ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের মাধ্যমে সংঘাতের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভিন্ন কৌশল এবং চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, যুদ্ধটি ওয়াশিংটন থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে হলেও, এটি মার্কিন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ও জনগণকে ইউরোপীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে।
প্রথম মাইলফলক : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ – রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করে এবং সীমান্ত পেরিয়ে ব্যাপক বাহিনী পাঠায়, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে বড় ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনা ঘটায়।
দ্বিতীয় মাইলফলক : ২১ ডিসেম্বর ২০২২ – ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির হোয়াইট হাউস সফরে বাইডেন ইউক্রেনের জন্য অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা ঘোষণা করেন।
তৃতীয় মাইলফলক : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ – ইউক্রেন ও ইসরায়েলসহ ৯৫ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সাহায্য প্যাকেজ পাসের প্রচেষ্টা মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে স্থবির হয়ে পড়ে, রিপাবলিকানদের একাংশের ইউক্রেন সহায়তা নিয়ে সন্দেহের কারণে। যদিও দুই মাস পরে প্যাকেজটি পাস হয়, এই ঘটনা ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক বিভাজনের একটি প্রাথমিক সূচক ছিল।
চতুর্থ মাইলফলক : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ – নির্বাচিত হলে যুদ্ধ শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন ট্রাম্প, কিন্তু ইউক্রেনের জয়ের ব্যাপারে মন্তব্য এড়িয়ে যান। এই অবস্থান কিয়েভ ও ন্যাটোতে উদ্বেগ সৃষ্টি করে, কারণ এতে মার্কিন নীতির সম্ভাব্য আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলে।
পঞ্চম মাইলফলক : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ – ওভাল অফিসে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত বৈঠকে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স জেলেনস্কিকে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা ও ন্যাটো মিত্ররা এটিকে কূটনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখেন। ট্রাম্প পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে জেলেনস্কিকে যুক্তরাষ্ট্রকে অপমান করার অভিযোগ তোলেন এবং জানান, শান্তির জন্য প্রস্তুত হলে তিনি ফিরে আসতে পারেন।
ষষ্ঠ মাইলফলক : ২৪ জুন ২০২৫ – হেগে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠক হয়। ট্রাম্প ন্যাটোর প্রশংসা করলেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে উত্তেজনার ইঙ্গিত দেন। তিনি দাবি করেন, পুতিন ইরান ইস্যুতে মার্কিন সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
সপ্তম মাইলফলক : ৮ জুলাই ২০২৫ – মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প পুতিনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন, ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহে সাময়িক স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং অভিযোগ করেন যে রাশিয়া জনগণের সাথে মানবিক আচরণ করে না।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার আলাস্কায় ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে প্রত্যাশিত শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, পুতিন তার সাথে “ঝামেলা” করতে পারবেন না এবং ইউক্রেন সম্পর্কিত যে কোনও চুক্তি শুধুমাত্র এমন ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেই সম্পন্ন হবে যেখানে কিয়েভ অংশ নেবে।
সূত্র : ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল




