মুহম্মদ জিয়াউল হক
যেসব কারণে আমরা মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের বিরোধিতা করছি-
মূলত গুরুত্বপূর্ণ ৪’টি কারণে আমরা ঢাকায় মানবাধিকার কার্যালয়ের মিশন চালুর বিরোধিতা করছি-
১. সার্বভৌমত্বগত সমস্যা
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় দেশের অভ্যন্তরীণ নানান বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে। পররাষ্ট্রনীতিতে আমাদের স্বকীয়তা থাকবে না। মানবাধিকার কার্যালয়ের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদে পার্বত্য চট্টগ্রাম অস্থিতিশীল হবে। পাহাড়ের স ন্ত্রা সী ও বি চ্ছি ন্নতাবাদীরা আরো বেশি সক্রিয় হয়ে উঠবে। দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্র পরিবর্তন তথা পরিকল্পিত ই হু দী বাদী খ্রি স্টা ন রাষ্ট্র গঠন তরান্বিত হবে। ইত্যাদি।
২. মূল্যবোধগত সমস্যা
জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কার্যালয় এল জি বি টি কিউ (স ম কা মি তা, ট্রান্সজন্ডার ইত্যাদি) এবং পতিতাবৃত্তির স্বীকৃতি ও ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করে থাকে। যা বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক মূল্যবোধ ও প্রচলিত আইনের সাথে সাংঘর্ষিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষা সিলেবাসেও তারা এসব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করতে সরকারকে চাপ প্রয়োগ করবে। যার কারণে আমরা শিক্ষার্থীরা খুবই উদ্বিগ্ন।
৩. আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণ
যেসব দেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপিত হয়েছে সেসব দেশের আন্তর্জাতিক স্ট্যাটাস অত্যন্ত নিম্বমানের। বাংলাদেশে এই অফিস স্থাপিত হওয়ায় দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিকট বিব্রতকর অবস্থায় পড়বে! সাধারণত যু দ্ধ বিদ্ধস্ত ও চরম অস্থিতিশীল দেশগুলোতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপিত হয়ে থাকে। অথচ বাংলাদেশ ওরকম কোনো অবস্থায় নেই।
৪. মৃ ত্যু দ ণ্ডের শা স্তি হ্রাস
ধ/র্ষ/ক কিংবা খু/নী যাদের শা স্তি বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে মৃ ত্যু দ ণ্ড হতে পারে, এসব অপরাধীদের মৃ ত্যু দ ণ্ড স্থগিত করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস থেকে সরকারের উপর চাপ আসবে। ফলে দেশে অপরাধ প্রবণতা বাড়বে এবং ফরীয়াদীরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবে!
জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের কর্মকাণ্ড দেশের নানান সেক্টরে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরী করবে। এজন্য আমরা এর প্রতিবাদে মাঠে নেমেছি।
লেখক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী




