সিনাই উপত্যকা, ইসরাইল, মিশর, গাজা, কায়রো, সিসি, নেতানিয়াহু

সিনাই উপত্যকায় মিশরের বিপুল সেনা মোতায়েন : ইসরাইলের সাথে সমন্বয় না অবিশ্বাসের ইঙ্গিত?

ইসরাইলি ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন এক সেনা মুখপাত্রের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে সিনাইয়ে মিশরীয় সামরিক বাহিনী বা সক্ষমতার প্রবেশ ইসরাইলি সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাথে পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে হয়েছে। এই ব্যবস্থা ১৯৭৯ সালের শান্তি চুক্তির সামরিক সংযোজন অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে, যা মিশর ও ইসরাইলের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

এই নিশ্চয়তা আসে উত্তর সিনাইয়ে মিশরের বড় ধরনের সামরিক শক্তিবৃদ্ধির খবরের প্রেক্ষাপটে। গণমাধ্যম সূত্র জানায়, কায়রো গাজা উপত্যকার সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক ঘাঁটি, রানওয়ে এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণের পাশাপাশি প্রায় ৮৮টি সামরিক ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৪২,০০০ সৈন্য এবং ১,৫০০-এর বেশি ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান।

অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন

কয়েক মাস আগে মিডল ইস্ট আই একজন ঊর্ধ্বতন মিশরীয় সামরিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের উত্তর সিনাইতে ঠেলে দেবে এই আশঙ্কার মধ্যে কায়রো সীমান্তে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে। ওই কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে উত্তর সিনাইয়ে প্রায় ৪০,০০০ সৈন্য রয়েছে, যা শান্তি চুক্তিতে অনুমোদিত সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সরাসরি নির্দেশে এই উচ্চ সতর্কাবস্থা জারি হয়েছে।

মিশরীয় সামরিক কর্মকর্তার দাবি, ইসরাইল গাজায় ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন (হামাস) ভেঙে ফেলতে চায় এবং বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনিকে দেশত্যাগে বাধ্য করতে চায়—যা মিশর প্রত্যাখ্যান করছে।

সিনাইতে অবস্থান

মিশরীয় বাহিনী এখন উত্তর সিনাইয়ের বিভিন্ন অংশে অবস্থান করছে, যার মধ্যে এরিয়া সি—গাজা উপত্যকা সংলগ্ন এলাকাও রয়েছে। মিশর ইসরাইলকে এই শক্তিবৃদ্ধির বিষয়ে অবহিত করেছে। তবে, বাহিনীর আকার এবং কিছু নিষিদ্ধ এলাকায় উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।

মিশরের উদ্বেগ

কায়রো আশঙ্কা করছে, গাজার বাসিন্দাদের সিনাইয়ে ঠেলে দেওয়া হতে পারে, বিশেষ করে গাজায় ইসরাইলি অভিযান এবং ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের আহ্বানের প্রেক্ষাপটে। মিশর স্পষ্ট করে বলেছে, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির যে কোনও প্রচেষ্টা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং এটি লাল রেখা হিসেবে বিবেচিত হবে।

শান্তি চুক্তি ও বর্তমান পরিস্থিতি

ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির অধীনে সিনাইয়ে মিশরের সামরিক মোতায়েন কঠোর তত্ত্বাবধানের আওতায় থাকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানের সময় ইসরাইল কায়রোর অনুরোধে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনে সম্মত হয়েছে।

যদিও ইসরাইলি সেনা কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, সব শক্তিবৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিকভাবে সমন্বিত, তবু ইসরাইলি ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোতায়েনের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এটিকে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে বৃহত্তম মোতায়েন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top