্রাবাড়ীতে যেহেতু একটা শহীদী সমাবেশ হবে (যেটা প্রথমবার জুলাই ক্যালেন্ডার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত হয়েছিল) আর যাত্রাবাড়ীতেই যেহেতু মাদরাসা শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বেশি প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল। এজন্য সেই শহীদী সমাবেশ-৩ কেই মাদরাসা রেজিস্ট্যান্স ডে হিসেবে জুলাই রেভ্যুলেশনারি এলায়েন্স ফেসবুকে প্রথম আনঅফিশিয়ালি পোস্ট করে প্রচার করে।
কিন্তু শুরু থেকেই আমি ২১ তারিখের পক্ষে ছিলাম না। হাসান ইনাম এবং জুলাই রেভ্যুলেশনারি এলায়েন্সের সালেহ মাহমুদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলি। পুসাবের জাকারিয়া আল মাহফুজের সঙ্গে এবং জুলাই ঐক্যের এবি যুবায়েরের সঙ্গে কথা বলি। এছাড়াও পরিচিত মহলে এ বিষয়ে আলাপচারিতা অব্যাহত রাখি।
আমার বক্তব্য ছিল, ২১ তারিখ দিবস হিসেবে নেয়ার জন্য আমাদের সিগনিফিক্যান্ট কোনো স্টোরি নাই। আমাদের চাওয়া ছিল ১৯ তারিখ। আমার সংগঠন আপ বাংলাদেশকেও জুলাই উদযাপনের ক্যালেন্ডারে ১৯ জুলাইকে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য রিজার্ভ রাখার কথা বলি। কারণ, ১৯ জুলাই মাদরাসা সংশ্লিষ্ট কমপক্ষে ১০জন শহীদ আছেন, আহত হয়েছেন শতাধিক। দিনটি শুক্রবার হওয়ায় জুমার বক্তব্যে আন্দোলনের পক্ষে কথা বলায় অনেক খতিবের চাকরি গেছে৷ এই দিনটি প্রতিরোধকে স্মরণ করার জন্য যুৎসই এবং ইতিহাসমৃদ্ধ।
হাসান ইনাম ও সালেহ মাহমুদ সম্ভবত জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠান-২০২৫ এর আয়োজক কমিটির সদস্য ছিল। সালেহ মাহমুদ বলল, ভাই ১৯ থেকে ২১ পর্যন্ত গণপ্রতিরোধ দিবস৷ আমরা ১৯ জুলাই মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য চেয়েও পাইনি। গণপ্রতিরোধ থেকে স্পেসেফিকলি মাদরাসাকে আলাদা করে দেখতে চাইছে না সরকার। হাসান ইনামও বলল, ভাই আপনারা সংস্কৃতি উপদেষ্টা ফারুকির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে হয়ে যেতে পারে। ফারুকি আপনাদের কনসার্ন নিজে শুনতে আগ্রহী।
তখন আমি প্রতিটা ইসলামি ছাত্র সংগঠন, অন্যান্য সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটা গ্রুপ খুলি। গ্রুপের আলোচনা সাপেক্ষে আমরা মাহফুজ খন্দকারের ইনসাফের অফিসে বসি। এহসানুল হক, হুজায়ফা ওমর, মাহদি ইমামসহ প্রায় প্রতিটা সংগঠন থেকেই প্রতিনিধি ছিলেন। সম্মিলিত বিবৃতি দিবো কিনা আলাপ হলে আলোচনার টেবিলে সমাধানের প্রস্তাব গৃহীত হয়, সেই সূত্রে আমরা ১৯ তারিখ মাদরাসা প্রতিরোধ দিবসের দাবিতে সংস্কৃতি উপদেষ্টার সঙ্গে বসার জন্য ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটা টিম গঠন করি।
