গাজা, আরব লীগ

শীর্ষ সম্মেলনে গাজা পুনর্গঠনে তহবিল আহ্বান আরব লীগের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করার পর আরব নেতারা গাজা পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিলের আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার বাগদাদে অনুষ্ঠিত আরব লীগের শীর্ষ সম্মেলনে বলা হয়, গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনার সমর্থনে দেশ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি উদ্বোধনী ভাষণে বলেন, গাজায় চলমান গণহত্যা ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তিনি জানান, ইরাক ‘আরব তহবিল’ গঠনের পক্ষে এবং তাতে গাজার জন্য ২০ মিলিয়ন ডলার ও লেবাননের জন্য আরো ২০ মিলিয়ন ডলার দেবে।

তিনি আরো বলেন, বাগদাদ ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি প্রত্যাখ্যান করে এবং গাজা ও পশ্চিমতীরে হামলা বন্ধের আহ্বান জানায়।

আল-সুদানি বলেন, আমরা গাজাকে বাঁচাতে ও ইউএনআরডব্লিউএ পুনরায় সক্রিয় করতে আরব দেশগুলোর কার্যকরী উদ্যোগ চাই।

এই আলোচনা শুরু হয় ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষের একদিন পর, যা গাজায় যুদ্ধবিরতি ও সাহায্যের আশার সৃষ্টি করেছিল।

‘গাজায় গণহত্যা চলছে’

শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তারা ইসরাইলি আগ্রাসনের তীব্র সমালোচক।

গুতেরেস বলেন, এখনই স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, বন্দীদের মুক্তি এবং অবরোধ শেষ করে মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবাহ প্রয়োজন।

সানচেজ বলেন, ‘গাজা সঙ্কট অবিলম্বে শেষ করতে হবে।’ তিনি জানান, স্পেন ও ফিলিস্তিন মিলে জাতিসঙ্ঘে একটি খসড়া প্রস্তাব আনছে, যেখানে ইসরাইলের অবরোধ তুলে ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হবে।

তিনি আরো বলেন, গাজায় ত্রাণ সরবরাহে ইসরাইলের সম্মতি পরীক্ষা করতে স্পেন সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পেশ করবে। আন্তর্জাতিক আইনের সব পথ ব্যবহার করে ইসরাইলের উপর চাপ বাড়াতে হবে।

মার্চে ইসরাইল যুদ্ধবিরতি বাতিল করে গাজায় নতুন করে হামলা শুরু করে এবং কঠোর অবরোধ আরোপ করে। ফলে লাখো ফিলিস্তিনি অনাহারে পড়েছে।

শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক সভায় ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন বলেন, মার্চে কায়রোয় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনাই ট্রাম্পের বিতর্কিত দখল প্রস্তাবের বিকল্প।

কাতারে সফরকালে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকা গাজা দখল করে এটিকে স্বাধীন অঞ্চল বানাতে চায়। এর আগে তিনি গাজাকে মধ্যপ্রাচ্যের রিভেরা বানানোর ঘোষণায় বিতর্ক তৈরি করেন।

আরব দেশগুলোর পরিকল্পনায় ২.৪ মিলিয়ন ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত না করে গাজা পুনর্গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।

সিরিয়া ও আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা

গাজার পাশাপাশি, সম্মেলনে সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়। ছয় মাস আগে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটি নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছে।

সপ্তাহের শুরুতে রিয়াদে ট্রাম্প সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারারের সাথে সাক্ষাৎ করেন। আল-আসাদকে উৎখাতে তার দল ডিসেম্বরের হামলার নেতৃত্ব দেয়।

ট্রাম্প ঘোষণা করেন, সিরিয়ার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে, যা দামেস্কের জন্য বড় সাফল্য।

আল-শারার অতীতে আল-কায়েদার সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ইরাকে বন্দী ছিলেন। তার সফরের বিরোধিতা করে কিছু প্রভাবশালী ইরাকি রাজনীতিক সম্মেলনে যোগ দেননি। সিরিয়ার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি।

ইরান ইস্যুতে উদ্বেগ

শীর্ষ সম্মেলনটি এমন এক সময় হয়, যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা চলছে। ট্রাম্প কূটনৈতিকভাবে ইসরাইলের হামলার হুমকি ঠেকাতে চাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, একটি চুক্তি কাছাকাছি। তবে শুক্রবার তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে ইরান দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে খারাপ কিছু ঘটবে।

ইরাকের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা

দীর্ঘ অস্থিরতার পর ইরাক স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখাচ্ছে। এই সম্মেলনকে তারা মর্যাদা পুনরুদ্ধারের সুযোগ হিসেবে দেখছে।

আল জাজিরার মাহমুদ আবদেলওয়াহেদ বলেন, ২০১২ সালের পর এই প্রথম ইরাকে শীর্ষ সম্মেলন হচ্ছে। ইরাক এখন আরব বিশ্বে প্রভাব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে।

সূত্র : আল জাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top