সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী শেখ হিকমত আল-হাজরির মিলিশিয়া বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা আরব বেদুইনদের প্রায় ৫০ হাজার যোদ্ধা বৃহস্পতিবার সুইদার দিকে অগ্রসর হয়েছে। তারা মিলিশিয়া গোষ্ঠীটির নৃশংসতা প্রতিরোধে এই মার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
বেদুইন নেতারা এক বিবৃতিতে এই মার্চ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। জার্মান প্রেস এজেন্সি (ডিপিএ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা উপজাতি সম্প্রদায় সুইদা গভর্নরেটে বেদুইনদের বিরুদ্ধে চালানো সন্ত্রাসী আল-হাজরি মিলিশিয়া কর্তৃক সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ, নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের বাস্তুচ্যুতি অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি। আমরা নৈতিক ও উপজাতিগত কর্তব্যের ভিত্তিতে আহ্বান জানাচ্ছি, সিরিয়ার সরকার যেন উপজাতির ভাইদের সমর্থনে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা যোদ্ধাদের চলাচলে বাধা না দেয়।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নেয়া যেকোনো পদক্ষেপ অপরাধীদের প্রতি স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব বলে গণ্য হবে এবং এর পেছনে থাকা সকলকে নৈতিক ও ঐতিহাসিকভাবে গণহত্যার জন্য দায়ী ধরা হবে।’
বিবৃতিতে উপজাতিদের পক্ষ থেকে দৃঢ় অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে বলা হয়েছে, তারা তাদের রক্ষকদের পেছনে ঐক্যবদ্ধ এবং যেকোনো হামলার পাল্টা জবাব দিতেও প্রস্তুত।
সূত্র অনুযায়ী, উপজাতি যোদ্ধারা ইতোমধ্যে সুইদার উত্তর দিক থেকে দামেস্ক সড়কের দিকে অগ্রসর হয়ে মাজরা শহরসহ বেশ কয়েকটি শহর ও গ্রাম দখল করেছে।
উপজাতীয় বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে পূর্ব সিরিয়া, আলেপ্পো এবং এর গ্রামাঞ্চল থেকে আরো হাজার হাজার যোদ্ধা এসে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রটি জানায়, ‘৪১টি উপজাতি ও গোষ্ঠী যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে, যারা সম্মিলিতভাবে সিরিয়ার জনসংখ্যার ৭০ শতাংশের বেশি।’
সিরিয়ার বাইরের আরব উপজাতিদের মধ্য থেকেও সহায়তা আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সূত্র অনুসারে, ‘ইরাক, জর্ডান এবং লেবাননের আরব উপজাতিরা জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ এবং ইরাকের আনবার অঞ্চলের উপজাতি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানোর পর সুইদার দিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
বৃহস্পতিবারের সঙ্ঘর্ষে শেখ হিকমত আল-হাজরির অনুগত দলগুলোর হামলায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে উপজাতীয় সূত্র জানায়। কয়েক হাজার মানুষ তাদের গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং বহু ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সুইদা অঞ্চলে আরেকটি বড় আকারের সামরিক সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেখানে দেশের বৃহৎ উপজাতি গোষ্ঠীগুলো সরাসরি অংশগ্রহণ করছে। সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চল ক্রমেই আরো জটিল ও সহিংস রূপ ধারণ করছে।
সূত্র : আশ শারকুল আওসাত




