রাফায় ‘কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প’ স্থাপনের পরিকল্পনার সমালোচনায় ইসরাইলের দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী

ইসরাইলের দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিড ও এহুদ ওলমার্ট গাজার দক্ষিণে তথাকথিত মানবিক শহর স্থাপনের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা একে ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি ‘কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

লাপিড বলেন, এটি রাজনৈতিক, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক এবং লজিস্টিক দিক থেকে সম্পূর্ণ ‘খারাপ ধারণা’। যদি সেখান থেকে ফিলিস্তিনিদের বের হতে না দেয়া হয়, তবে তা স্পষ্টতই একটি বন্দি শিবির। ওলমার্টও এটিকে ‘জাতিগত নির্মূলের অংশ’ হিসেবে আখ্যা দেন।

ইসরাইলি পরিকল্পনায়, গাজার আল-মাওয়াসির অঞ্চলে ৬ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিকে প্রাথমিকভাবে আশ্রয় দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এটি গাজার দুই মিলিয়নের বেশি জনগণের জন্য স্থায়ী স্থানান্তর কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। ইতোমধ্যে স্যাটেলাইট চিত্রে রাফায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা গেছে।

ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই পরিকল্পনা ‘দ্বিতীয় নাকবা’র দিকে নিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, এটি একটি বিশাল কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প তৈরি করবে এবং ফিলিস্তিনিদের উন্নত ভবিষ্যতের সম্ভাবনা শেষ করে দেবে।

এছাড়া, ইসরাইলি ও মার্কিন-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) গাজা ও সীমান্তে ‘মানবিক ট্রানজিট এলাকা’ তৈরির পরিকল্পনা করেছে।

জিএইচএফ’কে জাতিসঙ্ঘের বিকল্প হিসেবে গাজায় সাহায্য কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে সহায়তা চাওয়া অবস্থায় অন্তত ৮০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো ইসরাইলের চূড়ান্ত লক্ষ্য গাজা জনশূন্য করা এবং ফিলিস্তিনি সমাজকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার ইঙ্গিত দেয়।

সূত্র : আল জাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top