হামাস জানিয়েছে, তারা ইসরাইলি-আমেরিকান সেনা এডান আলেকজান্ডারকে মুক্তি দেবে। এই পদক্ষেপ গাজায় যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিতের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ বলে জানায় দলটি।
রবিবার এক বিবৃতিতে হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হাইয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সরাসরি যোগাযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এই আলোচনায় কাতার, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আল-হাইয়া বলেন, হামাস যুদ্ধ থামানোর ও বন্দি বিনিময়ের আলোচনায় প্রস্তুত। তিনি একে একটি চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবেও বর্ণনা করেন।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি এই উদ্যোগে যুক্ত সকল পক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, এটি যুদ্ধ বন্ধ ও জিম্মিদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পথে একটি সদিচ্ছার পদক্ষেপ।
মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর সোমবারের মধ্যেই আলেকজান্ডারকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা সম্ভবত আগামীকাল তাকে তুলে নেব। অনেকেই এই চেষ্টায় যুক্ত ছিলেন।”
উইটকফ বলেন, এই মুক্তির কৃতিত্ব ট্রাম্পের, এবং একে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টের প্রতি শুভেচ্ছা হিসেবে দেখছেন। “এই মুহূর্তটি মূলত ট্রাম্পের কারণেই সম্ভব হয়েছে,” তিনি যোগ করেন। পরিবারটি এই খবরে অত্যন্ত আনন্দিত বলেও জানান তিনি।
হামাস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক ছিল। তারা আলেকজান্ডারের মুক্তিকে যুদ্ধবিরতির দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। এতে সীমান্ত খুলে দেওয়া ও গাজায় ত্রাণ সরবরাহ সহজ হবে বলে আশা করছে তারা।
এডান আলেকজান্ডার ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, হামাসের দক্ষিণ ইসরাইল আক্রমণের সময় তিনি গাজার কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন এবং তখনই আটক হন।
এই ঘোষণা এসেছে ট্রাম্পের আসন্ন মধ্যপ্রাচ্য সফরের আগে। যদিও তার ইসরাইল সফরের কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে আলেকজান্ডার ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের “সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের” তালিকায়, বলে জানান উইটকফ।
হামাস বলেছে, ভবিষ্যতের যেকোনো চুক্তিতে তারা গাজা শাসনে একটি স্বাধীন ও পেশাদার সংস্থা প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। তাদের লক্ষ্য—দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, পুনর্গঠন ও ইসরাইলি অবরোধের অবসান।
২ মার্চ থেকে ইসরাইল গাজায় পূর্ণ অবরোধ জারি করেছে। ফলে খাদ্য, পানি ও ওষুধসহ সব ধরনের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। যুদ্ধবিরতির সময় মজুদ করা খাদ্যও প্রায় শেষ।
১৮ মার্চ থেকে ইসরাইল আবার সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে জানুয়ারির যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে যায়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বোমাবর্ষণে ১৯ জন নিহত ও ৮১ জন আহত হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছেন ৫২,৮২৯ জন। আহত হয়েছেন ১,১৯,৫৫৪ জন।




