ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে মার্কিন প্রশাসন ‘বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপন করলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন—এমনটাই মনে করে প্রভাবশালী মার্কিন অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের সম্পাদকীয় বোর্ড। তারা সতর্ক করে বলেছে, এই চুক্তিগুলো আসলে সব পক্ষের জন্যই একটি ‘ক্ষতি ও পরাজয়ের চুক্তি’, যা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে দেবে আমেরিকার নিজস্ব অর্থনীতিকে।
সম্পাদকীয় বোর্ডের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় মার্কিন বাজারে বেশিরভাগ রপ্তানির ওপর ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু ছাড় দেওয়া হলেও সেটি মূলত একটি উন্মুক্ত বাণিজ্য যুদ্ধের পর্দা টানার মতো ব্যাপার। মার্কিন প্রশাসন এটিকে ‘আধিপত্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা’ বলে দাবি করলেও বাস্তবতায় এটি দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকার জন্য ব্যুমেরাং হয়ে উঠতে পারে।
ব্লুমবার্গ খোলাখুলিভাবে বলেছে—শুল্ক মানে কর, আর এই কর পরিশোধ করবেন আমেরিকান ভোক্তারাই। ফলে, পণ্যের খরচ বাড়বে, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে, যার বোঝা বহন করতে হবে সাধারণ জনগণকে। শুধু তাই নয়, আমদানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদকদের প্রতিযোগিতার চাপও কমে যাবে, যা তাদের উদ্ভাবনের গতি কমিয়ে দেবে এবং দাম বাড়ানোর সুযোগ করে দেবে।
এই অবস্থাকে ব্লুমবার্গ একটি ‘অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্বলতার’ ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছে। তারা বলছে, ইউরোপ এবং জাপানের সরকারগুলোর মার্কিন শর্ত মেনে নেওয়া রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াবে। একে কেবল কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখলে তা হবে এক মারাত্মক ভুল।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন দাবি করেছেন যে চুক্তিটি ইউরোপীয় ভোক্তা ও উৎপাদকদের জন্য ‘স্থিতিশীলতা ও পূর্বাভাসযোগ্যতা’ ফিরিয়ে আনবে। তবে ব্লুমবার্গের মতে, যদি ভবিষ্যতেও প্রতিটি বিরোধে মার্কিন পক্ষ শাস্তিমূলক শুল্ক বা নিরাপত্তা সহযোগিতা বন্ধ রাখার হুমকি দেয়, তাহলে সেই তথাকথিত ‘স্থিতিশীলতা’ একটি মরীচিকা হিসেবেই প্রমাণিত হবে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিকটি হচ্ছে—এই কৌশলকে প্রশাসন ‘সফলতা’ হিসেবে বিবেচনা করলে তা নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এমন এক আত্মতুষ্টি তৈরি করবে, যেখানে ভবিষ্যতে সাবেক মিত্রদের সাথেও কেবল সম্মতির ভিত্তিতে নয়, চাপ প্রয়োগের মাধ্যমেই সম্পর্ক গঠনের প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
ব্লুমবার্গ তাদের তীক্ষ্ণ উপসংহারে লিখেছে, ‘ব্যঘাতের মাধ্যমে ক্ষমতা প্রয়োগ একটি আত্ম-পরাজিত কৌশল। আজ হোক বা কাল, এটি বেদনাদায়কভাবে পরিষ্কার হয়ে উঠবে।’
সূত্র : ব্লুমবার্গ




