সিআইএ-এর মন নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প এমকিউএলটিআরএ

সিআইএ-এর মন নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প এমকিউএলটিআরএ : এক ভয়ঙ্কর ইতিহাস

১৯৪৯ সালে প্রথম প্রকাশিত জর্জ অরওয়েলের ডিস্টোপিয়ান উপন্যাস ১৯৮৪ মানবজাতিকে এক ভয়ঙ্কর কাল্পনিক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। কয়েক দশক পর সেই কাল্পনিক বর্ণনা বাস্তবে রূপ নেয়। কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (সিবিসি) ২০২০ সালে ব্রেন ওয়াশড শিরোনামে একটি পডকাস্ট সিরিজ সম্প্রচার করে, যেখানে কানাডিয়ান সরকারের সহযোগিতায় সিআইএ পরিচালিত এক গোপন প্রোগ্রামের ভয়ঙ্কর বিবরণ প্রকাশিত হয়।

প্রজেক্ট এমকে আল্ট্রা

‘প্রজেক্ট এমকে আল্ট্রা’ নামে পরিচিত এই গোপন প্রকল্প শুরু হয় ১৯৫০-এর দশকে। এর মূল লক্ষ্য ছিল এমন ওষুধ ও কৌশল তৈরি করা যা মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে। গবেষকরা দাবি করেছিলেন, হ্যালুসিনোজেনিক ড্রাগ, ইলেকট্রোশক থেরাপি এবং হিপনোসিস ব্যবহার করে তারা ‘ব্রেনওয়াশ’-এর কার্যকর উপায় উদ্ভাবন করেছেন।

এই প্রোগ্রামে ব্যবহৃত নির্যাতন পদ্ধতিগুলোর সঙ্গে অরওয়েলের ১৯৮৪-এর ভয়াবহ বাস্তবতার অস্বাভাবিক মিল পাওয়া যায়। উপন্যাসের চরিত্র উইনস্টনের মতো শিকারদের মিথ্যা সত্য মেনে নিতে বাধ্য করা হতো। বৈদ্যুতিক শক, ওষুধের ইনজেকশন ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে তাদের ইচ্ছাশক্তি ভেঙে ফেলা হতো। উদ্দেশ্য ছিল কেবল শাস্তি নয়, বরং সম্পূর্ণ মগজ ধোলাই করে তাদের নতুন আদর্শে রূপান্তর করা।

বাস্তব নির্যাতনের পরিসর

এই গোপন ও অনৈতিক প্রোগ্রামের আওতায় শত শত—সম্ভবত হাজার হাজার—মানুষকে পরীক্ষার শিকার হতে হয়। মনোবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, চিকিৎসা ও রসায়নের প্রখ্যাত গবেষকরা এতে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু তারা পেশাগত নৈতিকতা উপেক্ষা করে নির্যাতনের হাতিয়ারে পরিণত হন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে কানাডা ও ব্রিটেন পর্যন্ত এই পরীক্ষা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে কানাডার মন্ট্রিলের অ্যালেন মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউটে আদিবাসী শিশুদের ওপর চালানো হয় ভয়াবহ পরীক্ষা। ইলেকট্রোশক, হ্যালুসিনোজেনিক ড্রাগ ও দীর্ঘমেয়াদি সংবেদনশীল বঞ্চনা তাদের ভঙ্গুর শরীর সহ্য করতে পারেনি। মৃত্যুর পর তাদের অচিহ্নিত কবরে সমাহিত করা হয়।

‘দ্য মাঞ্চুরিয়ান ক্যান্ডিডেট’ ও স্লিপার কিলার

ঠান্ডা যুদ্ধের সময় মন নিয়ন্ত্রণ ছিল উভয় পক্ষের জন্যই এক ধরনের আসক্তি। এর প্রতিফলন দেখা যায় ১৯৬২ সালের থ্রিলার চলচ্চিত্র দ্য মাঞ্চুরিয়ান ক্যান্ডিডেট-এ, যা রিচার্ড কনডনের ১৯৫৯ সালের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত।

চলচ্চিত্রে দেখানো হয় কোরিয়ান ও চীনা বাহিনীর হাতে বন্দী এক মার্কিন সেনার কাহিনি, যাকে নির্যাতন ও হিপনোসিসের মাধ্যমে ‘স্লিপার এজেন্ট’-এ পরিণত করা হয়। তাকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

