মিশরে ভূগর্ভে ডুবে যাওয়া শহর ও ফেরাউনের গৃহ আবিষ্কার!

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ক্লিপগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিশরের ভূগর্ভে এক শহর ও ফেরাউন যুগের গৃহ আবিষ্কার হয়েছে। উত্তেজনাপূর্ণ এসব দৃশ্য লক্ষ লক্ষ ভিউ অর্জন করলেও, এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভিডিওতে কী দেখা গেছে

“একটি ভূগর্ভস্থ ফেরাউনের গৃহ অন্বেষণ” শিরোনামের একটি ভিডিওতে সবুজ ইউনিফর্ম পরা ব্যক্তিদের ভূগর্ভস্থ টানেলে কফিন ও প্রাচীন নিদর্শন পরিদর্শন করতে দেখা যায়। মাত্র ১০ দিনেই ভিডিওটি ১১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি ভিউ পেয়েছে। কেউ এগুলোকে গিজা পিরামিড এলাকার সাথে যুক্ত করেছেন, আবার কেউ বলেছেন আলেকজান্দ্রিয়ার ডুবে যাওয়া শহরের নিদর্শন এগুলো। অন্যরা দাবি করেছেন, ইয়েমেনের হাদরামাউতে হারিয়ে যাওয়া এক সভ্যতার চিহ্ন এগুলো।

তদন্তে যা জানা গেল

আল জাজিরার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভিডিওগুলো মূলত সিনেমাটিক ভিজ্যুয়াল প্রোডাকশনের উপর ভিত্তি করে বানানো, যেখানে রহস্যময় সঙ্গীত ও বিশেষ এফেক্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো বিভিন্ন ভাষায়—আরবি, ইংরেজি, স্প্যানিশ ও বাংলা—প্রচারিত হয়েছে, যা দ্রুত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করেছে।

ডিপফেক সনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রমাণ মিলেছে, ভিডিওগুলো আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি। এগুলো ১৩ থেকে ১৭ আগস্টের মধ্যে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। “গ্লিন্ট গেজ” নামের একটি টিকটক অ্যাকাউন্টকে এ ভিডিওগুলোর মূল উৎস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে অ্যাকাউন্টটি ৯০টিরও বেশি এআই-নির্ভর ভিডিও প্রকাশ করেছে, যার সবই প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতাকে ঘিরে তৈরি।

আসল প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার

ভুয়া ভিডিওগুলোর প্রচারের সময়ই মিশরে একটি সত্যিকারের প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার ঘটে। ২১ আগস্ট মিশরের পর্যটন ও পুরাতত্ত্ব মন্ত্রণালয় জানায়, ভূমধ্যসাগরের গভীর থেকে তিনটি অনন্য নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে।

নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে—

রাজা দ্বিতীয় রামসেসের কার্টুচ খোদাই করা স্ফিংস-আকৃতির কোয়ার্টজ মূর্তি,
শেষ টলেমীয় যুগের এক অজ্ঞাত ব্যক্তির ভাঙা গ্রানাইট মূর্তি,
এক রোমান সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির সাদা মার্বেল মূর্তি।

পুরাতত্ত্ব সুপ্রিম কাউন্সিলের মহাসচিব মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, আবু কির প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে পানির নিচে কাজ চালিয়ে শতাব্দী ধরে ভূমিকম্প ও ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনে ডুবে থাকা ভবনগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মতে, এই অঞ্চলটি এখনও বহু অজানা রহস্য ধারণ করে আছে, যা “ডুবে যাওয়া মিশর” সভ্যতার নতুন অধ্যায় উন্মোচন করতে পারে।

সূত্র : আল জাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top