পর দিন যখন উপদেষ্টার সঙ্গে বসার শিডিউল চাইলাম, তখন কী বিষয় জানতে চাইলে আমি মাদরাসা প্রতিরোধ দিবসের কথা জানাই। তখন পিএস জানায়, আমার কাছে তো ১৪ জনের একটা টিম অলরেডি এ বিষয়ে এপোয়েন্টমেন্ট নিয়েছে। কারা কারা জানতে চাইলে দেখলাম আমাদের ৮জনের ৫জনই সেই তালিকায় আছে, আমি নাই। (১৪ জনের তালিকা কমেন্টে দেয়া থাকবে)
পরে গ্রুপে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিটিং শুরু হওয়ার ঘন্টা খানেক আগে আমাকেও আসার জন্য বলে। আমি সেই অনাহুত মিটিংয়ে যাবো কি যাবো দ্বিধায় থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই, কিন্তু দিনটি বৃহস্পতিবার হওয়ায় মাঝপথে যেতে না যেতেই সময় শেষ হয়ে যায়। আমি, আবরার কাউসার ও ইউসুফ আহমদ মাঝপথ থেকে ফিরে আসি।
সেই মিটিংয়ের কোনো কিছু অফিসিয়ালি আর ব্রিফ করেনি কেউই। গ্রুপেও কিছু জানানো হয়নি। আমি পার্সোনালি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছিলাম, সংস্কৃতি উপদেষ্টা নাকি উদযাপনের জন্য ২১ জুলাই করার বলেছেন, যেহেতু আগে থেকেই যাত্রাবাড়ীতে শহীদী সমাবেশের বিষয়টা কেবিনেট থেকে পাশ করা। তবে এই দিবসগুলো যখন গেজেট আকারে প্রকাশ হবে, তখন ১৯ জুলাইকে রিয়েল স্টোরির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই করা হবে। আমি এটাকে কেবল আশ্বাস হিসেবেই দেখি।
এরপর শুরু হলো ২১ তারিখের উদযাপন নিয়ে নানান একটিভিটি। কিন্তু আমরা সাধারণ আলেম সমাজ থেকে ১৯ তারিখের পক্ষে অবস্থান নেই, জুলাই ঐক্যও আমাদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে।
সংস্কৃতি উপদেষ্টার সঙ্গে মিটিংয়ে কো-অর্ডিনেটর ছিলেন রফিকুল ইসলাম আইনী। এ পর্যায়ে আমরা গ্রুপ ও অন্যান্য মাধ্যম থেকে জানতে পারলাম, তিনটা জোনে মাদরাসা রেজিস্ট্যান্স ডে পালিত হবে। যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, মোহাম্মদপুর। হাটহাজারীতেও হতে পারে। সব কিছুই ভাসাভাসা শুনছি কেবল। কোনো স্পষ্ট বার্তা পাচ্ছিলাম না। এরই মধ্যে উত্তরা জোনে রফিকুল ইসলাম আইনী মিটিং করে। আমরাও ৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী উদযাপনের মিটিং করি। (মিটিংয়ের রেজুলেশন কমেন্টে পাবেন।)
এরই মধ্যে কো-অর্ডিনেটর রফিকুল ইসলাম আইনীর করা যাত্রাবাড়ী জোনের ৯১ লাখ টাকার একটা বাজেট দেয়ার খবরটি ফ্লাশ হয়ে যায় এবং তিনটি জোন মিলিয়ে প্রায় প্রতিটি জোনেই কাছাকাছি খরচ হতে পারে, এমন ধারণা দেয়া হয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে। এই বাজেট কাদের সঙ্গে কো-অর্ডিনেশন করে তৈরি করেছেন, আমার জানা নাই। অথচ এই প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়েছে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের কাছে।
