মেটা কোম্পানি সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি নতুন ফিচার চালু করেছে, যা বর্তমানে কেবলমাত্র ইসরায়েলের ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত। এই ফিচারের মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী জীবিত থাকতেই তার মৃত্যুর পর কে তার অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করবেন, তা নির্ধারণ করতে পারবেন। এ ব্যবস্থাকে অনেকটা “ডিজিটাল ওসিয়ত” হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নতুন এই ফিচারটির নাম “অ্যাকাউন্ট স্মরণীয়করণ” (Memorialization)। এটি ব্যবহার করে কেউ চাইলে তার মৃত্যুর পরে তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারবেন—চাইলে সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলতেও পারবেন। নির্ধারিত ব্যক্তি অ্যাকাউন্টে লগ ইন করে প্রোফাইল ছবি আপডেট করতে পারবেন এবং পাবলিক কনটেন্টের কপি ডাউনলোড করতে পারবেন। তবে তিনি নতুন কোনো পোস্ট দিতে পারবেন না, বার্তা পাঠাতে বা পড়তেও পারবেন না।
এই আপডেটটি এসেছে একটি নতুন ইসরায়েলি আইনের প্রতিক্রিয়ায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে ব্যবহারকারীর মৃত্যুর পর তার ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবস্থাপনার বিধান করতে বাধ্য করে।
ইনস্টাগ্রামের এই ফিচারের পাশাপাশি ফেসবুক ব্যবহারকারীরাও ইসরায়েলে সাম্প্রতিক সময়ে নোটিফিকেশন পেয়েছেন, যেখানে মৃত্যুর পর তাদের অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনার জন্য কাউকে নিযুক্ত করার সুযোগের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রযুক্তি পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফিচার কেবলমাত্র ইসরায়েলে চালু হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ফেসবুকে দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি ফিচার বৈশ্বিকভাবে চালু রয়েছে, অথচ ইনস্টাগ্রামে এটি এখনো ইসরায়েলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এতে করে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক পক্ষপাত এবং “ব্যক্তিগত” ও সংবেদনশীল সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অঞ্চলভিত্তিক বাছাই নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই ফিচার চালু হলে সংশ্লিষ্ট প্রোফাইলে “Remembering” বা “نتذكّر” (আমরা স্মরণ করছি) লেখা দেখা যাবে ব্যবহারকারীর নামের পাশে, এবং এটি তার পরিবার ও বন্ধুদের জন্য একটি স্মরণীয় ডিজিটাল জায়গায় পরিণত হবে। ব্যবহারকারী চাইলে মৃত্যুর আগে তার অ্যাকাউন্ট চিরতরে মুছে ফেলার অনুরোধও রাখতে পারবেন।
সূত্র : আল জাজিরা




