আটলান্টায় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) সদর দপ্তরে সাম্প্রতিক বন্দুক হামলার কয়েক সপ্তাহ পর শত শত ফেডারেল স্বাস্থ্যকর্মী মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা (এইচএইচএস) সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তাকে অনুরোধ করা হয়েছে, যেন তিনি জনস্বাস্থ্য নিয়ে “ভুল তথ্য ছড়ানো বন্ধ করেন”।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, কেনেডি সিডিসিকে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিত্রিত করে কর্মীদের সততা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এর ফলে জনসাধারণের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে। কর্মীদের মতে, তার নীতি—যার মধ্যে হাজার হাজার এইচএইচএস কর্মীর ছাঁটাইও রয়েছে—সংক্রামক রোগ সনাক্তকরণ, কর্মী সুরক্ষা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধে বিপজ্জনক শূন্যতা সৃষ্টি করছে।
স্বাস্থ্যকর্মীরা বলেন, জনস্বাস্থ্য কর্মীদের প্রতি ইচ্ছাকৃতভাবে আস্থা নষ্ট করা মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তারা উল্লেখ করেন, হামের টিকা নিয়ে কেনেডির মিথ্যা দাবি রোগটির প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্যের প্রতিক্রিয়াকে দুর্বল করেছে। সিডিসি সদর দপ্তরে সাম্প্রতিক বন্দুক হামলাকেও তারা স্বাস্থ্য সচিবের কথার কারণে সৃষ্ট বিপদের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছেন।
গত ৮ আগস্ট কোভিড-১৯ টিকার প্রতি অবিশ্বাসী এক বন্দুকধারী সিডিসি সদর দপ্তরে গুলি চালিয়ে ৩৩ বছর বয়সী পুলিশ অফিসার ডেভিড রোজকে হত্যা করে এবং পরে আত্মহত্যা করে।
প্রতিক্রিয়ায় এইচএইচএস এক বিবৃতিতে জানায়, সচিব কেনেডি সিডিসি কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
কেনেডির বিরুদ্ধে আগে থেকেই টিকা সংক্রান্ত ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালে সামোয়া সফরের কয়েক মাস পর দেশটিতে হামের প্রাদুর্ভাবে ৮১ জন মারা যায়, যাদের বেশিরভাগই শিশু। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি এমআরএনএ ভ্যাকসিন গবেষণার জন্য বরাদ্দ কয়েক কোটি ডলারের তহবিল বাতিল করেছেন, যা জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অফ পাবলিক হেলথের মতে, কোভিড-১৯-এ মৃত্যুহার কমানো ছাড়াও ক্যান্সার ও এইচআইভি চিকিৎসায় সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।
এদিকে, সাবেক সিডিসি পরিচালক (১৯৭৭–১৯৮৩) উইলিয়াম ফোয়েজ এক নিবন্ধে স্বাস্থ্যকর্মীদের “পিছু না হটার” আহ্বান জানিয়েছেন। গুটিবসন্ত নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, কেনেডির বক্তব্য গুটিবসন্ত ভাইরাসের মতোই মারাত্মক হতে পারে। তার ভাষায়, “আমেরিকানরা আরও ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য।”
সূত্র : আল জাজিরা




