বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ একটি সামুদ্রিক মাছ, যা ডিম পাড়ার জন্য নদী ও সাগরে আসে। এটি শুধুমাত্র স্বাদের জন্যই নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিকের মতে, ইলিশে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ক্যালসিয়ামসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। এই উপাদানগুলো হার্ট ও মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
অন্য পুষ্টিবিদ শম্পা চক্রবর্তী বলেন, ইলিশে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ খুব কম থাকায় এটি হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো। পাশাপাশি প্রচুর ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় ট্রাইগ্লিসারয়েড ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে এবং বয়সকালে ডিমেনশিয়া ও অ্যালঝেইমারের মতো অসুখের ঝুঁকি কমে। শিশুর মস্তিষ্ক গঠনে ইলিশের ডিএইচএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইলিশে মেলে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম, যা হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক। ভালো মানের প্রোটিন পেশি সবল রাখে এবং ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে। এছাড়া মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এটি সহায়ক।
তবে ইলিশ মাছ সব্বোর্চ্চ সবার জন্যই উপকারী নয়। শম্পা চক্রবর্তী বলেন, এতে থাকা ফ্যাটের কারণে দৈনন্দিনভাবে অতিরিক্ত ইলিশ খাওয়া উচিৎ নয়। বরং সপ্তাহে এক বা দুদিন ১–২ পিস ইলিশ খাওয়া স্বাস্থ্যকর। লিভার, কিডনি বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইলিশ খাওয়া উচিত নয়। যারা ফ্যাটজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলছেন বা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রেও ইলিশ খাওয়া সীমিত করা প্রয়োজন।
সংক্ষেপে, ইলিশ মাছ হার্ট, মস্তিষ্ক, হাড় ও দৃষ্টিশক্তির জন্য উপকারী হলেও, এটি সব্বোর্চ্চ পরিমাণে খাওয়া সবার জন্য নিরাপদ নয়; স্বাস্থ্যকর মাত্রা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খাওয়া জরুরি।




