গাজা, হামাস, ইসরাইল, গাজার শিক্ষার্থী, গাজার বিধ্বস্ত স্কুল

সীমিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ইসরাইলের, গাজায় বিমান থেকে সাহায্য পাঠানো শুরু

ইসরাইলি সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে যে তারা গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা বিমান থেকে ফেলা শুরু করেছে, এমন এক সময়ে যখন ফিলিস্তিনি নাগরিকরা চরম অনাহারের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে এবং খাদ্যের সন্ধানে ইসরাইলি বাহিনীর হামলার মুখে পড়ছে।

সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, আকাশপথে পাঠানো এই ত্রাণে আটা, চিনি ও টিনজাত খাবারসহ সাতটি পার্সেল অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফিলিস্তিনি সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে গাজার উত্তরাঞ্চলে এ ধরনের ত্রাণ ফেলা শুরু হয়েছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, বিদেশি দেশগুলোর তত্ত্বাবধানে বিমান থেকে সহায়তা পাঠানো শনিবার রাতে আবার শুরু হয়েছে। তারা দাবি করেছে, এটি গাজায় সাহায্য প্রবেশে অনুমতি ও সুবিধার্থে চলমান প্রচেষ্টার অংশ।

ত্রাণ সরবরাহের দায়িত্ব জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর ওপর ছেড়ে দিয়ে ইসরাইল জানিয়েছে, এসব সংস্থার জন্য নিরাপদ করিডোর নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসরাইলের মতে, এই সংস্থাগুলোর দক্ষতা বাড়ানো দরকার, যেন তারা নিশ্চিত করতে পারে যে সাহায্য যেন হামাসের হাতে না পড়ে।

সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গাজায় কোনো দুর্ভিক্ষ নেই এবং একে হামাসের চালানো “ভুল তথ্য প্রচারণা” বলে অভিহিত করেছে। একইসঙ্গে তারা জানিয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে একটি ডিস্যালিনেশন প্লান্ট চালু রাখতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে এবং তারা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মানবিক যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তবে যেখানে “সন্ত্রাসীরা” রয়েছে, সেখানে সামরিক অভিযান চলবে বলেও তারা স্পষ্ট করেছে।

ইসরাইলের চ্যানেল ১২ এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটি সীমিত মানবিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে এবং এটি মূলত উত্তর গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাস্তবায়িত হবে।

এর আগে, জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা UNRWA-এর কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজ্জারিনি বিমান থেকে ত্রাণ সরবরাহকে “মানবিক বিপর্যয়ের বাস্তবতা ঢাকতে একটি ধোঁয়ার পর্দা” বলে মন্তব্য করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এটি দুর্ভিক্ষ বন্ধ করবে না, বরং ক্ষুধার্ত বেসামরিক নাগরিকদের আরও বিপদের মধ্যে ফেলতে পারে।

এই ঘোষণাটি এমন সময় এলো, যখন গাজা উপত্যকায় ত্রাণ প্রবেশে ইসরাইলি বাধার কারণে আন্তর্জাতিক মহল থেকে তীব্র নিন্দা উঠেছে এবং ওই অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ আরও প্রকট হয়েছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গাজায় অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অনাহারে মৃতের সংখ্যা ১২২ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ৮৩ জনই শিশু।

উল্লেখ্য, জর্ডান, মিশর, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি সহ একাধিক দেশ পূর্বে গাজায় বিমান থেকে ত্রাণ সরবরাহ করেছিল। তবে সেই সময়ে ত্রাণ বোঝাই বাক্স পড়ে গিয়ে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছিলেন।

সূত্র : আল জাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top