হিজাবি, হিজাব, নন-হিজাবি, হিজাবি বোন, পর্দা

সংসারে নারীর ভূমিকা কী

কেন মুসলিমরাই স্ত্রী এবং মা হিসেবে একজন নারীর ভূমিকাকে মূল্যায়ন করে? গৃহিণী হওয়া এবং ঘর- সংসার করা মায়েদের কেন তথাকথিত আধুনিক নারীরা অবজ্ঞার চোখে দেখে? কারণ, তারা আসলে জানেই না সংসারে একজন স্ত্রী বা মায়ের ভূমিকা কী!

এটা তো আমরা সবাই বুঝি যে, কোনো একটা নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য আমাদের সে কাজের ব্যাপারে ধারণা থাকা চাই। সেই কাজের প্রশিক্ষণ থাকা চাই। আমরা তাই নিয়ে পড়াশোনা করি এবং অনুশীলন করি। আমরা সে কাজে দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করি।

ডাক্তার হতে হলে আমরা মেডিকেলে পড়ি। আইনজীবী হতে হলে আইন বিভাগে পড়ি। শিক্ষক হতে চাইলে আমরা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাই। এখন, একজন গৃহিণী এবং মা হতে হলে আমরা কোথায় গিয়ে প্রশিক্ষণ নিব?

স্বাচ্ছন্দে নিবিড়ভাবে সংসার গড়ে তুলতে হলে কী করতে হয়? সংসার ব্যবস্থাপনার কাজ কীভাবে করতে হয়? সবচেয়ে ভালো ও উপযোগী উপায় কোনগুলো হবে? কীভাবে রুটিন করলে নিজের কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সবচেয়ে প্রোডাক্টিভ থাকা যাবে? সংসারের বিভিন্ন কাজে কী কী উপায়ে সবচেয়ে সফল আউটপুট পাওয়া সম্ভব?

ছোটবেলায় আমরা বেশিরভাগই দিনের বেলা স্কুল-কলেজে থাকতাম। সকাল ৭ টায় হয়তো বেরিয়ে যেতাম, ফিরতে ফিরতে বিকাল ৩-৪ টা ৷ অনেকটা সময় বাইরে থাকাতে আমাদের গৃহিণী মায়েরা বাসায় সারাদিন কি কাজ করছে তা দেখার সুযোগ আমাদের হতো না। আমরা জানি না তাদের দিনের রুটিন কীরকম ছিল।

যেহেতু আমাদের নিজের চোখে তা দেখার সুযোগ হয়নি, আমরা অনেকে ধরেই নিয়েছি মায়েদের বাসায় কোনো কাজ থাকেনা। সে হয়তো সারাদিন ঘরে বসে থাকে বা লম্বা একটা ঘুম দেয়৷ সংসার হয়তো এমনিতেই চলতে থাকে! সবকিছু যেন একাই হয়ে যায়! অন্ধের কাছে যেমন দিন রাত সমান অবস্থাটা তেমন৷

স্কুল কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে এরপর যখন আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠি তখন মনের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন উঁকি দেয়। আমার ক্যারিয়ার কী হওয়া উচিত? নিজের সময়, শক্তি, বুদ্ধিমত্তা কিসের পেছনে ব্যয় করা উচিত? আমি কি গৃহিণী হবো? মা হওয়ার পর কি আমি বাসাতেই থাকবো?
বাসায় বসে সারাদিন আমি কীই বা করবো?
মনে কোনো উত্তর আসেনা।
আধুনিক সময়ের অনেক মেয়েই এর উত্তর জানেনা। আর যা নিয়ে আমরা কিছু জানি না, তার প্রতি আমাদের কোনো সম্মান থাকবে না – এটাই স্বাভাবিক।

