ইফতেখার জামিল
নারীদের রেপ্রেজেন্টেশন কেবল সেকুলার মডেলেই হতে হবে—এমন মনোভাব শুধু প্রবলেমেটিকই নয়, একইসাথে অনেকক্ষেত্রে ইসলামোফোবিক। আমার বোন- ভাবি-মামি এরা প্রত্যেকে সাপ্তাহিক তা’লিম করেন, এসব তা’লিমে এলাকার অনেক মহিলা উপস্থিত হন—পারিবারিক-সামাজিক বিভিন্ন বিষয়েই তারা কথা বলেন। আত্মীয়তা সত্ত্বেও আমার পক্ষে নারীদের তা’লিমে ঢুকা সম্ভব নয়। এখন, এসব মজলিসকে কি আমরা ‘পুরুষবিদ্বেষী’ বলবো?
যদি পুরুষবিদ্বেষী না হয়, তবে পুরুষরা নারীদের নিয়ে আলোচনা করলে সেখানে নারী প্রতিনিধি থাকা কেন জরুরী? আমাদের নারীরা পুরুষদের নিয়ে কথা বললে সেখানে তো কোন পুরুষ প্রতিনিধি থাকেন না। আমাদের নারীরা যেমন সেকুলার শর্ত মানেন না, পুরুষরাও মানেন না—সিম্পল।
বাংলাদেশে কওমি-জামাত নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর ধর্মীয় সমাজ নারী-পুরুষের ‘অবাধ মিশ্রণ’কে অপছন্দ করেন—আপনি দ্বিমত পোষণ করলে সেটা আপনার/আপনাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। পাবলিক প্লেসে আপনাদের শর্ত মেনেই চলতে হবে, নইলে আপনারা অন্যদের লাইফস্টাইল নিয়ে প্রশ্ন তুলা শুরু করবেন—এই অধিকার আপনাদেরকে কে দিল?
ধরেন, আমার মা-বোন-ভাবি-মামিদের স্পেসে আপনারা যেতে পারবেন না, যেতে চাইবেন না। আমাদের নারীরা পুরুষদেরকে যখন ডেলিগেট হিসেবে নেগোশিয়েট করতে পাঠায়, আপনারা তাদেরকে ক্যান্সেল করলে শুধু যে পুরুষদেরকে ক্যান্সেল করছেন, তা নয়—আপনারা একইসাথে নারীদেরকেও ক্যান্সেল করছেন। ধর্মীয় সমাজের নারী-পুরুষদের সম্পর্কে বিভিন্ন রকমের স্টেরিয়োটাইপ প্রডিউস করছেন। ফলাফল? বসুন্ধরার মতো এলাকায় মেয়েরা হিজাব পরলে তাদেরকে আপনারা ক্লাস থেকে বের করে দিবেন, শিক্ষিকা তাদেরকে ‘জ ঙ্গি’ বলে আখ্যা দিলেন।
আমরা সেকুলার এজেন্টদের সাথে যখন ডায়লগ করি, তখন আমরা কিন্তু নারীদেরকে হিজাব/নিকাব পরে আসতে বলি না। যদি তারা আমার শর্ত মেনেই নেয়, তাহলে তো তারা আর সেকুলার থাকবেন না—ডায়লগটাও হবে না। একইভাবে, যদি আমরা সেকুলার মডেল গ্রহণ করেই ফেলি, তবে তো আমাদের এজেন্সিই অবশিষ্ট থাকে না—সেকুলাররা আমাদেরকে রিপ্লেস করে ফেলতে পারেন। এইভাবে, সেকুলার মডেলিং এর প্রশ্নটা দিনশেষে ইসলামোফোবিয়ায় পরিণত হতে পারে। আপনাদের মনে থাকার কথা—নারী কমিশনের রিপোর্টে ধর্মকে/ধার্মিকদেরকে সিঙ্গেল আউট করে নারীবিরোধী বলা হয়েছিল।




