জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশন, জাতিসঙ্ঘ,

মানবাধিকার না পরিবারবিনাশ? জাতিসঙ্ঘের প্রজেক্টে কর্মরত গবেষকের চোখে বাস্তবতা

নুরুল্লাহ তারিফ

লেবাননের “ত্রিপোলি ইউনিভার্সিটি”-তে পিএইচডির একটি গবেষণা হয়েছে। গবেষণাটির শিরোনাম হচ্ছে: : المواثيق الدولية وأثرها في هدم الأسرة (আন্তর্জাতিক সনদসমূহ এবং পরিবার ধ্বংসে এসব সনদের প্রভাব)। এই গবেষণায় জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের পরিবারধ্বংসী এজেন্ডা তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে সাব্যস্ত করা হয়েছে। গবেষক নিজে সরাসরি জাতিসঙ্ঘের প্রজেক্টগুলোতে কাজ করেছেন এবং এ ব্যাপারে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার মিশন নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। তার গবেষণার সাথে সম্পৃক্ত এ মিশনের দুটো বিধ্বংসী এজেন্ডা তিনি তুলে ধরেছেন। পরিবার ধ্বংসে জাতিসঙ্ঘের এ অফিস দুইভাবে কাজ করে।

১। যুবকদেরকে বিয়েতে নিরুৎসাহিত করা যাতে করে নতুন নতুন পরিবার গড়ে না ওঠে। এই এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হয় নিম্নোক্ত উপায়গুলোর মাধ্যমে:
– সাধারণভাবে বিয়েকে কঠিন করে তোলা।
– কম বয়সে বিয়েতে বাধা দেয়া।
– বিয়ে বর্হিভূত যৌনতায় উৎসাহিত করা।
– পতিতাবৃত্তিকে বৈধতা দেয়া এবং এটাকে আইনী ও সামাজিক সুরক্ষা দেয়া।
– সমকামিতা বা বিকৃত যৌনতাকে বৈধতা দেয়া এবং এটি চর্চা করার জন্য আইনী ও সামাজিক সকল সাপোর্ট সুলভ করা।

২। প্রতিষ্ঠিত পরিবারগুলোকে ধ্বংস করা। এটি বাস্তবায়ন করা হয় নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীকে সম্পূর্ণভাবে পুরুষ থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার মাধ্যমে। এর জন্য নিম্নোক্ত উপায় গ্রহণ করা হয়:
– পরিবারের অভ্যন্তরে নর-নারীর সহজাত প্রকৃতিগত যে দায়-দায়িত্ব রয়েছে সেগুলোর আমূল পরিবর্তন করার মাধ্যমে।
– সে দায়-দায়িত্বের ক্ষেত্রে পুরুষের কর্তৃত্বের বদলে অংশীদারিত্ব ও পূর্ণ অর্ধাংশের হিস্যা প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে।
– নারীকে ঘরের বাইরে চাকরির দিকে ঠেলে দেয়ার মাধ্যমে। বিশেষতঃ যে সেক্টরগুলো পুরুষদের জন্য যথাযথ।
– দায়-দায়িত্ব ও আইন-কানুনে নর-নারীর পূর্ণ সমতা নিশ্চিত করা এবং কোন ধরণের পার্থক্যকে “নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা” হিসেবে গণ্য করা। এরপর যে সব আইন-কানুন নর-নারীর দায়-দায়িত্ব ও বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতাকে বিবেচনা করে সেগুলোকে পরিবর্তন করা। যেমন: স্বামীর কর্তৃত্ব, উত্তরাধিকার সম্পত্তি, অভিভাবকত্ব, মোহরানা, একাধিক বিবাহ, স্বামীর তালাক দেয়ার অধিকার এবং মুসলিম নারীর অমুসলিম পুরুষের সাথে বিবাহ ইত্যাদি।

– স্ত্রীর অসম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক করাকে স্বামীর ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা। এভাবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে সংঘাতময় সম্পর্কে পরিণত করা। যা পরিবারিক ভিত ভেঙ্গে পড়া বা ধ্বংস হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

এ গবেষণার ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সেটি হলো: জাতিসঙ্ঘের সনদগুলোর আরবী অনুবাদের উপর আস্থা না রাখা। কারণ তারা অনেক ইংরেজী পরিভাষার মর্মকে আরব সমাজে সহজে চালিয়ে দেয়ার জন্য অপরিচিত শব্দের মোড়কে মর্মকে লুকানোর চেষ্টা করে। একই কথা হয়তো অন্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ভিত্তিক সমাজের ভাষার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।

লেখকের ফেসবুক পোস্ট থেকে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top