নিউ জার্সিতে থাকতে যখন আমি মিডল স্কুলে ছিলাম একটা সেমিস্টারে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কোর্স ছিল। কোর্সে মিসেস ওয়েন্টওয়ার্থ যা শিখিয়েছিলেন তার কিছু এখনো মনে আছে। যেমন: বোতাম সেলাই করা, সিনামোন রোল বানানো, শার্ট ইস্ত্রি করা ৷ তখন আমার বয়স ছিল ১২ কি ১৩৷ আমার মনে আছে ক্লাসগুলো করতে আমার অনেক ভাল লাগতো ৷ ক্লাসগুলোতে আমরা বাস্তবমুখী শিক্ষা পেতাম।

এখন বেশিরভাগ আমেরিকান স্কুলের কারিকুলামে গার্হস্থ্য অর্থনীতির কোর্স নেই। ঘরবাড়ি গুছিয়ে রাখার নূন্যতম ধারণা, রান্নার প্রাথমিক ধারণা, গৃহের পরিচ্ছন্নতা, ঘরের প্রয়োজনীয় কিছু বানানো বা মেরামত করা – এসব শেখানোর কোনো ব্যবস্থা স্কুলে নেই।

এই প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা না আমরা বাসায় মায়েদের কাজ দেখে শিখতে পারছি, না আমাদের স্কুলে তা শেখানো হচ্ছে। তার উপর নারীবাদী প্রোপাগাণ্ডার শিকার হয়ে আমাদের মাথায় ঢুকে গেছে যে, বিয়ে করে আমরা কেবল স্বামীর দাস হয়ে যাই। এর চেয়ে অপমানের নাকি আর কিছু নেই! তাই আধুনিক যুগের কোনো নারী বিয়ের পর শুধু ঘর সংসার করার কথা চিন্তাও করতে পারেনা।

এভাবে সংসারের খুঁটিনাটি নিয়ে জ্ঞানের অভাবে আমরা সুন্দরভাবে সংসার পরিচালনায় চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছি। সংসারে একজন স্ত্রী এবং মায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে আমরা তীব্রভাবে অবমূল্যায়ন করছি এবং অনেকাংশে পুরোপুরি অস্বীকার করে বসে আছি!

তবে কী এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা?
عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: “أَلَا كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، فَالْأَمِيرُ الَّذِي عَلَى النَّاسِ رَاعٍ، وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ، وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْهُمْ، وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ عَلَى بَيْتِ بَعْلِهَا وَوَلَدِهِ، وَهِيَ مَسْئُولَةٌ عَنْهُمْ…”
আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেনঃ
“জেনে রেখো! তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল; আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব ইমাম, যিনি জনগণের দায়িত্বশীল, তিনি তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। পুরুষ গৃহকর্তা তার পরিবারের দায়িত্বশীল; সে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। নারী তার স্বামীর পরিবার, সন্তান-সন্ততির উপর দায়িত্বশীল, সে এসব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।……”
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭১৩৮, মুসলিম ১৮২৯)

একজন গৃহিণীর প্রধান দায়িত্ব তার স্বামী, সন্তান এবং ঘরকে কেন্দ্র করে ৷

এই ভূমিকা পালনের সাথে জড়িত থাকে কঠোর দায়িত্বশীলতা, বুদ্ধিমত্তা, যেকোনো পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষমতা (Adaptability), সৃজনশীলতা এবং শৃঙ্খলা। একজন গৃহিণীকে পরিবারের প্রতি ভালবাসার টানে একেক সময় একেক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়৷ অনেক সময় একাধিক বা সবগুলো ভূমিকা একসাথে পালন করতে হয়৷
সংসারের সুষ্ঠু পরিচালনা শুধু রান্না আর ঘরবাড়ি পরিষ্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না ৷ বলাই বাহুল্য, রান্না ও ঘরবাড়ি পরিষ্কারও ছোট কোনো কাজ নয়, সহজ কোনো কাজ নয়৷