এজন্য ১৫ জুলাই কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে মাদরাসা রেজিস্ট্যান্স ডে উদযাপনের একটা প্রস্তুতি সভা কল করা হয়৷ সেখানে সচিব-উপসচিব ও প্রশাসন এবং বিভিন্ন কালচারাল বিভাগের সদস্যসহ ৪৮ জন সদস্য ইনভাইটেড ছিলাম। কিন্তু এরই মধ্যে আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা দাবি জানায়, এখানে তাদের প্রতিনিধি নেই। পরবর্তীতে আলিয়ার প্রতিনিধিসহ মিটিংয়ের সদস্য ৫৭ জনে উন্নীত হয়। (৫৭ জনের তালিকা কমেন্টে দেয়া থাকবে)
আমরা মিটিং থেকে জানতে পারি, মাদরাসা রেজিস্ট্যান্স ডে কেবল যাত্রাবাড়ীতেই হচ্ছে। আর কোথাও হচ্ছে না। এখন আমরা যে মাদরাসা ও ইসলামি ছাত্রসংগঠনগুলো মিলে ২০/২৫ জন ছিলাম। তার মধ্যে আমরা যাত্রাবাড়ীর প্রতিনিধি ছিলাম মাত্র ৪ জন। আমি, ইউসুফ, মাকছুদ আর জামিল সিদ্দিকী। আমি বক্তব্য রাখি, এখানে ৩ টি জোনের লোকেরা উপস্থিত। আমাদের মধ্যেও ৩ টি জোনের পরিকল্পনা করে নানান উপকমিটি হয়েছে। (যা যাত্রাবাড়ীর জোন কমিটির রেজুলেশনে দেয়া আছে।) প্রোগ্রাম যদি যাত্রাবাড়ীতেই হয়, তাহলে তো এখানে যাত্রাবাড়ীর সকলে উপস্থিত নেই। আমরা এই ৪ জন তাদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য যথেষ্ট নই।
আমার কাছে এই গ্যাপটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অন্যান্য জোনের ভাইয়েরা যখন জানলেন তাদের জোনে সমাবেশ হচ্ছে না। স্বভাবতই তারা পিছিয়ে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। সেই মিটিং থেকে ৬টা উপকমিটিতে কম-বেশি সবার নাম থাকলেও মূলত যাত্রাবাড়ী থেকে লিস্টেড দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল ৪ জন, দুয়েকটা নাম আমি বলেছিলাম, পরে চার্টে দেখলাম ১জনকে ইনক্লুড করা হয়েছে। তিনি মুফতী ইমামুদ্দীন। বাকিজনের নাম আমি দেখিনি।
৬ টা উপকমিটির অর্থ কমিটিতে কেবল সচিব ও আমলাগণ ছিলেন, আমাদের কোনো প্রতিনিধি ছিল না। (৬টা উপকমিটির তালিকা কমেন্টে দেয়া থাকবে।)
এরপর কয়েক দিন কেটে যায়, ভেন্যু নির্বাচন ও মঞ্চ নির্মাণ কমিটি ছাড়া আর কোনো মিটিং হয় না। আর প্রতিটা উপকমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব ছিল সরকারি লোকজন। ফলে সাংগঠনিক ভিত্তিতে মিটিং কল করা ও ডিসেশন মেকিংয়ে তারাই ছিলেন।
ইতিমধ্যেই ভেন্যু ইবনে সিনা হাসপাতাল সংলগ্ন রাজপথে সিলেক্ট হয়। সেখানে আমাদের তরফে আমি আর আশরাফ মাহদী ছিলাম। আলিয়া থেকে আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ ও আব্দুর রহমান ও আরো কয়েকজন ছিল। এরপর আমরা বেফাকে গিয়ে বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা করি। যেহেতু ভেন্যু নির্ধারণ কমিটিই মঞ্চ নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল। তাই সিদ্ধান্ত হলো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি খুঁজে ফুল প্যাকেজ সার্ভিস নিতে হবে। যেহেতু কালচারাল প্রোগ্রাম। নানান এলিমেন্ট থাকতে হবে। আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে জোড়াতালি দিয়ে করতে পারবো না। আমাদের কোটেশন দিতে বলা হলে আব্দুল্লাহ আল মিনহাজের মাধ্যমে ও সচিবদের আহ্বানে মোট ৪ টি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি দরপত্র দেয়৷ সর্বোচ্চ দরপত্র ২৮ লাখ, সর্বনিম্ন ২১ লাখ। জানতে পারি, সচিবদের পক্ষ থেকে ২১ লাখের দরপত্রের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আমাদের তরফে কারোর হাত নেই। সচিব বনাম কোম্পানীর মধ্যস্থতায় আমরা কেউ ছিলাম না।
সময় কেটে যায়। কাজের অগ্রগতি নেই। হঠাৎ ১৯ জুলাই সংস্কৃতি উপদেষ্টার বরাতে ফের মিটিং কল করা হয়। এজেন্ডা কী? এজেন্ডা ছিল উপকমিটিগুলোর তৎপরতা না থাকা এবং আমাদের উপকমিটির লোকজনের বিভ্রান্তির অবসান। পরে সেই মিটিং হয় অনলাইনে। সেখানে উপদেষ্টা সার্বিকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান করলে সেদিন রাতে জামিয়া মোহাম্মাদিয়া আরাবিয়া (সালাফী মসজিদে) একটি মিটিং হয়। সেখানেও যাত্রাবাড়ীর অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মাঝে শুধু ২০ জুলাই একটা দিন। তার পরের দিন প্রোগ্রাম। এই সময়ে আমরা প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের জন্য দ্বিগ্বিদিক ছুটোছুটি করি। রাত দিন খাটাখাটুনি করে প্রোগ্রামটাকে সফলতার দিকে নিয়ে যাই।
আমরা ১৯ জুলাই মধ্যরাতে আমি, আশরাফ মাহদী, মুহিম মাহফুজ, মুফতি ইমামুদ্দিনসহ উপস্থিত অনেকের সম্মিলিত পরামর্শে টোটাল ৩৬ লাখ টাকার একটা খসড়া বাজেট পেশ করি, যা পরদিন ২০ জুলাই সচিবালয়ে দেখালে তারা এই বাজেট দিতে পারবে বলে না সাফ জানিয়ে দেয় এবং একপ্রকার হেয়প্রতিপন্ন করে।
কালকে আমাদের প্রোগ্রাম অথচ আজ বার্গেনিং করতে হচ্ছে৷ আবার প্রোগ্রাম বর্জনেরও সুযোগ নেই। অলরেডি আমার দেশ নিউজ করেছে যে, গণঅভ্যুত্থানে কওমি শিক্ষার্থীদের অবদান রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাচ্ছে। কত মানুষের কত আশা। তবুও আমরা কয়েকবার বলি আমরা নাই, আপনারাই যা করার করেন। আমরা আমন্ত্রিত অতিথির ভূমিকা পালন করবো।
আমরা দুইটি খাতে (স্বেচ্ছাসেবক ও শহীদ পরিবারেরর আপ্যায়ন এবং শিল্পী-উপস্থাপক সম্মানী) অর্থ বরাদ্দ পাই এবং অগ্রিম হিসাবে ২ লাখ টাকা দেয়া হয়। সচিবালয়ে টাকা নেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন আশরাফ মাহদী ও মুহিম মাহফুজ। এই দুই লাখ টাকা পুরাটাই মুফতি ইমামুদ্দীন সাহেবের হাতে তুলে দেই। যেহেতু তিনিই স্বেচ্ছাসেবক ও আপ্যায়নের প্রধান দায়িত্বশীল। তার কেনাকাটা আছে অনেক৷
২০ জুলাই রাতে স্থানীয় ইমাম মুয়াজ্জিন ও হেফাজতের নেতৃত্ববৃন্দের সঙ্গে আমাদের মিটিং হয়। তাদের উদাত্ত সাড়া পেয়ে আমরা আশ্বস্ত ও নির্ভার হই।
