রিদওয়ান হাসান
চব্বিশ-উত্তর সময়ে বাংলাদেশে দেওবন্দি ধারার অন্যতম উত্তরসূরী জমিয়ত বেশ কয়েকটা ভালো মুভ দিয়েছে। সবচেয়ে গ্রেটার মুভ হলো, এই মুহূর্তে তারা নীতির রাজনীতিটাই করছে, যেটা পলিটিক্যাল ইসলামের জন্য ইতিবাচক বার্তা।
কিন্তু ভুলটা হচ্ছে, তারা নীতির মানদণ্ড নির্ধারণ করতে পারছে না। ইসলামের নামে ভুল করা দলটির সঙ্গে যে নীতির আলোকে কৌশলগত জোট করা যাচ্ছে না, ঠিক সেই নীতির আলোকে বিএনপির সঙ্গে কৌশলগত জোট তাদের নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং অস্পষ্ট করে তুলছে।
‘ধর্মীয় শত্রু’ নির্ধারণ হয় আকীদা, ফিকহ বা মতাদর্শের বিশ্লেষণ থেকে। এটা উলামায়ে কেরাম, গবেষক, একাডেমিকরা করবেন। এখানে কোনো রাজনীতির কৌশল বা আপস থাকে না। দেওবন্দি ধারার সবচেয়ে বড় সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সংসদীয় রাজনীতি করে না ঠিক এ কারণেই। তারা ধর্মীয় শত্রুকে একাডেমিক ডিসকোর্স ও দাওয়াহর মাধ্যমে চিহ্নিত করতে চায়। যখন তারা বুঝতে পারল, পলিটিক্যাল ডিসপ্লেতে এসব ডিসকোর্স কেবল অন্যের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি তৈরি করে, তখন তারা পার্লামেন্টারি পলিটিক্স ছেড়ে মুসলিম চিন্তার প্রভাবক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘ধর্মীয় শত্রু’র বিপরীতে ‘রাজনৈতিক শত্রু’ নির্ধারণ করাটা পুরোপুরি পলিটিক্যাল। কারণ, এটা প্রতিটা দলের পলিটিক্যাল ডিসকোর্স ও বাস্তব রাজনীতির অপরিহার্য অংশ। এখানে কৌশল ও পরিস্থিতি বদলালে সিদ্ধান্তেও পরিবর্তন আনতে হয়, যা সব সময় ক্ষমতার ভারসাম্য ও জনসমর্থনের ওপর নির্ভর করে চলে।
যেখানে ইসলামি মতাদর্শের প্রশ্নে আপনি ইসলামকে গ্রেটার আমব্রেলা বলছেন, অর্থাৎ ইসলামের পরিপন্থী কিছু না হওয়াকে ইসলামের গ্রেটার ফলোয়ার বেস ভাবছেন, সেখানে বাস্তব রাজনীতিতে আপনার কৌশল থাকতে হবে আয়নার মতো স্বচ্ছ। কৌশলের জায়গা অস্পষ্ট রাখলে গ্রেটার অডিয়েন্স বিভ্রান্ত হবে, এটাই স্বাভাবিক। তখন আপনি নিজেই নিজের বিপদকে টেনে আনছেন। কারণ, এখানেও নীতির চাইতে ক্ষমতা প্রাধান্য পাচ্ছে।
মোদ্দাকথা, ভুল সব সময় ভুল। যারা ভুল শরিয়াহকে প্রমোট করে আর যারা শরিয়াহতে বিশ্বাস রাখে না। উভয়ের মধ্যে নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করা জরুরি। যদি কৌশলগত জোট উদ্দেশ্য হয়, তখন বিএনপিকে আনুকুল্য দেওয়া জমিয়তের জন্য বড় ধরনের ইজতেহাদি খতা। অন্তত হেফাজত এক্ষেত্রে পার্লামেন্টারি পলিটিক্সের বাইরে চিন্তা করাটা উচিত ছিল। উচিত ছিল হেফাজতের আনুকুল্য নিয়েই সব দলকে পলিটিক্যাল ইসলামের বয়ান এস্টাবলিস্ট করা, কিন্তু এখন হেফাজতই ওয়াজাআশ শাঈ ফি গাইরি মাহল্লিহির উদাহরণটা তৈরি করল।
যাই হোক, নীতি আর কৌশলের মানদণ্ড নির্ধারণ না করতে পারলে এ ধরনের পলিসি-প্রিন্সিপাল গ্যাপ সৃষ্টি হয়। এতে বিএনপির ক্ষতি না হলেও জমিয়তের রাজনীতি খেয়ে দিবে, নিশ্চিত। এখন হেফাজত এক্ষেত্রে কতটুকু নিরাপদ, বালক মনে প্রশ্ন জাগে?
লেখক : কেন্দ্রীয় সদস্য, আপ বাংলাদেশ