এটি ছিল সেই সময়কার আমেরিকান ভয়ের প্রতিচ্ছবি। কোরিয়ান যুদ্ধের পর কমিউনিজমের বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়। বহু মার্কিন সেনা বন্দী হয়ে ফিরে আসার পর কমিউনিজমের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠায় ধারণা জন্ম নেয় যে চীন ও তার মিত্ররা রহস্যময় কৌশলে তাদের আনুগত্য বদলে দিচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটেই ‘ব্রেনওয়াশ’ শব্দটির প্রচলন ঘটে। আর সিআইএ-এর এমকে আল্ট্রা প্রকল্প সেই ভয়েরই বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে সামনে আসে।

তাৎক্ষণিকভাবে, সিআইএ মন নিয়ন্ত্রণ গবেষণার জন্য অর্থায়ন শুরু করে, মানুষের মন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম এক মারাত্মক অস্ত্র খুঁজে পাওয়ার আশায়। প্রকল্পের নেতাদের যুক্তি ছিল: ‘যদি চীনের কাছে এমন অস্ত্র থাকে, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও এটি থাকা উচিত।’

আমেরিকায় এলএসডি প্রবর্তন

প্রখ্যাত আমেরিকান মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও রসায়নবিদ সিডনি গটলিবকে সিআইএ নিয়োগ করেছিল মানুষের মস্তিষ্ক ধোলাই করার মতো রাসায়নিক সূত্র খুঁজে বের করার জন্য। তিনি লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথাইলামাইড (এলএসডি) বেছে নেন, বিশ্বাস করে যে এটি মন নিয়ন্ত্রণের উপায় হতে পারে।

এলএসডি প্রথম ১৯৪৩ সালে সুইস রসায়নবিদ অ্যালবার্ট হফম্যান আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি নিজেই এর উপর পরীক্ষা চালান এবং জানান যে এটি মানুষকে স্বপ্নময় এক জগতে নিয়ে যায় যেখানে কল্পনা বাস্তবে রূপ নেয়। এই রাসায়নিক মানুষের চেতনা ও পরিবেশ উপলব্ধিতে রহস্যময় পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

বিশ্বব্যাপী সরবরাহ

১৯৫০-এর দশকের শুরুতে গটলিব সিআইএ-কে ২,৪০,০০০ ডলারে বিশ্বের এলএসডি সরবরাহের চুক্তি করতে বলেন। ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় নিরাপত্তা সংরক্ষণাগার কর্তৃক প্রকাশিত এক নথিতে জানা যায়, আমেরিকান ওষুধ কোম্পানি এলি লিলি এই প্রোগ্রামে সিআইএ-এর সঙ্গে কাজ করেছিল এবং ১৯৫৪ সাল থেকে এলএসডির প্রধান সরবরাহকারী ছিল।

গটলিব বিপুল পরিমাণে ওষুধ হাতে পাওয়ার পর জাপান, ফিলিপাইন ও জার্মানিতে অবস্থিত মার্কিন কারাগার, ছোট গোপন ল্যাব ও আটক কেন্দ্রে বিতরণ শুরু করেন। গবেষক ও বিজ্ঞানীদের নির্দেশ দেওয়া হয় মানব চেতনার উপর এর প্রভাব বিশ্লেষণ করে মন নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি ও ডোজ নির্ধারণ করতে।

এফবিআই-এর সম্পৃক্ততা

১৯৫২ সালের এক নথি অনুযায়ী, এফবিআই-এর নারকোটিক্স ইউনিটের কিছু এজেন্ট সিআইএ-র পরীক্ষার নিরাপদ স্থান নিশ্চিত করেছিল। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন এফবিআই এজেন্ট জর্জ হান্টার হোয়াইট। তিনি নিজেকে বোহেমিয়ান শিল্পী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে তার বাড়িতে প্রলুব্ধ করতেন এবং পার্টির আয়োজন করে তাদের অজান্তে এলএসডি সেবন করাতেন।

