চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলেও তার দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র থামেনি। নয়া দিগন্তের প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনা ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের বৈঠক তারই প্রমাণ বহন করছে। ভারতের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এবং বৈঠকের তত্ত্বাবধান যে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় হয়েছে, তা অনুমান করা কঠিন নয়। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, ভারত বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন নিজেদের স্বার্থের বিরুদ্ধে মনে করছে। তাই দেশবিরোধী কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই বৈঠকে এস আলম শেখ হাসিনাকে বিপুল অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে। দেশের ব্যাংক লুট ও জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার করে এখন সেটিই আবার জাতীয় অস্থিরতা সৃষ্টিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ অর্থ ব্যয় করার জন্য যে খাতগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে- আন্তর্জাতিক লবি, নাশকতা সৃষ্টি, আমলাদের প্রভাবিত করা, আওয়ামী নেতাকর্মীদের জামিন নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের ব্যবহার করে আন্দোলন গড়ে তোলা— এগুলো সরাসরি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ হুমকি।
এই অর্থ ব্যবস্থাপনায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের সম্পৃক্ততা শুধু রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক অশনি সংকেত। বিদেশে পালিয়ে থাকা এক পতিত স্বৈরশাসক ও বিতর্কিত ব্যবসায়ীর এ ধরনের আঁতাত দেশকে ফের গভীর সঙ্কটে ঠেলে দিতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত এখনই গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো এবং এসব দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। দেশের জনগণও এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। কারণ এটি কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়; দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় সব ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির সমন্বিত ভূমিকা এখন অপরিহার্য।
আজকের বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যে ষড়যন্ত্র চলছে, তা প্রতিহত করা। জনগণের অর্থ লুণ্ঠন করে ফের জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার এই ধৃষ্টতাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেয়া যায় না। এখন সময় এসেছে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশবিরোধী অপশক্তিকে প্রতিহত করার।




