সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরাইলের সাম্প্রতিক বিমান হামলা ও সামরিক হস্তক্ষেপ অভ্যন্তরীণভাবে সিরিয়ার স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন দুই প্রখ্যাত সামরিক বিশ্লেষক।
অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নিদাল আবু জাইদ এবং সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান জৌনি মনে করছেন, ইসরাইল সুইদা গভর্নরেটের সাম্প্রতিক সঙ্ঘাতকে কাজে লাগিয়ে সিরিয়ার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে। এই উত্তেজনা কাজে লাগিয়ে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের মাধ্যমে দেশটিকে দুর্বল ও বিভক্ত করার চেষ্টা করছে, যা পূর্বে তাদের প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছে।
আল-ইখবারিয়া চ্যানেল জানিয়েছে, বুধবার বিকেলে ইসরাইলি বিমান হামলা দামেস্কের কেন্দ্রস্থলে পরিচালিত হয়েছে। ইসরাইলি সম্প্রচার কর্তৃপক্ষ জানায়, সুইদার ঘটনাবলী নিয়ে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে উদ্দেশ করে পাঠানো বার্তায় একটি ইসরাইলি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, সেনাবাহিনী জেনারেল স্টাফ সদর দফতরের প্রবেশপথে অভিযান চালিয়েছে।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ হুমকি দিয়েছেন, যদি সিরিয়ার সরকারি বাহিনী সুইদা থেকে সরে না যায়, তবে সামরিক আক্রমণ অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, ওই অঞ্চলে ড্রুজ ও বেদুইন গোষ্ঠীর মধ্যে সশস্ত্র সঙ্ঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আবু জাইদ বলেন, ইসরাইল পূর্বে উপকূলীয় অঞ্চলে আলাউইট কার্ড এবং রাক্কায় কুর্দি কার্ড ব্যবহার করে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা ড্রুজ কার্ড ব্যবহার করছে, যার মাধ্যমে হিকমত আল-হাজরির মতো প্রতিনিধিদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করা হচ্ছে, যেমনটি কয়েক মাস আগে ঘটেছিল।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার কথা থাকলেও সেই বিচার স্থগিত হয়ে গেছে। এর ফলে তিনি আদালত কক্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহু সিরিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছেন, যদিও মার্কিন পক্ষ তাকে হামলা থেকে বিরত থাকতে বলেছিল।
আবু জাইদ মনে করেন, আজারবাইজানে সিরিয়া ও ইসরাইলের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় এবং সিরিয়া ইসরাইলের দাবি প্রত্যাখ্যান করায় এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
মাজদাল শামস এলাকায় সিরিয়া-ইসরাইল সীমান্তে বেড়া অতিক্রম করে সিরিয়ায় প্রবেশকারী ড্রুজদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভৌগোলিক দূরত্ব সত্ত্বেও ইসরাইল সিরিয়ার ড্রুজদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ইসরাইলি ড্রুজদের বোঝানোর চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করেন, ইসরাইল সম্ভবত দক্ষিণ লেবাননে গঠিত লাহাদ মিলিশিয়ার মতো একটি মডেল অনুসরণ করতে চাইছে। কিন্তু সিরিয়ার ড্রুজরা ঐক্যবদ্ধ নয়। অনেকেই সিরিয়ান রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত।
অন্যদিকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান জৌনি বলেন, ইসরাইলের হস্তক্ষেপ কৌশলগত স্তরে পৌঁছেছে। তা এখন সরাসরি দামেস্কে হামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরাইল সিরিয়াকে সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে বিভক্ত করতে চাইছে এবং দক্ষিণ সিরিয়াসহ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে চাইছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়ায় ইসরাইলের আগ্রাসন শুধু সিরিয়ার অভ্যন্তরেই নয়, গোটা অঞ্চলের জন্যই এক বিপজ্জনক বার্তা বহন করছে।
সূত্র: আল জাজিরা




