ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলার মূল্যায়নের পর মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ)-এর পরিচালক জেফ্রি ক্রুজকে বরখাস্ত করেছেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। বিষয়টির সাথে পরিচিত দুই সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বৃহত্তর বরখাস্ত অভিযানের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ডিআইএ কর্তৃক ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় গত জুনে চালানো হামলার মূল্যায়ন প্রকাশের পরই বরখাস্তের ঘটনা ঘটে। সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা কেবল কয়েক মাসের জন্য হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু হেগসেথ ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সক্ষমতা “সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস” হয়েছে। সিএনএন ও নিউইয়র্ক টাইমস এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর প্রশাসনের ভেতর ক্ষোভ তৈরি হয়।
আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রুজকে বরখাস্তের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে “আস্থা হারানো”—যে শব্দগুচ্ছটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে অপসারণের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করেছেন হেগসেথ।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাকে পদ থেকে সরিয়েছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল চার্লস “সিকিউ” ব্রাউন, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রাঞ্চেটি, কোস্ট গার্ডের কমান্ড্যান্ট লিন্ডা ফ্যাগান এবং বিমান বাহিনীর ভাইস চিফ অফ স্টাফ জেনারেল জেমস স্লাইফ। বিমান বাহিনীর প্রধান জেনারেল ডেভিড অ্যালউইনও গত সপ্তাহে অবসরে যেতে বাধ্য হন।
একইসাথে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলির নেতৃত্বেও বরখাস্তের ধারা চলছে। গত এপ্রিলে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) এবং সামরিক সাইবার অপারেশনস কমান্ডের প্রধান জেনারেল টিমোথি হোগ ও তার ডেপুটি ওয়েন্ডি নোবেলকে পদ থেকে সরানো হয়। তাদের অপসারণের জন্য অতিদক্ষিণপন্থী কর্মী লরা লুমার প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তুলসি গ্যাবার্ডের নেতৃত্বে জাতীয় গোয়েন্দা অধিদপ্তরও সম্প্রতি জাতীয় গোয়েন্দা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মাইকেল কলিন্স ও তার ডেপুটিকে অপসারণ করেছে। ওই কাউন্সিল এক মূল্যায়নে ট্রাম্পের ‘এলিয়েন শত্রু আইন’ প্রয়োগ এবং অভিযুক্ত ভেনেজুয়েলার গ্যাং সদস্যদের বিচার ছাড়াই নির্বাসনের যুক্তির বিরোধিতা করেছিল।
সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট




