আত্মপরিচয়ের সংকট

রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার কতটুকু যৌক্তিক?

ইবনুল কালাম 

রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ঠিক কিনা? বিভিন্ন মহল থেকে এই প্রশ্নটি তোলা হয়। তারা নেগেটিভভাবেই এই আপত্তিটি তুলে থাকে। এতে ইসলামপন্থী বিভিন্ন অ্যাক্টিভিস্ট ঘাবড়ে যান। কিন্তু বিষয়টি আসলে ঘাবড়াবার মতো নয়। খোলাসা করেই বলি, তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে।

ইসলাম একটি আদর্শের নাম। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। রাজনীতিতেও আছে তার বিশেষ স্বকীয়তা। সুতরাং যারা ইসলামপন্থাকে সামনে নিয়ে রাজনীতি করবে, স্বভাবতই তারা ওই বিশেষ নির্দেশনা সামনে আনবে।

উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। যেমন, উলামায়ে কেরাম মনে করেন, ভোট একটি আমানত। সুতরাং যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দিতে হবে। এর অর্থ হলো, একজন মুসলিম হিসেবে ভোটারকেকে অবশ্যই এমন প্রার্থী বাছাই করতে হবে, যিনি ইসলামের জন্য উপকারী। যারা ইসলামের জন্য ক্ষতিকর, তাদেরকে তো ভোট দেয়ার সুযোগ নেই।

এখন কোনো ইসলামপন্থী দল যদি একজন মুসলিমকে ইসলামের জন্য ক্ষতিকর দলকে ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকতে বলে, তাহলে এটি বলতেই পারে। এতে আপত্তির তো কিছু নেই।

এখন ইসলামের এই নির্দেশনার প্রতি মানুষকে যখন উদ্বুদ্ধ করা হয়, তখন যদি রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বলে খই ফোটান, এটি গ্রহণযোগ্য হবে।

এই সেন্টিমেন্ট কেবল ইসলামপন্থীরা ব্যবহার করেন না। যারা ইসলাম ভিন্ন অন্য মতাদর্শ লালন করে, তারাও এটি ফলো করে। একজন বাম কখনো ইসলামী আন্দোলনকে ভোট দেবে না। কারণ, ইসলামী আন্দোলনের ক্ষমতায় যাওয়াটা বামদের জন্য ক্ষতিকর।

একজন বাম যখন বামপন্থা গ্রহণ করে, তখনই সে এই কথা মেনে বামপন্থা গ্রহণ করে যে বামপন্থার জন্য ক্ষতিকর, এমন কোনো প্রার্থীকে তারা গ্রহণ করবে না। এক্ষেত্রে তারা সর্বদা অত্যন্ত দৃঢ় পদক্ষেপে থাকে। এমনকি যদি পুরো দেশ জাহান্নামেও চলে যায়, তাতেও ওই ফ্যাসিস্ট থেকে তাদের সমর্থন সরে না। আওয়ামী ফ্যাসিজমের সময়কাল এর প্রকৃষ্ট দৃষ্ঠান্ত।

তাহলে ইসলাম ভিন্ন অন্য মতাদর্শের লোকজন যেখানে মতাদর্শ গ্রহণ করার সময়েই সেন্টিমেন্টের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে বদ্ধপরিকর থাকে, সেখানে ইসলামপন্থীরা কি ওই সেন্টিমেন্টের প্রতি উদ্বুদ্ধও করতে পারবে না? এটি কেমন কথা। এটি তো স্পষ্ট দ্বি-চারিতা।

সুতরাং কোনো ইসলামপন্থী দল যদি ভোট গ্রহণের জন্য ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট ব্যবহার করে, ইসলামের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দেয়ার প্রত্যয় নিয়ে অগ্রসর হতে চায়, তাহলে স্বভাবতই তারা ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট ব্যবহার করতে পারে। এতে আপত্তির কিছু নেই।

তবে হাঁ, এই সেন্টিমেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই শরীয়াহ নির্দেশিত পথ ও পন্থা অবলম্বন করতে হবে। এর অপব্যবহার করা যাবে না।

যেমন যেসব বক্তব্যকে ঘিরে আপত্তিগুলো উঠছে, ওমুক প্রতীকে ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে, ওমুককে ভোট দিলে রাসূলকে ভোট দেয়া হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি ধরনের বক্তব্যগুলো এড়িয়ে যেতে হবে। এভাবে ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট ব্যবহার করাটা তার মন্দ ব্যবহার।

অন্যথায় ইসলামপন্থী ও মধ্যমপন্থী সবাই মানুষের সেন্টিমেন্ট নিয়েই রাজনীতি করেন। বিভিন্ন মাদরাসা ভ্রমণ, মসজিদে গিয়ে দোয়া চাওয়া, মাজার যিয়ারত করা, ইত্যকার কাজগুলো ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট ব্যবহারের অন্যতম দলীল।

লেখক : আলেম ও সাংবাদিক

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top