মুজাদ্দিদে আলফে সানি, রাজনীতিতে ইসলাম,

রাজনীতিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় মুজাদ্দিদে আলফে সানির কর্মপন্থা

মাহদি হাসান
উপমহাদেশের রাজনীতি ও ক্ষমতায়নের ইতিহাসে সবচেয়ে কার্যকরী নীতি ও কর্মপন্থা ছিল মুজাদ্দিদে আলফে সানি রাহিমাহুল্লাহুর কর্মপন্থা। ইমাম সিরহিন্দি রহ. রাজনীতিকে দেখতেনআধ্যাত্মিক দায়িত্ব হিসেবে। ক্ষমতা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে নয়। তিনি মনে করতেন, ইসলামী রাজনীতি মানে হলো সমাজকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে সঠিক পথে পরিচালনা করা। তাই তিনি ক্ষমতায় যাওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে তিনি রাজনীতিতে অংশ নেননি। বরং রাজনীতির প্রভাববলয়ে থেকে আখলাক ও ঈমানের পুনর্গঠন করতে চেয়েছিলেন।
ইতিহাস সাক্ষী, তার এই কর্মপন্থা সাফল্য লাভ করেছিল। দীনে এলাহী দিয়ে আকবর এই দেশের মুসলিম সমাজের যে ক্ষতি করার চেষ্টা করেছিল, তা মুজাদ্দিদে আলফে সানি রাহিমাহুল্লাহুর এই কর্মপন্থার কারণে সফল হয়নি। তিনি রাজদরবারের প্রভাবশালী কজন মন্ত্রীকে নিজের অনুগত বানিয়েছিলেন। একপর্যায়ে সম্রাট জাহাঙ্গীর এবং শাহজাহানও তার ভক্তে পরিণত হন। সম্রাট জাহাঙ্গীর প্রথম জীবনে তাকে কারাগারে পাঠালেও, পরবর্তী সময়ে পরিণত হয়েছিলেন তার একান্ত অনুগত ভক্তে। এই প্রভাব দিয়েই তিনি দীর্ঘ একটা সময় উপমহাদেশের রাজনীতিকে ইসলাম ও শরিয়াহমুখী অবস্থানে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
তবে দুঃখজনকভাবে ব্রিটিশ উপনিবেশকালে এবং উপনিবেশউত্তর সময়ে উপমহাদেশে মুসলিমদের ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ায় এই পদ্ধতি কার্যকর হতে পারেনি। এই সময়ে উলামায়ে কেরাম ক্ষমতামুখী রাজনীতি শুরু করেন। এক্ষেত্রে তাদের সফলতা খুব কম।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুজাদ্দিদে আলফে সানি রাহিমাহুল্লাহুর নীতিই হতে পারে সবচেয়ে ফলপ্রসূ। তবে দুঃখজনকভাবে রাজনৈতিক আলেম সমাজের বর্তমান অবস্থান আকবরের দরবারের সেই আলেমদের মতো, যাদের প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে তিনি দীনে এলাহী প্রবর্তনের পথে পা বাড়িয়েছিলেন।

লেখক : লেখক ও সম্পাদক

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top