লেবানন তার শরণার্থী শিবিরে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলিকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনা শুরু করেছে, যার সূচনা হয়েছে বৈরুতের বুর্জ আল-বারাজনেহ শিবির থেকে অস্ত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র হস্তান্তর একটি বৃহত্তর নিরস্ত্রীকরণ অভিযানের সূচনা করছে। আগামী সপ্তাহগুলিতে বুর্জ আল-বারাজনেহ এবং দেশব্যাপী অন্যান্য শিবিরগুলিতেও আরও অস্ত্র হস্তান্তর হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
ফাতাহর এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত যে অস্ত্র হস্তান্তর করা হয়েছে তা কেবল আগের দিনে শিবিরে প্রবেশ করা অবৈধ অস্ত্র। টেলিভিশন ফুটেজে শিবিরের ভেতরে সামরিক যানবাহন দেখা গেছে, যদিও রয়টার্স কী ধরণের অস্ত্র সমর্পণ করা হয়েছে তা যাচাই করতে পারেনি।
এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে নভেম্বরে ইসরাইল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে মার্কিন-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির অধীনে লেবাননের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে, যা ছয়টি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে অস্ত্র সীমাবদ্ধ করেছিল। ২৭ নভেম্বর ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে ইসরাইল প্রায়শই সাপ্তাহিক ভিত্তিতে লেবাননে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকার সেনাবাহিনীকে বছরের শেষ নাগাদ রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের অধীনে সমস্ত অস্ত্র একত্রিত করার জন্য একটি কৌশল প্রণয়নের দায়িত্ব দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতে, মে মাসে লেবাননের রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাসের মধ্যে বৈঠকে ফিলিস্তিনি দলগুলিকে নিরস্ত্র করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উভয় নেতা লেবাননের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করেছেন এবং জোর দিয়েছেন যে কেবল রাষ্ট্রেরই অস্ত্র রাখা উচিত। এরপর লেবানন এবং ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা অস্ত্র হস্তান্তরের সময়সীমা ও পদ্ধতি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান।
কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনি দলগুলো লেবাননের ১২টি শরণার্থী শিবিরের ভেতরে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যেগুলো মূলত রাষ্ট্রীয় এখতিয়ারের বাইরে পরিচালিত হয়। সর্বশেষ এই উদ্যোগকে শিবিরের ভেতরে অস্ত্রের উপস্থিতি রোধের জন্য বছরের পর বছর ধরে নেওয়া সবচেয়ে গুরুতর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৯৪৮ সালে ইসরাইল সৃষ্টির পর প্রায় ৭৫০,০০০ ফিলিস্তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর প্রতিরোধ আন্দোলনের উত্থান ঘটে। সেই সময় থেকে ফাতাহ, হামাস এবং পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অফ প্যালেস্টাইন (PFLP) সহ বিভিন্ন গোষ্ঠী ইসরাইলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে লেবাননের শরণার্থী শিবিরগুলোতে ঘাঁটি গড়ে তোলে।
তবে লেবাননে বসবাসরত ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা এখনও মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা অনেক সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করতে পারে না এবং সম্পত্তির মালিকানার অধিকার থেকেও বঞ্চিত। সীমিত সুযোগের কারণে অনেকে সুরক্ষা বা প্রতিনিধিত্বের জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
নিরস্ত্রীকরণের এই পদক্ষেপ এসেছে এমন এক সময়ে যখন হিজবুল্লাহ কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে ইসরাইলি হামলায় এর নেতৃত্বের বেশিরভাগ অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর সংগঠনটি এখন টিকে থাকার লড়াই করছে।
সূত্র : আল জাজিরা