পর দিন ২১ জুলাই প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার আগেই ২টা থেকে বার বার জানানো হয়, জাতীয় দুর্যোগের কারণে প্রোগ্রাম ক্যানসেল করতে হবে৷ আমরা তবুও দুর্ঘটনায় শহীদ শিশুদের প্রতি দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করি এবং পরে অর্ধেক অনুষ্ঠান সমাপ্ত করি। প্রোগ্রামের দিন উপরের দুই খাতের জন্য আরও ৪ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। আমরা বলেছিলাম এই ৪ লাখে হবে না, কিন্তু তারা এর বেশি আমাদেরকে দেয় না। আশরাফ মাহদীও অনেক কথা বলল, কিন্তু কাজ হলো না।
এই মোট ৬ লাখ টাকা আমরা হাতে পাই, যা আমি জুলাই উদযাপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আমরা হিসাব প্রদান করেছি। কে কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় করেছে এবং কে অর্থ গ্রহণ করেছে সব লিপিবদ্ধ আকারে দেয়া হয়েছে। সেখানে কিছু অপরিশোধিত বিল ছিল, যা পরবর্তীতে সচিবালয় থেকে আমাদের কওমির ভাইদের টাকা পরিশোধ করা হলেও আলিয়ার ভাইদেরটা আমাদের হাতে আর দেয়া হয়নি।
এই ছিল ২১ তারিখের প্রোগ্রামে আমার যুক্ত হওয়া হওয়ার আদ্যোপান্ত ইতিহাস৷ আমি নির্মোহ সত্য উপস্থাপন করেছি৷ এর বাইরে আর কোনো ইন্টারনাল সত্য নেই। দেখলাম, আমি হিসাব দেয়ার পর অনেকে আমার প্রতি ভিন্ন এক কারণে প্রশ্ন তোলা শুরু করে এবং সাধারণ আলেম সমাজকে নিয়েও কথা বলে। আমার ব্যক্তিগত কারণে সংগঠনকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা না-ইনসাফি। আশরাফ মাহদী এনসিপি এবং মুহিম মাহফুজ আমার দেশের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। সভার নোটিশগুলোতেও তাদের এই পরিচয় লেখা ছিল।
আমি একা আয়োজক ছিলাম না। সবার সম্মিলিত পরামর্শেই ২১ তারিখের প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন হয়েছে। কোনো প্রক্রিয়ায় আমি একা কোনো ডিসিশন মেইক করিনি, কিন্তু শতভাগ দায় কেবল আমাকে নিতে হয়েছে। অথচ সে সময় অন্যান্য আয়োজকরা ফেসবুকে এই আলোচনা না এনেও গ্রুপগুলোতে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারতেন। এজন্য আমি খুব ব্যথিত ছিলাম।
(২য় পর্ব)
আমি দ্বিতীয় পর্বটি হয়ত লিখতাম না। যদি সাধারণ আলেম সমাজকে নিয়ে লেখা কমেন্টের স্ক্রিনশটটি আজ চোখে না পড়ত। আমি দ্বিতীয় পর্বটি শুরু করতে চাই প্রথম পর্বের শেষ থেকে। যেমনটি আমি বলেছিলাম, ২১ তারিখের আয়োজনে আমি একা আয়োজক ছিলাম না। সবার সম্মিলিত পরামর্শেই ২১ তারিখের প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন হয়েছে। কোনো প্রক্রিয়ায় আমি একা কোনো ডিসিশন মেইক করিনি, যদিও শতভাগ দায় কেবল আমাকে নিতে হয়েছে। অথচ সে সময় অন্যান্য আয়োজকরা এ ব্যাপারে ওয়াজাহাত করলে বিষয়টার হয়ত নিষ্পত্তি হয়ে যেত। এজন্য আমি খুব ব্যথিত ছিলাম।
এই কারণে আমি ৪ তারিখের পুনঃআয়োজনে দায়িত্বশীল জায়গা থেকে সরে আসার ঘোষণা দেই। তবে সবাই থাকলে সহযোগী ভূমিকায় থাকবো, সম্ভব হলে প্রোগ্রামে উপস্থিত হবো কিংবা না হলে উপস্থিত হবো না, এমনটাই ছিল আমার অবস্থান।
২১ তারিখের প্রোগ্রাম যেহেতু কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ আয়োজন করেছে, এবারও তারাই করবে, এমনটা আমাদের জানা ছিল। এ বিষয়ে আমরা প্রথম জানতে পারি ৩০ জুলাই ২০২৫ সকাল ১১ টায়। তারা একটি মিটিং কল করে, সেখানে মাদরাসা রেজিস্ট্যান্স ডে এর অর্ধসমাপ্ত আয়োজন ৪ তারিখ পুনঃআয়োজন হবে, সেটা সভার নোটিশেই লেখা থাকে। নোটিশে সদস্যদের নাম লেখা থাকে ৩৪ জনের। আমাদের তরফ থেকে উপস্থিত থাকি আমি, আশরাফ মাহদী, মুহিম মাহফুজ, মুফতি ইমামুদ্দিন ও কলরবের বদরুজ্জামান। আলিয়ার তরফে থাকে আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ। বাকি সবাই ছিল সরকারি কর্মকর্তাগণ।
মিটিংয়ে গোলাপবাগ মাঠে সিদ্ধান্ত হয়। যদিও ২১ তারিখের প্রোগ্রামও গোলাপবাগ মাঠে করার ব্যাপারে আমিই বলেছিলাম, এই প্রোগ্রাম যাত্রাবাড়ীর রাজপথে করতে হবে। এবার পুনঃআয়োজন রাস্তা অবরোধ করে আয়োজন করতে চায় না। তাই সকলের ঐকমত্যে গোলাপবাগ মাঠে সিদ্ধান্ত হয়।
এই প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, কারা থাকবে কমিটিতে, এমন প্রশ্ন সামনে আসলে জানানো হয়, আগের ৬টি উপকমিটির যে সব কমিটিতে এবার লাগবে, সে সব উপকমিটিই থাকবে বাস্তবায়নে।
আমি যখন দায়িত্বের জায়গা থেকে সরে দাঁড়ালাম। সাহস করে অন্য কেউ আর দায়িত্ব নিতে চায়নি। ফলে কেউ এটাও স্বীকার করতে পারছিল না যে, আমি ৩০ জুলাইয়ের মিটিংয়ে ছিলাম।
সময় ঘনিয়ে আসে। কোনো কার্যক্রম আগায় না। কেউ দায়িত্ব নেয় না। এমনকি শেষ পর্যন্ত কেউই দায়িত্ব নেয়নি। আমিও না। আমি আমার জানার পরিধি থেকে ৪ তারিখ প্রোগ্রামের সকল বাস্তবতা তুলে ধরছি।
২ আগস্ট মুফতি ইমামুদ্দীন সাহেবের আহ্বানে স্থানীয় হেফাজতের কিছু নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমরা আলোচনা করি। তারা এবারও আমাদের আশ্বস্ত ও অভয় দেয় যে, এগিয়ে যান। আমরা আছি। মানুষের কাজই হচ্ছে বলা। কাজের মানুষ কাজ করে যায়।
এরপরে যেসব শিক্ষার্থীরা দ্বিধাগ্রস্ত ও বিভ্রান্তিতে ছিল, তাদের উদ্দেশ্যে গ্রুপে বার্তা দেয়া হয়, বসতে বলা হয়। আমি সেখানেও আমার অবস্থান ক্লিয়ার করি যে, এবার আমি দায়িত্বশীল জায়গায় থাকতে পারবো না। সহযোগী ভূমিকায় থাকবো।
উপস্থিত সকলে প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে নাম লেখায়। রাতে গিয়ে গোলাপবাগ মাঠে ছবি তোলে। এই মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন মুফতি সাকিবুল ইসলাম কাসেমি, মুফতি ইমামুদ্দিন ও আমিসহ স্থানীয় শিক্ষার্থী প্রতিনিধি।