প্রতিদিন পরিবারের সকলের জন্য টেবিলে যে খাবার রাখা থাকে, তা তো আর নিজে থেকে রান্না হয়নি! বাইরে গিয়ে খাওয়া বা অর্ডার করা খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং অনেক খরচেরও ব্যাপার। নৃবিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে, বিভিন্ন সমাজ ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে বেশিরভাগ মানুষের কাছে হাতে তৈরী খাবার ভালবাসা প্রকাশের একটা মাধ্যম ৷ মানুষের স্মৃতিতে আদর মাখানো ঘরের তৈরি খাবার উষ্ণতা আর ভালবাসার প্রতীক হিসেবে স্থান করে নেয়।
একটা বাড়ি পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন ও গুছিয়ে রাখার পেছনে অনেক কাজ করতে হয়। এরজন্য সার্বক্ষনিক তদারকি প্রয়োজন। প্রতিটা রুম সাজানো গুছানোর কাজটা করা দরকার সূক্ষ্মভাবে এবং হওয়া দরকার ইউজার ফ্রেন্ডলি, যাতে পরিবারের সকলের জন্য তা ব্যবহার করা সহজ হয়। কাপড় ধোয়া কাঁচার কাজ আরেকটি জটিল কাজ যেখানে বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হয়৷

প্রতিটা বেলার খাবার, বাজারের লিস্টসহ সংসারের অন্যান্য কাজগুলোও কিন্তু নিজে নিজে সম্পন্ন হয়ে যায় না! এভাবে নারীত্বের পরশ, রুচি, সৌন্দর্য আর ভালবাসায় একটা ঘর হয়ে ওঠে আস্থা ও উষ্ণতার আশ্রয়।

এই প্রাথমিক কাজগুলোর বাইরেও একজন গৃহিণীকে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সকল কাজ করতে হয়৷ একই সাথে একাধিক কাজ সঠিকভাবে করার জন্য তাকে পারদর্শী হতে হয় ৷ একজন গৃহিণীর সংসারের কাজগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে সাজাতে হয়, যাতে প্রতিটা কাজ একটি বরাদ্দকৃত সময়ে সম্পন্ন হয়। ঘড়ির কাঁটার সাথে তাল মিলিয়ে চলে তার কাজ! ব্যাপারটা এমন না যে হঠাৎ করে বাজার করতে চলে গেলাম। বা, যেকোনো একটা সময়ে রান্না করা শুরু করে দিলাম! বা, একবার কাপড় ধুলে কাজ শেষ হয়ে গেল!

একজন গৃহিণী কোনো কাজ এলোমেলোভাবে করে না। সে তার বুদ্ধি-বিবেচনা এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সময়ের সাথে নিজের দক্ষতার সর্বাধিক ব্যবহার করে থাকে। এভাবে সে সংসার এবং গৃহের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখে। কাপড় ধোয়ার জন্য আছে নির্দিষ্ট সময়। ঘরের সাপ্তাহিক/ মাসিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য আছে নির্দিষ্ট সময়। বাজারের জন্য আলাদা সময়। রান্নাবান্নার জন্য আলাদা সময়। বাচ্চাদের খেলনাপাতি গুছানো এবং স্টোরেজের জন্য আছে নির্দিষ্ট সময়৷ প্রতিটা কাজ চক্রাকারে চলতে থাকে৷ বাচ্চাদের কাপড়চোপড় বিভিন্ন আবহাওয়া, রঙ, সাইজ এবং ফেব্রিক অনুযায়ী গুছিয়ে রাখার জন্য আছে নির্দিষ্ট সিস্টেম। উৎকৃষ্ট গৃহ ব্যবস্থাপনার এগুলো কিছু উদাহরণ মাত্র৷
একজন গৃহিণীকে পারিবারিক রুটিন ও বিভিন্ন কর্মসূচির দিনকাল তদারকি করতে হয়। কোনো প্রোগ্রাম একইসাথে পড়ে গেল কি? বাচ্চাদের রুটিনে কী কী কাজ আছে? সে নিজের, তার সন্তানদের এবং স্বামীর বিভিন্ন কাজের সময়সূচি গুছিয়ে দেয়ার তত্ত্বাবধায়ক, হিসাবরক্ষক এবং সমন্বয়কারী।

