ইফতেখার জামিল
জিয়াউর রহমান সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি যুক্ত করেছিলেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরেও জিয়াকে অতিক্রম করা গেল না। জিয়া ধরতে পারছিলেন, তিনি প্রিমডার্ন শরিয়াকে পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারবেন না, তার সামনে কোন বাস্তবিক রূপরেখাও ছিল না। জিয়া তৎকালীন আলেমদের সাথেও যোগাযোগ করেছিলেন। বিস্তারিত বিবরণ ঐতিহাসিকভাবে সংরক্ষিত নয়, তবে আলেম সমাজ জিয়াকে সমর্থন করেছিলেন।
উপমহাদেশের আলেমরা ‘শরিয়া রাষ্ট্রের’ বিকল্পও ভেবে রেখেছিলেন—এবং আমার মতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান রাষ্ট্র এখনো আলেম সমাজের ‘রেডলাইন’ অতিক্রম করেনি। আলেমরা বলেছিলেন, আপনারা ইসলামি আইনের বিস্তারিত সব অংশ মানবেন না/মানতে পারবেন না, সেটা ঠিক আছে, তবে সরাসরি কুরআন-হাদিসের স্পষ্ট বিরোধী কিছু করা যাবে না/ করলে মুসলমানদের জন্য বিকল্প রাখতে হবে। অনেকে বলবেন, এই বিষয়টা তো সংবিধানে লিখিত নেই—বাস্তবতা হল, বাংলাদেশে সংবিধানের অনেক ধারার চেয়েও এই বিষয়টি আরও শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠিত।
মূলত এই পয়েন্টে আলেমদের সাথে জামায়াতে ইসলামির শক্ত মতবিরোধ ছিল। এখন আছে কিনা বলতে পারবো না। জামায়াত মনে করতো, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ‘শরিয়া’ ফিরে আসা বাধ্যতামূলক—কোন হাফ সমাধানের সুযোগ নেই। সেজন্য সবাইকেই ‘ইকামাতে দ্বীনের’ উদ্দেশ্যে রাজনীতিতে অংশ নিতে হবে, রাজনৈতিক দলের কাছে ‘বাইয়াতবদ্ধ’ হতে হবে। আলেমরা একইসাথে শরিয়ারাষ্ট্রের কথা কল্পনা করেন, যেটা অনেকটা প্রিমডার্ন সালতানাতের মত—আলেমদের জন্য সালতানাত কমিউনিস্টদের প্যারিস কমিউনের মত ইউটোপিয়া। আবার, আলেম সমাজ একইসাথে বর্তমানেও থাকতে চান, স্ট্যাটাসকো বজায় রাখতে চান—রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অন্তত কুরআন-হাদিসের সরাসরি বিরোধী কিছু না থাকুক। ঠিক এ কারণেই জিয়াউর রহমান তার রাজনৈতিক প্রকল্পে শরিয়াকে ইনক্লুড করেননি।
দিনশেষে, এখন পৃথিবীর সব মুসলিম দল/ইসলামি দল এই পথেই হাটছে। মুশকিল হল, এই মডেলের অপব্যবহারের সুযোগ অনেক। জিয়া-ফখরুলের ভাষা একই, তবে তারা মিন করেন ভিন্ন ভিন্ন বিষয়। এক মডেলের মধ্যে বিপরীতমুখী অনেক বিষয় ঢুকিয়ে দেওয়া গেলে মডেলের কার্যকারিতা কমে যায়। ঠিক একই কারণে, বিএনপিকে ‘ইসলামহীন’ দল বলে দেওয়া যায় খুব সহজেই। কাজেই, এই মডেলের মধ্যে নতুন স্পেসিফিকেশন-আরটিকুলেশন জরুরী। বিএনপি-এনসিপি এই কাজটা করতে পারত। তবে তাদের মধ্যে কি এই আগ্রহটা দেখতে পান?