মানসিক নির্যাতন ও জিজ্ঞাসাবাদ

এমকিউএলটিআরএ প্রোগ্রামের আওতায় ভুক্তভোগীদের উপর মানসিক নির্যাতনের বিভিন্ন কৌশল পরীক্ষা করা হয়। তাদের ব্যক্তিত্বের বিপরীত আচরণে প্ররোচিত করা হতো এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় তথ্য আদায়ের নতুন কৌশল তৈরি করা হতো। এই উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ও বাইরে গবেষণায় তহবিল সরবরাহের জন্য বৈজ্ঞানিক আবরণ ব্যবহার করা হয়।

মানব ইকোলজি গবেষণা সংস্থা

১৯৫৪ সালে নিউইয়র্কে স্নায়ুবিজ্ঞানী হ্যারল্ড জি. উলফ সোসাইটি ফর রিসার্চ ইন দ্য হিউম্যান ইকোলজি (SIHE) প্রতিষ্ঠা করেন, যা সিআইএ-এর জন্য গোপন তহবিল ফ্রন্ট হিসেবে কাজ করত। গবেষকরা মানব আচরণ নিয়ন্ত্রণ, জোরপূর্বক জিজ্ঞাসাবাদ, নির্যাতন ও মাদকসংক্রান্ত গবেষণার জন্য অনুদান পেতেন। তবে মাঝে মাঝে বৈজ্ঞানিক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে সিআইএ-এর স্বার্থের বাইরে অন্যান্য গবেষণাও অর্থায়ন করত।

এই সংস্থার মাধ্যমে গবেষণা শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবে বিস্তৃত হয় এবং ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত চলতে থাকে। প্রকল্পটির গোপনীয়তার কারণে মোট কতজন শিকার হয়েছিলেন তা অজানা রয়ে যায়। গবেষকরা প্রায়শই গবেষণার একটি সাধারণ সংস্করণ প্রকাশ করলেও একই সঙ্গে গোপন সংস্করণ সিআইএ আর্কাইভে পাঠাতেন।

মানব ‘পরীক্ষাগার ইঁদুর‘

এমকিউএলটিআরএ অসংখ্য শিকার রেখে গেছে। তাদেরই একজন ছিলেন এস্থার শ্রিয়ার, যিনি দ্বিতীয় গর্ভাবস্থায় মানসিক সমস্যার কারণে ১৯৬০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কানাডার মন্ট্রিলের অ্যালান মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন।

তিনি ভেবেছিলেন সাধারণ চিকিৎসা পাবেন, কিন্তু পরিবর্তে তাকে বিপুল পরিমাণে মাদক ইনজেকশন দেওয়া হয়, যার মধ্যে অ্যাম্ফিটামিনও ছিল। থেরাপি সেশনে আলাপের বদলে তাকে দেওয়া হয় মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক শক।

এস্থার শ্রিয়ার ছিলেন স্কটিশ-আমেরিকান চিকিৎসক ডোনাল্ড ইওয়েন ক্যামেরন-এর তত্ত্বাবধানে। ক্যামেরন ছিলেন আমেরিকান ও কানাডিয়ান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত মন্ট্রিলের অ্যালান মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউটের প্রথম পরিচালক।

এমকে আল্ট্রার অমানবিক অধ্যায়

কানাডার মনোচিকিৎসক ইওয়েন ক্যামেরন তার তথাকথিত ‘বিপ্লবী’ চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য একসময় সংবাদপত্রে প্রশংসিত হন। এতে তিনি রোগীদের পরিবারের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি তার রোগীদেরকে সন্দেহজনক গবেষণার গিনিপিগে পরিণত করেছিলেন।

সিআইএ-এর আগ্রহ ও এমকে আল্ট্রা

ক্যামেরনের বৈজ্ঞানিক খ্যাতি সিআইএ-এর নজর কাড়ে। তার গবেষণায় ব্যবহৃত চেতনানাশক ওষুধ, ইলেকট্রোশক থেরাপি এবং সম্মোহন সিআইএ-কে আকৃষ্ট করে। এর ফলেই তাকে গোপন প্রকল্প এমকে আল্ট্রায় যুক্ত করা হয়।

রোগীদের উপর ভয়ঙ্কর পরীক্ষা

ক্যামেরনের কুখ্যাত পদ্ধতিগুলোর একটি ছিল ‘দ্য বেডরুম’, যেখানে রোগীদের মাদক-প্ররোচিত কোমায় রাখা হতো। এস্থার নামের এক নারীকে তিনি টানা ৩০ দিন কোমায় রেখেছিলেন। এই সময়ে তার ওজন ব্যাপকভাবে কমে যায় এবং তিনি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েন যে দাঁড়াতেও সক্ষম হননি।