একজন স্ত্রী তার স্বামীকে অনুপ্রেরণা জোগায়। স্বামীর যত্ন নেয়, আরাম আয়েশের খেয়াল রাখে এবং তার সন্তুষ্টির প্রতি খেয়াল রাখে। তার আছে নারীসুলভ নমনীয়তা, কোমলতা এবং ভালোবাসা। সে তার স্বামীকে যথাযথ সম্মান করে এবং তার অবদানকে যথাযোগ্য মূল্য দেয়৷ দাম্পত্যের মতো একটি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে সে আগ্রহী। সংসারকে স্থিতিশীল রাখতে সে নিবেদিত। একজন স্ত্রী ছোট বড় বিভিন্ন কথা ও কাজের মাধ্যমে স্বামীর কঠোর শ্রম ও আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উপায় খুঁজে বের করে।

একটি সুস্থ স্বাভাবিক সংসারে স্ত্রী তার এ কাজগুলোর প্রতিদান পায়৷ এটি স্বয়ংক্রিয় পারস্পরিক লেনদেনের মতো কাজ করে।

একজন মা তার সন্তানদের বুকে আগলে বড় করে তোলে। সন্তানদের তারবিয়াহ ও তাদের মাঝে ইসলামি মূল্যবোধের বীজ বপন করা মায়ের দায়িত্ব। সন্তানদের চরিত্র গঠনে মা প্রাথমিক ভূমিকা রাখে। মা তার সন্তানদের কাছে নি:শর্ত ভালবাসার দৃষ্টান্ত। বাচ্চারা আঘাত পেলে মা আদর করে দেয়, ভালবাসায় তাদের জড়িয়ে ধরে চুমু দেয়। বাচ্চারা কান্না করলে তাদের চোখের পানি মুছে দেয়। সন্তানদের সাথে মা সৃষ্টিকর্তা আল্লহর পরিচয় করিয়ে দেয়, রাসুলুল্লাহ (সা) এর পরিচয় করিয়ে দেয় আর গভীর ভালবাসায় দ্বীন ইসলামের সৌন্দর্য তাদের সামনে তুলে ধরে। তাদের দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী এবং ন্যায়পরায়ণ হতে শিক্ষা দেয় ৷ তাদের শারীরিক, মানসিক এবং আত্মিক বিকাশে সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করে। মা তার সন্তানদের প্রথম শিক্ষক।

তিনি যদি একজন হোমস্কুলিং মা হন, তবে তিনি তার সন্তানদের এই তারবিয়াহ চালিয়ে যান। এটি পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় রূপ নেয় এবং এর বিষয়বস্তু প্রসারিত হয়। এই শিক্ষা তাদের ইসলামের লেন্সে বিশ্বকে দেখতে সাহায্য করে। আল্লাহর বাণী এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সম্পর্ক উপলব্ধি করতে সাহায্য করে৷ এছাড়াও অংক, বিজ্ঞান, সমাজ, ইতিহাস ইত্যাদি পড়া তো আছেই। একজন মা তার সন্তানদের স্বাভাবিক কৌতূহলকে লালন করেন এবং তা বিকাশের চেষ্টা করেন৷

সংসারকে একটা দুর্গের সাথে তুলনা করলে একজন গৃহিণী হলেন তার ভিত্তি, তার রক্ষক, তার শক্তির একটি উৎস। নারীসুলভ মায়া, কোমলতা ও সৌন্দর্যের অনন্য শক্তিতে একটা সংসার হয়ে ওঠে আবাশযোগ্য উষ্ণ আশ্রয়। পরিবারের প্রত্যেক সদস্য সেখানে নিজেদের বিকাশের সুযোগ পায় এবং স্বস্তি লাভ করে ৷ একজন গৃহিণী আঠার মতো সংসারকে ধরে রাখে।

