গাজা সিটি, ইসরাইল, গাজা, জাতিসংঘ

যুদ্ধ বন্ধে বিস্তৃত চুক্তি সম্ভব, কিন্তু নেতানিয়াহু বাধা দিচ্ছেন : হামাসের সিনিয়র কর্মকর্তা

হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা মাহমুদ মারদাউই বলেছেন, আন্দোলন একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত যার ফলে সব ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি বন্দী মুক্তি পাবে। তবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনায় বাধা সৃষ্টি করছেন এবং যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পরিবর্তে এটিকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছেন।

আল জাজিরা মুবাশ্বিরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মারদাউই অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু মধ্যস্থতাকারী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আসা প্রস্তাবের সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাননি। বরং তিনি সময়ক্ষেপণের উদ্দেশ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।

হামাসের সম্মতি, নেতানিয়াহুর এড়িয়ে চলা

মারদাউই জানান, হামাস কোনো আপত্তি ছাড়াই মিশরীয় ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও সমর্থন করেছে। কিন্তু নেতানিয়াহু তার প্রতিনিধিদলকে আলোচনায় পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং এড়িয়ে যাওয়ার নীতি অব্যাহত রেখেছেন।

তিনি বলেন, হামাস এমন কোনো সূত্রের বিরোধিতা করে না যেখানে যুদ্ধবিরতি, উভয় পক্ষের বন্দীদের মুক্তি, ত্রাণ ও পুনর্গঠনের নিশ্চয়তা থাকবে এবং তা সম্পূর্ণরূপে ফিলিস্তিনি দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

মারদাউই আরও উল্লেখ করেন, ইসরাইলি চ্যানেল ১০-এর প্রতিবেদনে প্রমাণ রয়েছে যে নেতানিয়াহু অন্তত পাঁচবার চুক্তির প্রচেষ্টা ব্যর্থ করেছেন। এমনকি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও স্বীকার করেছে, নেতানিয়াহু যেকোনো সমঝোতায় বাধা দিচ্ছেন এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার ওপর জোর দিচ্ছেন।

রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে অনাহার

হামাস নেতা অভিযোগ করেন, ইসরাইল গাজায় অনাহার ও বঞ্চনাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে এই নীতি ঘোষণা করেছেন।

তার ভাষায়, “দখলদারিত্ব ত্রাণ কনভয়ের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে এবং তাদের বিতরণে বাধা দিচ্ছে। একইসঙ্গে ‘গাজা মানবিক সংস্থা’ নামে একটি সংগঠন গঠন করেছে, যা আসলে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন, যারা সাহায্যের জন্য নিরীহ মানুষকে হত্যা করে।”

গাজায় দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়েছে

মারদাউই অভিযোগ করেন, ইসরাইল খাদ্য ভাণ্ডার, জলের কূপ এবং জলাধারে বোমা বর্ষণ করেছে। সামান্য সাহায্য গ্রহণের জন্য জড়ো হওয়া বেসামরিক মানুষদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর ফলে মানবিক বিপর্যয় আরও তীব্র হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে গাজায় দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এটি দখলদার ইসরাইলের পূর্ণ নিন্দা, যারা রাজনৈতিক ছাড় আদায়ের জন্য ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান

হামাস নেতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কেবল প্রতিবেদন বা শ্রেণীবিভাগে সীমাবদ্ধ না থেকে, জরুরি বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্ব এখন তার মানবতা ও সভ্যতার বাস্তব পরীক্ষার মুখোমুখি। গাজায় যা ঘটছে তা দখলদারির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মোকাবেলা করতে হবে।

মারদাউই আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে নেতানিয়াহুর নীতিগুলো ধামাচাপা দেওয়া বন্ধ করতে এবং তার ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে।

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের বার্তা

মারদাউই জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গণহত্যা ও অনাহারের নীতি বন্ধ করতে যেকোনো জায়গায় যেতে এবং সব বাধা অতিক্রম করতে প্রস্তুত। তবে এটি এমন কাঠামোর মধ্যেই হবে যা ফিলিস্তিনি জনগণের মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষণ করে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “একটি বিস্তৃত চুক্তি সম্ভব, কিন্তু এতে বাধা সৃষ্টিকারী হচ্ছেন নেতানিয়াহু। কারণ তিনি তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান।”

সূত্র : আল জাজিরা মুবাশ্বির

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top