সাহিত্য

সাহিত্য পাঠের বিপদ

ইফতিখার জামিল

বাংলাদেশের প্রচুর কিশোর-কিশোরী এলিট হবার জন্য সাহিত্য পড়েন ও করেন । এই প্রবণতা একসময় তাদের মধ্যে আত্মপরিচয়ের সঙ্কট তৈরি করে। পড়াশোনা ও কর্মজীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। আপনার আশেপাশে তাকালেও এর অনেক দৃষ্টান্ত পাবেন। এই কিশোররা মোটেই ভালো পাঠক নন, পাঠের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন না, বহুল আলোচিত না হলে বা ‘সাহিত্য’ না হলে কোন বই পড়েন না।

এরা পাঠের নামে সাহিত্য-গ্রুপিং, এলিটিজম, ফেসবুকিং ও হতাশা-বিলাস করতেই বেশী পছন্দ করেন। লেখালেখিও হয়তো শুরু করেন। তবে এই রকম সাহিত্যের চেয়ে একাডেমিক লেখালেখি ও রোজনামচা লেখা অনেক ভালো। এদের একাংশ আবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র জাতীয় প্রতিষ্ঠানে যান, কিশোর বয়সের চটুল সময় উপভোগ করতে চেষ্টা করেন, আড্ডা ও ‘সাহিত্য পড়ার’ নেশায় তাদের অনেক সময় নষ্ট হয়। সবাই এক, সেটা বলছি না। তবে মোটাদাগে সাহিত্য-প্রকল্পকে আমার ব্যর্থ প্রজেক্ট মনে হয়।

তারচে একাডেমিক পড়াশোনা অনেক বেশী জরুরী। ‘আউট বই’ পড়তে হলে শুধু সাহিত্য কেন পড়তে হবে? রাজনীতি, ইতিহাস, সমাজ, ধর্ম ও দর্শন ছাড়া খোদ সাহিত্যের বুঝাবুঝিও অপূর্ণ থেকে যায়। দিনশেষে পড়াশোনাটা আত্মকেন্দ্রিক কাজ, আনুপাতিক হারের অতিরিক্ত গ্রুপিং ও আড্ডা আপনার ব্যক্তিগত ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top