রোহিঙ্গা সঙ্কট

রোহিঙ্গা সঙ্কট ও পর্দার আড়ালের বাংলাদেশ

দিপ্র হাসান

সেনা শাসন একটা দেশকে কোথায় নিতে পারে জানেন? মায়ানমারে। সুচি যখন দেশটা শাসন করছিল তখন বছরে কোটির উপর পর্যটক যাইত ওইখানে। ফলে দেশটার বিভিন্ন দিক দিয়া প্রচুর উন্নতি হওয়ার সুযোগ তৈরি হইল। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার চেয়েও বেশি পর্যটক আকর্ষণের উপাদান ছিল তাদের। বাংলাদেশের অনেকেই তখন ভারত বাদ দিয়া মায়ানমার ঘুরতে যাইতে শুরু করল। ভারত আর চীন তখন মাথামোটা সেনা নায়কদের বুঝাইল, আবে দেশ দখল কর। আমরা আছি তোদের সাথে।

সেনাবাহিনী প্রথমেই জাতিগত দাঙ্গা উসকে দিয়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ পাঠায়া দিলো। একদিকে ভারত তার কালাদান প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে থ্রেট দূর করল। অন্যদিকে বাংলাদেশের অনুগত সেনা ও সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশের পক্ষ থিকাও বড় কোনো প্রতিরোধের সম্ভাবনা গুঁড়িয়ে দিলো।

বাংলাদেশের কি হইছে সেই আলাপ পরে করি। মায়ানমার এখন কই আছে দেখেন। যেই দেশটা এতদিনে শুধু পর্যটন দিয়াই তরতর কইরা আগাই যাওয়ার কথা ছিল, তারা এখন একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ। এত প্রাকৃতিক সম্পদ থাকার পরও দেশের যুবকদের সামনে কোনো আশার আলো নাই।

এলা আসি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একটা উদ্যোগ নেয়া হইছিল, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার। একটা ডকুমেন্টারিও বানানো হইছিল। পরে শুনলাম, উদ্যোগ নেয়া ব্যক্তিকে মিশনে পাঠায়া দেয়া হইছে। ধারণকৃত সকল ডাটা একটা সংস্থা নিয়া গেছে। প্রকল্পের সাথে জড়িত এক রোহিঙ্গা যুবককে মাথা আলাদা করে হত্যা করা হইছে, স্ক্রিপ্ট তৈরির সাথে যুক্ত ব্যক্তি রোড এক্সিডেন্টে প্রায় মারা যাচ্ছিল। তার ড্রাইভার নিহত। এরপর আর কোনো উদ্যোগের খবর পাইনি। সম্ভবতঃ নেয়া হয়নি। নেয়া হইলে তার প্রকাশ নিশ্চয়ই হইত।

৫ আগস্টের পর কি বাংলাদেশ আর্মি ভারতীয় কালো ছায়া থেকে মুক্ত হইতে পারছে? না পারে নাই।

হাসিনাকে যেই আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো মদদ দিত তারা শুধু হাসিনাকেই সরাইতে চাইছে। আর কিছু বদলাইতে চায়নি। এই কারণে দেখবেন, শুধু শাসক বদলাইছে আর কিছু বদলায়নি। এমনকি মুজিবও বদলায়নি। রবীন্দ্রনাথের কেশাগ্রও তো কেউ স্পর্শ করতে পারেনি। আর মুক্তিযুদ্ধের ন্যারেটিভ? সে তো ডেলফির মন্দিরের ওরাকল। আদি ও অকৃত্রিম।
সবকিছু বদলানোর জন্য জাতি এখনও প্রস্তুত নয়। সেই প্রস্তুতিই আগামী দিনের বাংলাদেশ। সেই প্রস্তুতির পরই কেবল সেনা ও বিদেশি প্রভুদের চোখে চোখ রেখে কথা বলা যাবে। আপাতত চোখ নিচে।

লেখকের ফেসবুক পোস্ট থেকে গৃহীত

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top