এখন একটা ব্যাপার পরিষ্কার করে নেয়া প্রয়োজন; এই প্রবন্ধে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সংসারে একজন গৃহিণীর অবদান নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির উল্লেখ করা হচ্ছে না এবং তার নিন্দাও করা হচ্ছে না। এই আলোচনা শুধুই আমাদের জন্য একটা রিমাইন্ডার; আমরা গৃহিণী হওয়াকে যে অবমূল্যায়ন করি তা কতটা ভুল এবং অন্যায়।
অবশ্যই অনেক নারী আছে যারা স্বেচ্ছায় বিয়ে করেনি বা পরিস্থিতির শিকার হয়ে বিয়ে করতে পারেনি। অবশ্যই অনেক নারী আছে যারা বিয়ে করেছে তবে স্বেচ্ছায় বা কোনো কারণে সন্তান ধারণ করেনি ৷ অনেক স্ত্রী এবং মা আছে যারা বিভিন্ন পরিস্থিতির শিকার হয়ে ঘরের বাইরে কাজে ঢুকেছে। বিভিন্ন পরিস্থিতি যেমনঃ বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী অসুস্থ, স্বামী আলাদা থাকে, জীবনযাত্রার উচ্চ মূল্য ইত্যাদি কারণে অনেকের কর্মক্ষেত্রে ঢুকতে হয়েছে ৷ কিছু নারী আছে যারা ঘর সংসার এবং পরিবারকে অগ্রাধিকার দেয়ার পাশাপাশি অনলাইনে বিভিন্ন কোর্স করছে বা অনলাইন উদ্দোক্তা হয়েছে। কেউ হয়তো ঘরে বসে ব্যবসা করার ব্যবস্থা করতে পেরেছে। কেউ হয়ত ঘরে বসে ইসলামি দাওয়াতের কাজ করছে ৷ সন্দেহ নেই, বাস্তব জীবনে এমন অনেক চিত্র আমরা দেখতে পাই।

তবে, আমাদের অবচেতন মনে জন্ম নেয়া কিছু সামাজিক আদর্শ উদ্ভূত ধারণা এবং বিশ্বাসকে গোঁড়া থেকে উপড়ে ফেলা প্রয়োজন। শুধুমাত্র ডিগ্রী নেয়ার খাতিরে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা অর্থহীন। শুধুমাত্র ক্যারিয়ারিস্ট নামধারী হওয়ার জন্য ক্যারিয়ারে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া অর্থহীন। নামের পাশে কয়টা ডিগ্রী যুক্ত হলো বা কত টাকা কামাই করলো দিয়ে নারীর যোগ্যতা যাচাই করা অর্থহীন। একজন স্ত্রী এবং মায়ের গুরুত্ব ও ভূমিকা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হলে আমরা নিজেদেরই ক্ষতি করবো

একজন গৃহিণীকে দাস মনে করা মূর্খের কাজ। তাকে অলস, অযোগ্য, অকর্মণ্য মনে করা অজ্ঞতা। অনেকেই মনে করে গৃহিণীরা ঘরে বসে স্বামীর টাকা উড়ায় আর টিভি সিরিয়াল দেখে। এসবই সামাজিক বাঁধাধরা অসাড় এবং সংকীর্ণ চিন্তার ফসল।

সংসার করা “দাসত্ব” নয়।
সংসার করা “নিচু কাজ” নয়।
সংসার করা “অর্থহীন, বুদ্ধিহীন কাজ” নয়।
সংসার করার অর্থ একটা সংসার পরিপূর্ণভাবে গড়ে তোলা, সংসারকে আগলে রাখা এবং তার বিকাশ সাধন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top