আরেকটি কৌশল ছিল ‘ডিপ্যাটার্নিং’, যেখানে রোগীদের পরিচয় ও স্মৃতি মুছে দিয়ে নতুন করে মানসিকভাবে প্রোগ্রাম করার চেষ্টা করা হতো। এ জন্য রোগীদের ওষুধ ও বৈদ্যুতিক শকের মাধ্যমে মানসিকভাবে শিশুসম অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হতো। এরপর ঘুমন্ত বা জাগ্রত অবস্থায় প্রতিদিন ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রেকর্ড করা বার্তা শোনানো হতো। রোগীরা অর্ধ মিলিয়ন বার পর্যন্ত এই বার্তাগুলো শুনতে বাধ্য হয়েছিলেন।

ভুক্তভোগীদের করুণ পরিণতি

এই পরীক্ষার ফলে বহু রোগীর জীবন ধ্বংস হয়ে যায়। তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।

রবার্ট লগি নামের মাত্র ১৮ বছরের এক যুবক পায়ের ব্যথা নিয়ে ক্যামেরনের কাছে আসেন। ১৯৫৬ সালের অক্টোবরে অ্যালান মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার পর তাকে প্রচলিত শকের তুলনায় ৭০ থেকে ১০০ গুণ বেশি বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়।

তাকেও হ্যালুসিনোজেনিক ড্রাগ এলএসডি-র উচ্চমাত্রার ডোজ দেওয়া হয়। লগি পরে বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল যেন কেউ আমার পবিত্রতা লঙ্ঘন করেছে এবং আমার মনে প্রবেশ করেছে।’

ইনস্টিটিউট ছাড়ার পরও তিনি ভয়ঙ্কর দৃষ্টি ও মানসিক সমস্যায় ভুগতে থাকেন।

‘ডিপ্যাটার্নিং’-এর ফলে রোগীদের স্মৃতি নষ্ট হয়ে যেত। কেউ নিজের নাম ভুলে যেতেন, কেউ আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি চিনতে পারতেন না। কেউ কেউ মলত্যাগের প্রক্রিয়া ভুলে গিয়ে ডায়াপারের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হতেন। অথচ ক্যামেরনের মতো চিকিৎসকরা এটিকে বৈজ্ঞানিক সাফল্য মনে করতেন, যা ‘মাঞ্চুরিয়ান ক্যান্ডিডেট’ ধারণার ভিত্তি গড়ে দেয়।

প্রকল্পের গোপনীয়তা ও উন্মোচন

প্রথম পর্যায়ে বিজ্ঞানীরা শিকারদের জীবন ধ্বংস করলেও দ্বিতীয় পর্যায়ে—মস্তিষ্ক পুনঃপ্রোগ্রামিংয়ে—তেমন সাফল্য আসেনি।

১৯৭৩ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন সিআইএ পরিচালক রিচার্ড হেলমসকে বরখাস্ত করেন। হেলমস ও সিডনি গটলিব, যারা প্রকল্পের বিস্তারিত জানতেন, তারা পদ ছাড়ার আগে সব নথি ধ্বংস করে দেন।

প্রকল্পটি প্রায় ২০ বছর গোপন থাকে। ১৯৭৪ সালে সাংবাদিক সেমুর হার্শ দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে এক তদন্ত প্রকাশ করলে সত্য প্রকাশ্যে আসে। এতে মার্কিন নাগরিক ও বিদেশিদের উপর ব্রেনওয়াশিং কৌশল প্রয়োগের চেষ্টার কথা উঠে আসে।

তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ

ঘটনাটি জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এরপর ১৯৫৩–১৯৭৩ সালের মধ্যে সিআইএ-এর অপব্যবহার নিয়ে কংগ্রেসে তদন্ত শুরু হয়। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ফ্রাঙ্ক চার্চের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হয়। এর ফলেই ১৯৭৬ সালে এক নির্বাহী আদেশ জারি হয়, যেখানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে কারও অজ্ঞাতসারে মানবদেহে পরীক্ষা চালানো নিষিদ্ধ করা হয়।

সূত্র : আল জাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top