পর দিন সকাল ১১ টায় সচিবালয় থেকে অতিরিক্ত সচিব সাইফুল ইসলাম সাহেবের সামনে থেকেই আশরাফ মাহদী আমাকে জানায়, আমাদের দেয়া ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট দায়িত্ব পেয়েছে। আমি আসলে ক্লিয়ার ছিলাম না যে, কোন কোম্পানী দায়িত্ব পেয়েছে? কারণ, আমার জানামতে মুফতি ইমামুদ্দিন সাহেব মারফত একটি দরপত্র দেয়া হয়েছে আর দুটি দেয়া হয়েছে মুহিম মাহফুজের মারফতে৷
একটু পর আশরাফ মাহদী শিউর হয়ে জানায়, মুফতি ইমামুদ্দিন সাহেবের দরপত্র ২১ লাখে ফাইনাল হয়েছে, যা সরকারি ভ্যাট-আইটি কাটার পর ১৮ লাখ টাকা কোম্পানী পাবে।
এর ঘন্টাখানেক পর আশরাফ মাহদীর পোস্টের মাধ্যমে জানতে পারি, সে এই প্রোগ্রামের সাথে নাই ঘোষণা দিয়েছে। এটা কেন? আমি আজও ক্লিয়ার না। সেদিন অনেকবার কল দিয়েও তাকে ফোনে পাইনি।
৩ আগস্ট সন্ধ্যায় কলরবের বদরুজ্জামান মুফতি ইমামুদ্দিন সাহেবকে কল দিয়ে জানায়, আমরা এই প্রোগ্রাম ১৬ লাখ টাকায় করে দিতে পারবো, কিন্তু ততক্ষণে সচিবদের সঙ্গে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানীর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যেটা উইথড্র করা সম্ভব না এই কারণে যে, তারা অলরেডি মাল-সামনা আনা শুরু করে দিয়েছিল৷
পরদিন ৪ তারিখ অনেক চড়াই উৎড়াইয়ের মধ্য দিয়ে সফলভাবে প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন হয়, আলহামদুলিল্লাহ। মুফতি ইমামুদ্দিন সাহেবের কাছে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দেয় স্বেচ্ছাসেবক ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। যা ইতিমধ্যেই মুফতি ইমামুদ্দিন সাহেব সকলের কাছে হিসাব অবমুক্ত করেছেন। আর শিল্পীদের সম্মানী সচিবদের নিয়োজিত লোক অনুষ্ঠানস্থল থেকেই স্বাক্ষর নিয়ে নিয়ে প্রদান করেছেন। ৩০ জুলাই মিটিংয়ে আমরা যে বাজেট ধারণা দিয়েছিলাম, সেটা তারা রাখেনি; বরং নিজেদের মতো করে কাকে কত সম্মানী দিবে, একটা লিস্ট তৈরি করে বাজেট রেডি করেছে। (কমেন্ট বক্সে ছবি দেয়া থাকবে)
আমার জানামতে, ৪ তারিখের প্রোগ্রামে আমাদের সঙ্গে আর কোনো অর্থ সংশ্লেষের বিষয় ছিল না। আমার মাধ্যমে ৪ প্রোগ্রামের কোনো অর্থ লেনদেন হয়নি, কোনো প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা ছিল না। আর এই প্রোগ্রামটিতে সাধারণ আলেম সমাজও যুক্ত ছিল না। সাধারণ আলেম সমাজের অফিসিয়াল পেজে ২১ বা ৪ তারিখ কোনোটার ব্যাপারে পোস্ট দেয়া হয়নি। সাধারণ আলেম সমাজ মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ স্মরণে শহীদ খুবাইব মসজিদে ১৯ জুলাই দোয়ার আয়োজন করেছিল।
জাযাকুমুল্লাহ।




