১০০টিরও বেশি মার্কিন সংগঠন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠি লিখে অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে ১৬ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি-আমেরিকান কিশোর মোহাম্মদ জাহেরের, যিনি ছয় মাস ধরে ইসরাইলি কারাগারে বন্দী। তাকে পশ্চিম তীরের সিলওয়াদ গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৫।
চিঠিতে সংগঠনগুলো জোর দিয়ে বলেছে, মোহাম্মদের স্বাস্থ্য দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং আমেরিকান নাগরিক হিসেবে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দায়িত্ব। তারা মার্কিন প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছে যেন ফিলিস্তিনি-আমেরিকানসহ সব মার্কিন শিশুদের নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নেয়।
মোহাম্মদ জাহের হলেন সাইফুল্লাহ মুসলাতের চাচাতো ভাই, যাকে গত মাসে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা হত্যা করেছিল। পরিবার জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর মোহাম্মদকে হাতকড়া ও চোখ বাঁধা অবস্থায় ইসরাইলের মেগিদ্দো কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পাথর নিক্ষেপের অভিযোগে বিচার ছাড়াই আটক রাখা হয়। তবে এই অভিযোগ পরিবার দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।
কারাগারে ছয় মাসের মধ্যে মোহাম্মদের ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং তার ত্বকে গুরুতর সংক্রমণ (স্ক্যাবিস) দেখা দিয়েছে। পরিবার জানিয়েছে, আটক অবস্থার কষ্টকর পরিবেশে তারা দীর্ঘ সময় ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।
তার বাবা জাহের ইব্রাহিম, যিনি পরিবার নিয়ে ফ্লোরিডার পাম বে ও সিলওয়াদের মধ্যে থাকেন, সন্তানের মুক্তির জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করছেন। আটকের প্রথম দিকে টানা ৪৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে কোনও যোগাযোগ না থাকার পর তিনি রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক হ্যারিডোপোলোসসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার দ্বারস্থ হন।
মোহাম্মদ বর্তমানে ইসরাইলি সামরিক কারাগারে আটক শত শত ফিলিস্তিনি শিশুর একজন। শিশু অধিকারকর্মীরা বলেন, মার্কিন নাগরিকত্ব থাকলেও সামরিক বিচার ব্যবস্থায় এর প্রায় কোনও সুরক্ষা নেই। ফলে ন্যায্য বিচার বা নিয়মিত পারিবারিক সাক্ষাৎ ছাড়াই বহু নাবালককে দীর্ঘ সময় ধরে আটক রাখা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা মুবাশ্বির




